ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই লিখায় কিঞ্চিত অতিরঞ্জন আছে। নিজ দায়িত্বে পড়ুন; লেখককে দায়ী করা যাবে না)

কাইলকা ৩ টার একটু বাদেই ফোন পাইছিলাম চঞ্চল ভাইয়ের (জাগো বাহে জাগো)। জানলাম হ্যার একটু ঝামেলায় আছে, একটু দেহা কইরা চইল্যা যাইবো। আমি ভাবছিলাম যে, কই যান গা আইজকা দেহা হইবোনে আরেকদিন। তারপর জানলাম লগে আমগো ভাবী আছে। এইডা হুইন্যা আমি আর ওই কথা কইলাম না, কইলাম “আমি অক্ষনই আইতাছি”। মনে মনে কই ভাবীর লগে একটু টাঙ্কি মারনের সুযোগ তো হাতছাড়া করন যায় না!

যাই হোক ৩:২০ এর দিকেই ছবির হাট এ পৌঁছলাম। আর লগে লগেই দেহা হইলো চঞ্চল ভাই আর ভাবির লগে। এর মইধ্যেই মাহবুবের ফোন, তারপর একে একে মঞ্জুর মোর্শেদ, আখিউজ্জামান মেনন, সোহেল মাহমুদ আইলো। বেবাকে মিল্যা বইলাম ছবিরহাট চত্বরে। বইসাই আড্ডা শুরু করলাম। কিছুক্ষন পরে হঠাৎ চোখে সূর্যের আলোর ঝিলিক লাগলো। বুঝলাম না, এইরম হইলো কেন – আমিতো বইছি সূর্যের উল্টা দিকে। দেখলাম এই আলো আইতাছে একটা চমৎকার টাকের মইধ্যে প্রতিফলিত হইয়া। ভালা কইরা তাকাইয়া দেহি এই ফর্সা দারুন টাকের মালিক তো আমগো কৌশিক দা। কৌশিকদা ও আমগ লগে বইলো। আমরা বাইরেই বইয়া আছিলাম অন্যগো লাইগা অপেক্ষা করনের লাইগা। এর পর আইলো আমগো আবু সুফিয়ান আন্ডার স্কোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক। হ্যার দাঁড়ি আগের চাইতে একটু বড় হইছে – হিজবুত তাহরির হিজবুত তাহরির লাগে।

চলতে থাকলো নানা ‘জ্ঞানগর্ভ’ আলোচনা – সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম বেবাক। এই আলোচনা এইরমই আছিলো যে লগে বইসা থাকা জনৈক নারীলোক মুগ্ধ হইয়া আমগো লগে ভিতরেও বইতে চাইলো (পরে জানছি হ্যার নাম পুতুল, হবু ডাক্তার, বগুড়া মেডিক্যালে পড়ে)। গর্বে বুকের ছাতি ফুইল্যা গেল এক হাত – আমরা একেকজন কী ভীষন প্রকাণ্ড পন্ডিত! পাশে বইস্যা মাইনসে কত সহজে আমগো ‘পান্ডিত্য’ বুইঝ্যা যায়! মাগার আফসোস, বিডি ব্লগে এতোদিন ধইরা লেইখ্যাও পাঠকগোরে এইডা বুঝাইতে পারলাম না।

আড্ডা দেওনই তো আমার একমাত্র কাম আছিলো না, আমি লগে চেষ্টা করতাছিলাম ভাবীর লগে (চঞ্চল ভাইয়ের বৌ) একটু খাতির জমানের লাইগা। মাগার পাত্তা পাইলাম না খুব একটা, নিজের মনেই কইলাম হ্যায় হয়তো একটু ইন্ট্রোভার্ট, সান্তনা পাইলাম। তয় হ্যার মনের কথা পড়ন গেলে মনে হয় হুনা যাইতো – “আরে আয়নায় তোর চেহারা দেহস? এই চেহারা লইয়া …… আমার পছন্দ কিরম আমার জামাইরে দেইখ্যা বুঝস না?”। এর মইধ্যেই আইলো আইরিন সুলতানা – ঘড়ি দেখলাম ৪:১০ বাজে। তয় মাইন্ড খাই নাই – হ্যায় আবার বহুত ‘ইম্পর্ট্যান্ট’ মানুষ না! দেরী তো হইবোই!

