ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত ১২ মার্চ বিএনপির মহাসমাবেশ হইয়াছিল। কত ঘটনা ঘটিল, কত আলোচনা হইলো, হইলো সমালোচনাও। সরকার বাহাদুর বহু পদক্ষেপ নিয়াছিলেন আমাদের দেশ এবং জানমালের নিরাপত্তা বিধান করিবার জন্য। সেই জন্যই আমাদের এই ঢাকা শহর এখনো বহাল তবিয়তে আছে। শুকরিয়া। কিন্তু ইহার মধ্যেই বিএনপি মোটামুটি বিশাল মহাসমাবেশ করিয়া এই দেশের মানুষকে আর সরকারকে দেখাইয়া দিল তাদের ‘শক্তি’।

তো সেই জনসভার পরে আমাদের প্রিয় ব্লগার ম. সাহিদ ভাইজান একখানা পোষ্ট দিয়াছিলেন “খালেদার উপহার – সরকারকে ১ দিনের হরতাল, হুমকি আর জাতিকে অশ্বডিম্ব!” নামে। অবশ্য বিএনপি ওয়ালাদের সুমতি হইয়াছে অবশেষে – হরতাল প্রত্যাহৃত হইয়াছে। তাই হরতালের দায় আর তাহাদিগকে দেয়া যায় না। তবে শেষ অংশ নিয়ে আমি সাহিদ ভাইয়ের সাথে একমত – ঐ জনসভা থেকে জনগনের অশ্বডিম্ব প্রাপ্তির চাইতে বেশী কিছু হয় নাই। তবে এই ঘটনায় সরকারের চন্দ্রাহতর ন্যায় আচরণ জনগনের নিকট নতুন বিষয় ছিল; সেই আলোচনার দরকার নাই আর, ওই আলোচনা হইয়াছে অঢেল!

তো সেই ঘটনায় সাহিদ ভাইয়ের পোস্ট দেখিয়া ভাবিয়াছিলাম ১৪ মার্চ আমাদের অপর দলের অপর নেত্রী, হাসিনা আমাদের কী কী মনি-মুক্তা, হীরা-জহরত দিয়া পরিপূর্ণ করিয়া দিলেন সেই বিষয়ে পোষ্ট আসিবে, কিন্তু আসিল না। আমিই দিতে চাহিয়াছিলাম, কিন্তু ওই দিনই আমাদের সমূদ্রসীমা নিয়া অসামান্য প্রাপ্তির ঘটনায় ওই বিষয় নিয়া লিখিতে গিয়া হাসিনার মহাসমাবেশের বিষয়ে কোন পোষ্ট লিখা হইয়া উঠে নাই।

তবে অপেক্ষা করিতেছিলাম, আমাদের নেত্রীদের তো বিশাল জনসভায় নসিহত করার অভ্যাস চিরকালীন; দেখি আরেকটা জনসভা। অবশেষে ব্যপক ঢাকঢোল পিটাইয়া বানিজ্যিক রাজধানীতে (!?) হইলো বিশাল জনসভা। কয়েকদিন আগে থেকেই ব্যানারে, ফেষ্টুনে, তোরণে নগরী সজ্জিত হইয়াছিল নেত্রীকে স্বাগতম জানাইতে। নেত্রী যে জনগনকে মূল্যবান কথা শুনাইবেন – যাহার মূল্যমান মনি-মুক্তা, হীরা-যহরত এর চাইতে কিছুমাত্র কম নহে!

তো কী ছিল কালকের ভাষণে? পড়িয়াছি আমরা? শুনিয়াছি কি টিভির খবরে? পাইয়াছি কি কিছু? ইচ্ছা হইতে ছিল কিছু কথা এইখানে লিখিয়া দেই। কিন্তু রুচি হইলো না। যাদের আগ্রহ আছে, কিঞ্চিত কষ্ট করিয়া পড়িয়া লইবেন। অনুমান করি এই দেশের রাজনীতি লইয়া কিছুমাত্র ওয়াকিবহাল মানুষগন মোটামুটি ভালভাবেই অনুমান করিতে পারিবেন সেই প্রকান্ড জনসভায় কী কী বলা হইয়াছিল, কী কী বলা হয়।

এখন আমার প্রশ্ন ১৪ মার্চ আর গতকালকের জনসভা থেকে জনগন কী পাইলো? ডিম্বের চাইতে অধিক কিছু কি? আমার জবাবটা আমি দিয়া দিতে চাই; জানি, আমার জবাবটা অনেককেই ক্ষিপ্ত করিয়া তুলিবে, আমার দিকে তীব্র বাক্যবান ছোঁড়া শুরু করিবেন। তারপরও সত্য বলিব – আমি নিশ্চিত জনগন এই নেত্রীর কাছ থেকেও ডিম্বই পাইয়াছে। তবে আমি কিঞ্চিত সন্দিহান, ডিম্বটা কিসের? অশ্বের না অন্য কিছুর?

এই দেশের বেশীরভাগ মানুষ (ব্লগের লেখকরাও) পরিষ্কারভাবে দুই ভাগে বিভক্ত – একভাগ মনে করে একজন জনগনকে অশ্বডিম্ব প্রদান করেন আর আরেকজন হীরা-যহরত। আরেকভাগ মনে করেন অপরজন অশ্বডিম্ব দেন আর অন্যজন মনি-মুক্তা। অবাক হইয়া তাকাইয়া দেখি, ভাবি এই দুই নেত্রীর যে জনগনকে ডিম্বের ( সেইটা অশ্বের ডিম্বই হোক বা গর্ধবের) অধিক কিছু দেয়ার ক্ষমতা বহু আগেই শেষ হইয়া গিয়াছে সেইটা আমরা এখনো বুঝতে পারি নাই! আর কতকাল পরে, আরো কতগুলো ডিম্ব পাইবার পরে আমরা বুঝিতে পারিব সেইটা?