ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কাল দীর্ঘদিন পর বি এন পি সংসদে গেল। এটা নিয়ে নানা আলোচনা চারদিকে – কেন গেল তারা? সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে? না সংসদকে ‘কার্যকর’ করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সার্থক করে তুলতে? তারা কি তত্ত্বাবধায়কের বিল আনবে? নাকি ‘হাজিরা’ দিয়েই পদ রক্ষা করে, বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা নিয়ে বেরিয়ে যাবে? আমি হাস্যকর এসব কথা বার্তা দেখে মনে মনে হাসি – প্রতিবার সংসদে সংসদ বর্জনের সময় আসন টিকিয়ে রাখা নিয়ে এই একই নাটক হয় – পক্ষ দুটো থাকে পাল্টাপাল্টি, এই যা। না, ওসব নিয়ে লিখছি না। বরং সংসদের প্রথম দিনের একটা ঘটনা এবং তার কারণ খুঁজতে যাওয়া নিয়ে এই লিখা।

বি এন পির জনৈকা সংসদ সদস্যা বক্তৃতা দিতে গিয়ে অত্যন্ত অশালীন, অশ্রাব্য ভাষায় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমন করেছিলেন। মূল ভিডিওটি কোথাও পাওয়া যাবে কিনা জানি না, পেলে দেখে নিন। সবচাইতে অশালীন অংশটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে বলে এটা খবরে দেখা যায়নি – আমি জাসদের মহিউদ্দিন খান বাদলের বক্তব্যে তার উদৃতি শুনেছিলাম। কোন সাংস্কৃতিক মানের মানুষকে আমরা আমাদের নেতা-নেত্রী বানিয়েছি তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ এটা। এই বক্তব্যের সময় সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্যা ক্ষেপে গিয়ে প্রচন্ড চিৎকার করতে শুরু করেন এবং তেড়ে যেতে চান বিএনপি’র সেই সংসদ সদস্যার দিকে। আবার তাঁকে ঠেকানোর জন্য বিএনপির আরেক সদস্যা দাঁড়িয়ে যান। শেষে দুই দলের দুই হুইপ উঠে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

এরকম অশালীন, নোংরা কথা সংসদে কোন নতুন ঘটনা না। বিভিন্ন সংসদে দুই ‘বড়’ দলেরই অনেক সংসদ সদস্যের মুখে অশালীন, নোংরা ভাষার ব্যবহার আমরা দেখেছি। এক দলের সদস্যদেরকে দেখেছি আরেক দলের সদস্যদের দিকে মারমুখি হয়ে তেড়ে যেতে। এটা যে শুধু সংসদে হয় তা না, জনসভায়ও আমরা এমন মন্তব্য/বক্তব্য দেখেছি হরহামেশাই। প্রশ্ন হোল তারা এসব করেন কেন? ছোট কারনটা হোল তাদের অত্যন্ত নীচু সাংস্কৃতিক মান। বড় কারনটার কথা বলছি একটু পরে।

অর্থনীতির খুব পরিচিত একটা তত্ত্ব আছে চাহিদা আর যোগান নিয়ে। কোন জিনিসের চাহিদা থাকলে যোগান থাকবে যেভাবেই হোক। আবার উল্টো করে বলা যায় কোন জিনিসের জোগান যদি দেখা যায় তবে বুঝতে হবে সেই জিনিসের চাহিদাও আছে নিশ্চয়ই কোথাও। আমাদের সংসদে, সংসদের বাইরে অশালীন কথার আর ক্রোধে তেড়ে যাবার ‘যোগান’ যেহেতু দেখা যায় হরহামেশা, তাতে এটা নিশ্চিত এসবের ‘চাহিদা’ও নিশ্চয়ই আছে খুব।

আমার কোন সন্দেহ নেই কাল বি এন পির ওই সংসদ সদস্যা যখন প্রধানমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই রকম ভাষায় কথা বলছিলেন তখন সংসদে উপস্থিত খালেদা জিয়া সেটা তরিয়ে তরিয়ে উপভোগ করেছেন। ওই কয়েক মিনিট সময়ে ওই সাংসদ নিশ্চয়ই চলে গেছেন খালেদার ‘গুড বুকে’। ভবিষ্যতে তার কপালে ভাল কোন পদ বা সুযোগ-সুবিধা জুটে যাবে নিশ্চয়ই।

ওদিকে জেহাদী জোসে তেড়ে যেতে চাওয়া সাংসদকে দেখে শেখ হাসিনাও নিশ্চয়ই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন – তাঁর দলেও আছে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবার মত মানুষ। সেই সাংসদও নিশ্চয়ই তৎক্ষণাৎ চলে গেছেন হাসিনার ‘গুড বুকে’। তিনিও এর পুরস্কার পাবেন নিশ্চয়ই ভাল কোন পদ বা সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে।

আচ্ছা ওই দুই দলের নেতারা যদি এটা জানতেন যে তাদের নেত্রীরা তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের যৌক্তিক সমালোচনাকে উৎসাহ দেন কিন্তু অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে নেত্রীর গুড বুকে থাকা দূরে থাকুক ব্যাড বুকে চলে যাবেন তারা। কালকের ওই দুজনের বিরুদ্ধে যদি দল থেকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হোত তাহলেও কি এই অশালীন কথার মচ্ছব চলতো?

আর সেটা দূরেই থাকুক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা সবসময় দেখে তাদের প্রধান দুই নেত্রী পরষ্পরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করে যান যাচ্ছেতাই ভাষায়। তাই তাদের দলের নেতাকর্মীরা বুঝে যান তাদের নেত্রীরা কেমন কথা বেশী ‘খায়’। আমার স্পষ্ট কথা, দুই নেত্রী পছন্দ করেন বলেই, অর্থাৎ অশালীন কথার আর মারমুখি আচরনের চাহিদা আছে বলেই এর যোগানও আছে। তাই আমি এর দায় এককভাবে এদেশের প্রধান দুই নেত্রীকেই দেই।

এই বিষয়ে এই ব্লগের একটা পোস্টে গুড বুকে থাকা না থাকা বিষয়ক আমার মন্তব্যের জবাবে লেখক বলেছিলেন তারা নেত্রীর গুডবুকে গেলে কী হবে? তারা জনগনের ব্যড বুকে চলে যাবেন। আমার কথা তাতে কি তাদের কোন সমস্যা আছে? কিছু আসে যায়? জানি সংবিধানে “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস” বলে একটা কথা লিখা আছে। সাথে এটাও জানি সংবিধানে লিখা অনেক কথার মতোই এটাও একটা কথার কথা। তারাও জানেন। তবে তারা জানেন মোক্ষম সত্যটাও – “নেত্রীই সকল ক্ষমতার উৎস”। সুতরাং …………..