যাউগ্যা ভিতরে গেলাম, গিয়া পরথম একটা চা দোকানে বইলাম। এর মইধ্যে আইলো কান্টি টুটুল, কালপুরুষ, নাহুয়াল মিথ, তিতাস। চলতে থাকলো আমগো চা খাইতে খাইতে নিজেগো কথা কওন আর জাতি উদ্ধার করন। ব্লগ কিরম হওন উচিৎ, কী সমস্যা আছে না আছে সবকিছু। আগে কী হইছে অহন কী হওন সম্ভব, কী হওন সম্ভব না। এইসব কইতে কইতেই ভিতরে গেলাম চটপটির দোকানের কাছে – ওইখানে বইতে গিয়া আবার ঝামেলা হইলো।

আমরা চেয়ার গোল কইরা বইতে গেছি, তহনই দেহি এক লোক আইসা কইলো এহানে এমনে এমনে বহন যাইবো না – হ্যারা টেকা দিয়া চেয়ার ভাড়া আনছে। ইজ্জতে লাগলো – আরে আমগো চেহারা দেইখ্যা কি মনে হয় আমরা চটপটিও খামু না! আমার কথা বাদ দিলাম, আমগো লগে বহুত ‘সুশীল’ সুরতের মানুষ তো আছিল। পরে কালপুরুষ দা হ্যারে আশ্বস্ত করলো যে না আমরা খামু। তার পরে আমগো আড্ডা চললো। কথা কইতে কইতে কৌশিক দারে দেখি মাঝে মাঝেই উইঠ্যা যাইতাছে আর দারুন রোম্যান্টিক চেহারায় কথা কইতাছে। ফোনের ওই পাশে ভাবী থাকলে তো আলহামদুলিল্লাহ; আর যদি হেইডা ভাবী না হয় …… নাউজুবিল্লাহ।

এর মধ্যে আমগো ম. সাহিদ ভাই, আর সুলতান মির্জা ভাই ফোন দিলো, জানতে চাইলো আড্ডার অবস্থা। আর সুলতান মির্জা ভাই তো দারুন এক খান প্রস্তাবই দিয়া দিছেন – ভার্চুয়াল রোমান্টিসিজম!। এর মইধ্যে নাহুয়াল মিথের ভং ধরন (পোষ্ট না লেইখ্যা খালি মন্তব্য করন, তাও খালি ইমো দিয়া) ছুটাইতে চাইছিলাম। আগে ভাবতাম হ্যার লগে দেহা হইলে আগে একবার ভদ্রভাবে কমু লেহা শুরু করতে, না হুনলে – মাইরের উপরে অষুধ নাই। তয় হ্যারে দেইখ্যা মাইরের কথা ভুইল্যা গেছিলাম – হ্যার যা সাইজ, মাশাল্লাহ! তয় আবারো কইতাছি – লেহা শুরু করেন নাহুয়াল মিথ।

এই করতে করতে আন্ধার হইয়া গেল। উঠনের সিদ্ধান্ত হইলো। মাইরডা খাইলাম শেষ বেলায়। দেহি আইরিন আপু চটপটির বিল দিতাছে। আমি কাছে গিয়া ভদ্রতা কইরা কইলাম, আমিই দেই। হ্যায় তো দেহি চাল্লু সেয়ানা! আমি কইতে না কইতেই ট্যাকা ঢুকাইয়া ফালাইলো! কী আর করা, বিলডা আমিই দিলাম। সারাডা বিকাল অত্যাধিক আনন্দ পাইছিলাম; মাগার শ্যাষে আইস্যা এই মাইরডা খাইয়া, ‘দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে’ বাড়ির দিকে হাটন দিলাম। কপাল!

পূনশ্চঃ এই আড্ডায় কিছু কাজের কথাও হয়েছে। সেটা নিয়ে আবু সুফিয়ান ভাই, আর জাগো বাহে জাগো পোষ্ট দিয়েছেন। আমিও সহসাই একটা পোষ্ট দেব আরেকটা ব্যাপার নিয়ে। আর হ্যাঁ, ছবি হাতে পেলে কিছু ছবিও দেব।