ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বাংলাদেশ লিস্ট ডিভালপড কান্ট্রি (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে যায়নি, বেরোনোর প্রাথমিক শর্ত পূরণ করেছে মাত্র। এই প্রেক্ষাপটে দেশের সাধারণ জনগণই শুধুমাত্র একটা ধন্যবাদ পেতে পারেন। তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। কেউ কেউ সরকারকেও অভিনন্দন জানাচ্ছেন; এটার তীব্র বিরোধিতা করছি আমি, কারণ এর পেছনে সরকারের কোনো কৃতিত্ব তো নেইই, বরং আমরা পরবর্তীতে দেখবো এই অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দিতে বরং সরকারের ভূমিকা আছে। প্রশ্ন হলো এই যে প্রচণ্ড ঢাকঢোল পিটিয়ে এই ‘অর্জন’ এর উদযাপন করা হলো, সেই অর্জনের সুফল জনগণের কাছে কতোটা পৌঁছছে?

গোয়েবলসীয় প্রপাগ্যান্ডার আরেকটি উদাহরণ এটি। মন্ত্রীরা তো বটেই, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। তবে এবার সরকার খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারেনি। মূল ধারার এবং সামাজিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে এর মধ্যেই অনেকেই জেনে গেছেন হয়তো, বাংলাদেশ আসলে উন্নয়নশীল দেশ হবার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে। জাতিসংঘের ভাষায় – ” Fulfilled eligibility criteria for the first time in 2018″। এই শর্তগুলোর সাথে বাংলাদেশের কমপ্লায়েন্স যাচাই করা হবে এবং তিন বছর ব্যবধানে পরপর দুইবার ২০২১ সালে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করতে পারলেই এলডিসি থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি মিলবে। মানে সব ঠিকঠাক থাকলেও ২০২৪ সালের বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভার আগে এলডিসি থেকে উত্তরণের ঘোষণা আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশ এখনও একটা স্বল্পোন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ নয়। আমাদের কাছের দেশ মালদ্বীপ ২০১১ সালে এলডিসি থেকে অফিসিয়াললি বের হয়েছে। কৌতূহলবশত খুঁজে দেখতে চেয়েছি মালদ্বীপ তখন কী করেছিলো। যে কেউ গুগল করলে দেখবেন, সেই দেশে কিছুই হয়নি এটা নিয়ে। আর অফিসিয়াল স্বীকৃতি দূরে থাকুক, প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জনেই আমাদের সরকার এমন করলো কেন?

আমরা অবিশ্বাস্যভাবে দেখছি একটা সরকার বাংলাদেশের এই ‘অর্জনের’ একক দাবিদার হয়ে উঠেছে। অথচ যেসব সূচকের ভিত্তিতে দেশের এই পরিস্থিতি হয়েছে তা ধাপে ধাপে উন্নত হয়েছে নানা বছরে। জাস্ট একটা উদাহরণ বিষয়টি স্পষ্ট করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। মানব সম্পদ সূচকের বিবেচ্য বিষয়গুলোর একটা হলো ৫ বছরের নীচে শিশু মৃত্যুহার (প্রতি হাজার জীবিত শিশু জন্মের ক্ষেত্রে)। বাংলাদেশের প্রতিটা সরকারের শেষ বছরে এটার পরিস্থিতিটা একটু দেখে নেয়া যাক: ১৯৭৫ – ২১৭, ১৯৮১ – ১৯৪, ১৯৯০ – ১৪৪, ১৯৯৬ – ১০৮, ২০০১ – ৮৩, ২০০৬ – ৬৩, ২০০৮ – ৫৬, ২০১৪ – ৩৯, বর্তমানে ৩৪.২। দেশে যে ফর্মের সরকারই থাকুক না কেন বাংলাদেশের শিশুমৃত্যুহার ধাপে ধাপেই কমেছে। এভাবে প্রতিটি সূচক নিয়ে দেখানো যায়, এগুলো বহু বছরের দীর্ঘ যাত্রার ফল।

অন্যদিকে আমাদের সরকারগুলো বরং সীমাহীন দুর্নীতি যার অদক্ষ অপশাসনের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য অর্জনকে ধ্বংস করেছে, পিছিয়ে দিয়েছে। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা বোঝা যাক। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১২০ ডলার, ভিয়েতনাম সেই জায়গায় যায় (১৩০ ডলার) ১৯৯০ সালে। অথচ বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০১৬ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় যখন ১৩৩০ ডলার তখন ভিয়েতনামের ২১০০ ডলার। এই ক্ষেত্রে ৪৫ বছরে আমাদের দেশের যে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৬ বছরে ভিয়েতনাম অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। তাই কোনো অর্জন বা উন্নতির কৃতিত্ব দাবি না করে সরকারের ওই সময় মাথা নিচু করে থাকাই উচিত।

আমরা এর মধ্যেই জানি, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো – Gross National Income, মাথাপিছু আয় (১২৮০ ডলার এর বেশি), Human Asset index, মানবসম্পদ সূচক (৬৬ বা তার বেশি) এবং Economic Vulnerability Index, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (৩২ বা তার কম)। এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে কমপক্ষে দুইটিতে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। আর মাথাপিছু আয় যদি প্রয়োজনীয় পরিমাণের চাইতে দ্বিগুন (২৪৬০ ডলার) হয়ে যায়, তাহলে শুধুমাত্র এই একটি বিষয় দিয়েই কোনো দেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

মাথাপিছু আয় সম্পর্কে আমরা জানি। অন্য দুইটি বিষয় একটু দেখে নেয়া যাক। মানবসম্পদ সূচক গঠিত হয় দুইটি বিষয়ের ৫ টি সূচককে নিয়ে। এগুলো হলো: স্বাস্থ্য (পাঁচ বছরের নীচে শিশু মৃত্যুহার, অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যার হার, মাতৃ মৃত্যুর হার) এবং শিক্ষা (সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তির হার, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষিতের হার)।

অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক তৈরিতে বিবেচনা করা হয় আটটি বিষয় – জনসংখ্যা; দুর্গমতা (বিশ্ববাজার হতে); রপ্তানি পণ্যের ঘনত্ব; জিডিপি তে কৃষি, বনসম্পদ এবং মৎস সম্পদের অনুপাত; উপকূলীয় নিম্নভূমিতে বসবাসকরি জনসংখ্যার অনুপাত; রপ্তানি পণ্য এবং সেবার অস্থায়িত্ব; প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হওয়া; কৃষি উৎপাদনের অস্থায়িত্ব।

দেখা যাক মাথাপিছু আয়ের ফাঁকি। দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে যে গড় আয় পাওয়া যায়, একটা দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা বোঝার জন্য সেটা খুব স্থূল ব্যবস্থা। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটা খুব ভুল ধারণা দেয় আমাদের। সরকারের বলা ১৬০০-১৭০০ ডলার বাদ দেই, জাতিসংঘের ১২৭৪ ডলার দিয়ে একটা সাধারণ হিসাব করা যাক। একটা পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি ৫ হয় তাহলে এই মাথাপিছু আয় হবার জন্য পরিবারটির মাসিক উপার্জন হতে হবে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। আমাদের চারপাশের কয়জন মানুষের ওই পরিমান আয় আছে?

এই রাষ্ট্রের সরকারগুলোর নীতি তার ১৭ কোটি মানুষের সম্মিলিত আয়কে তুলে দিচ্ছে হাতে গোনা কিছু মানুষের হাতে। হ্যাঁ, এই কারণেই দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে যায়ইনি বরং সাধারণ মানুষের প্রাপ্য আয় গিয়ে ধনীদের হাতে গিয়ে পড়ছে। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই ঘটছে বাংলাদেশে। কিছু পরিসংখ্যান দেয়া যাক। এসবের সূত্র হচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা জরিপ ২০০৫, ২০১০, ২০১৬।

সবচেয়ে দরিদ্র পাঁচ শতাংশের খানা প্রতি আয় (হাউজহোল্ড ইনকাম) ২০০৫ সালে ছিল ১১০৯ টাকা, যা কমে ২০১৬ সালে ৭৩৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে (৩৩% কম)। অন্যদিকে ধনী পাঁচ শতাংশের খানা প্রতি আয় ৩৮ হাজার ৭৯৫ থেকে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকা।

বিদ্যমান মুক্তবাজার ধাঁচের পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈষম্য বৃদ্ধির একটা প্রবণতা আছে। এ ক্ষেত্রে ধনী, দরিদ্র উভয় মানুষদের উপার্জন বাড়ে তবে দরিদ্রের বাড়ার হার ধনীদের বাড়ার হারের চাইতে অনেক কম হয়, তাই বৈষম্য বাড়ে। বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য প্রবণতা হচ্ছে এখানে সমাজের অনগ্রসর অংশের উপার্জন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমানে কমছে!

২০১৬ সালে দেশের মানুষের মোট আয়ের ০.২৩ শতাংশ আসে সবচেয়ে দরিদ্রদের পাঁচ ভাগ থেকে, যা ২০১০ সালে ছিল ০.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে মোট আয়ে সবচেয়ে ধনী পাঁচ শতাংশের অবদান ২৭.৮৯ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ২৪.৬১ শতাংশ ছিল।

ওদিকে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের হার কমছে, যদিও দেশের জিডিপি গ্রোথ এর হার বাড়ছে। ২০০৫ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে সেটি কমে আসে ৩১.৫ শতাংশে। সে হিসাবে ছয় বছরে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৮.৫ শতাংশ। প্রতিবছর দারিদ্র্যের হার কমেছে ১.৭ শতাংশ হারে। আর ২০১১ থেকে ২০১৬ এই সময়ে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৭.২ শতাংশ। প্রতিবছর কমেছে ১.২ শতাংশ হারে।

২০১৬ সময়ে দেশে আয়বৈষম্য পরিমাপক জিনি অনুপাত বেড়ে হয়েছে ০.৪৮৫। ২০১০ সালে এটি ছিল ০.৪৬। এখানে উল্লেখ্য, জিনি অনুপাত যত কম, বৈষম্যও তত কম। এই অনুপাত ০.৫০ মানেই হলো এটা অতি উচ্চ বৈষম্যের দেশ। আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি সেখানে।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবার প্রাথমিক শর্ত পূরণ করার পর কয়েকদিন আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেল আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় নানা গুরুত্বপূর্ন পদে কাজ করা দেশের একজন স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ বৈষম্য বৃদ্ধি নিয়ে দুইটি দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন,উন্নতির প্রাথমিক ধাপে বৈষম্য বৃদ্ধি নাকি অনিবার্য। কিন্তু আমাদের হাতে যথেষ্ট ডেটা আছে, যেটা দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে ভুল প্রমান করা যায়।

খুব দ্রুত উন্নতি করা দেশ ভিয়েতনামে কথায় আবার আসি। ভিয়েতনামের জিনি সূচক ২০০৭ সালে ছিল ০.৩৭, আর ২০১৪ সালে সেটা কমে হয়েছে ৩৪.৮০। আমাদের ঠিক আগে এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া মালদ্বীপের কথাও এখানে উল্লেখ করা যায়। ২০০২ সালে সেখানে জিনি সূচক ছিলো ০.৪১, আর ২০১৫ সালে সেটা ছিল ০.৩৭।

এবার আসা যাক মানব সম্পদ সুচক এর ক্ষেত্রে আমাদের অবিশ্বাস্য ব্যর্থতা (আপনি ঠিক পড়ছেন) নিয়ে আলোচনায়। এই ব্যর্থতা বোঝার জন্য তুলনা করার জন্য নেপালকে বেছে নেই। জাতিসংঘের এলডিসি প্রোফাইলে নেপালের মাথাপিছু আয় দেখানো আছে ৭৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ (বাংলাদেশ ১২৭৪ ডলার)। নেপালের মানব সম্পদ সূচকে স্কোর ৭১.২। আর বাংলাদেশের সেটা সামান্য বেশি – ৭৩.২।

এই সূচকের মধ্যকার কিছু কম্পোনেন্ট এ দুই দেশের তুলনাটা দেখি। নেপালে শিশু মৃত্যুর হার ৩৪.৫, আর আমাদের ৩৪.২। সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তির অনুপাত নেপালে ৬৯.৬, আর আমাদের দেশে ৬৩.৫। অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান আছে অপুষ্টির শিকার নাগরিকদের অনুপাতে। যেখানে বাংলাদেশে ১৫.১ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, সেখানে নেপালে এই হার আমাদের প্রায় অর্ধেক, ৮.১ শতাংশ।

আমাদের তুলনায় ৬০% মাথাপিছু আয় নিয়ে আমাদের সমান সার্বিক মানব সম্পদ সূচক অর্জন করেছে নেপাল, এবং অনেক উপ-সূচকে আমাদের চাইতে ভালোও করেছে। এতে এটা আবারও স্পষ্ট হলো, আমাদের মাথাপিছু আয় আসলে কিছু মানুষকে আঙ্গুল ফুলিয়ে কলাগাছ হতেই সাহায্য করেছে। রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের কল্যানে তেমন কিছুই করছে না। এই সূচক সরকারগুলোর অযোগ্যতা,ব্যর্থতারই স্বাক্ষর বহন করছে।

কোনো দেশ অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার বিপদ কাটিয়ে ওঠা মানে এই না, সেটা ওই দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবেই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতামুক্তি জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর করে তোলে। আমাদের মতো অপশাসনের দেশে সেটাই হবে।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক নির্ণয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জিডিপিতে কৃষি, বনসম্পদ এবং মৎস সম্পদের অনুপাত। জিডিপিতে এই খাতগুলোর অবদান যতো বেশি হবে, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা তত বেশি হবে। কারণ আবহাওয়াজনিত সমস্যা, জলবায়ু জনিত সমস্যায় এসব পণ্যের উৎপাদন ব্যহত হয়। আমাদের দেশেরও জিডিপিতে ওই খাতগুলোর আনুপাতিক অবদান কমছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো যখন একদিকে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কমছে, তখন একটা বড় সংখ্যার অদক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা হারাচ্ছে, কারণ এসব মানুষের কর্মসংস্থান করার মতো দেশে যথেষ্ট পরিমাণ শিল্পায়ন হচ্ছে না।

শুরুতে প্রশ্ন করেছিলাম সরকার তাহলে এমন একটা বিষয় নিয়ে এতোটা ঢাকঢোল পেটাচ্ছে কেন? আসলে আরেকটা নির্বাচন সামনে রেখে (এবার সম্ভবত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়রি ঘটানোর গ্যারান্টি কেউ দিচ্ছে না) সরকার এখন যে কোন বিষয়কে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে। এমনকি ডাহা ফালতু বিষয়ও মানুষের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। যেমন আমাদের প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী বা পৃথিবীর তৃতীয় সৎ প্রধানমন্ত্রী। যে সীমাহীন লুটপাট আর অপশাসন সরকার এই দেশে জারি রেখেছে তাতে এসব করে শেষ রক্ষা হবে কি?

অবশ্য সরকারের শেষ রক্ষা হোক বা না হোক, তাতে এই দেশের সাধারণ জনগণের খুব বেশি কিছু  আসে যায় না। এই দেশে কতো সরকারই তো এলো গেলো। ভিন্নতা আছে সরকারের ফর্মে, আর তাদের নানা রকম বাগাড়ম্বরে। কিন্তু একটা ব্যাপারে সব সরকারের মধ্যে দারুণ মিল – দেশের আপামর জনগণকে বঞ্চিত করে তাঁদের শ্রমের ফসল তুলে দিয়েছে হাতে গোনা কিছু মানুষের হাতে। এটাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সবচাইতে নোংরা রূপ – ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’। এর অনিবার্য ফল হচ্ছে দেশের প্রায় সব জনগণ থেকে যায় ‘কলুর বলদ’।

তাই দেশ উন্নয়নশীল দেশ হবার পথে যাত্রা করার ‘বেল পাকলে’ ‘কাক’ জনগণের কিছু আসে যায় না। দেশ এলডিসি থেকে বেরোনোর একটা মাইলফলক অর্জনের প্রেক্ষাপটে আমি ‘কলুর বলদ’ জনগণের প্রতি এক প্রস্থ করুণা এবং সহানুভূতি জানাই।