ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

blackOut

সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিচারে সরকারের ভয়ংকর নির্লিপ্ততার প্রতিবাদে আজ আমাদের এই ব্লগে ‘ব্ল্যাক আউট’। কালো রঙ অশুভের, শোকের প্রতীক। এই প্রতীক ব্যবহৃত হচ্ছে দীর্ঘকাল থেকে। তবে কালো রঙকে এই রকম প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে ‘সাদা’দের জাতিগত উন্নাসিকতা বা কলোনিয়াল মানসিকতা আছে কিনা সেই যৌক্তিক তর্কও আছেই দীর্ঘকাল থেকেই। সেই তর্ক আরেকদিন। তবে আমাদের দেশের মানুষ যেহেতু এই প্রতীকের সাথে অনেক বেশী পরিচিত, তাই এটাই হতে পারে আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবার প্রতীক।

বিখ্যাত মানুষ বা সমাজের ‘উঁচু তলা’র মানুষের মৃত্যুতে আমাদের বেশী সংবেদনশীলতা, প্রতিবাদ আর দরিদ্র বা সমাজের ‘নীচু তলা’র মানুষদের মৃত্যুতে আমাদের সংবেদনশীলতা, প্রতিবাদ না করার মানসিকতা সবসময় আমার কাছে ভীষণ অনৈতিক মনে হয়েছে, এখনো হয়। সেই কারণে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের চারপাশে যা হচ্ছে নৈতিকতার দৃষ্টিতে সেটাকেও আমি খুব একটা ভালভাবে দেখি না। কিন্তু কিছু কারণে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্লগারদের আন্দোলনে আমি গিয়েছিলাম, সমর্থন জানাই এই সংক্রান্ত সব কর্মসূচিতেও।

আসলে আমি সবসময় চেয়েছি ব্লগাররা শুধুমাত্র লিখালেখির বাইরে এসে সমাজের নানা ইস্যু নিয়ে রাস্তায় নামবে। স্বপ্ন দেখি সেই নেমে আসা ধীরে ধীরে এমন এতোটা বেড়ে যাবে যে এটা এই দেশের উল্লেখযোগ্য একটা শক্তিতে পরিণত হবে। স্বপ্নটা কতোটা বাস্তব আর কতোটা অবাস্তব সেই প্রশ্ন এড়িয়েই এভাবেই স্বপ্ন দেখি। এটা একটা বড় কারণ এই আন্দোলনের সাথে নিজের যুক্ত হওয়ার।

আর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অবাক হয়ে দেখি এতো কথা, এতো চাপের পরও সরকারের কোন বিকার নেই। এরকম আলোচনা, সমালোচনা, মিডিয়ার চাপ বিখ্যাত দুই জন মানুষের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ন্যূনতম অগ্রগতি করাতে পারেনি। ভাবি, তাহলে এই রাষ্ট্র একজন রিকশাচালক ভাই বা একজন গার্মেন্টসকর্মী বোনের হত্যাকাণ্ডের পর সরকার আদৌ কী কিছু করবে!

তারপর ওদিকে তো ঘটলো সেই বিখ্যাত ‘চা কাহিনী’ – নতুন আশংকা। এই যদি হয় আমাদের সমাজের আন্দোলনের পরিনতি, তো সেটা সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদেরকে শঙ্কিত করে। আবার বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। আমরা ব্লগাররা তার আগ পর্যন্ত আন্দোলন করে চাপ চালিয়ে যেতে চাই। জানি, আমরা ব্লগাররা এখনো খুব বড় কমিউনিটি নই। তবে আমাদের সবচাইতে বড় শক্তি সম্ভবতঃ – আমরা বেতনভুক্ত নই, এখনো প্লটের লোভ আমাদেরকে পেয়ে বসেনি (অবশ্য সেই অফার পাওয়াই তো যায়নি এখনো)। এখনো নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াই আমরা।

তাই চাই হোক আজকের (১৫ এপ্রিল ২০১২, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা) ‘ব্লগ ব্ল্যাকআউট’ । আমাদের পাঠকরা জানুক এই সরকার কতোটা দায়িত্বজ্ঞানহীন, কতোটা ব্যর্থ। আর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা হচ্ছে সবকিছু যদি ইচ্ছে কৃত হয়ে থাকে তবে সরকার কতোটা অমানবিক, নির্মম! শিরোনামে লিখেছিলাম অনেক আলোর কথা। দরকার নেই, আগামীকাল ব্লগের এই কালো সামান্য হলেও একটু আলোর রেখা নিয়ে আসুক এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পথে; আর ব্লগারদের নিজেদের কিছু করতে পারার ক্ষমতায় বিশ্বাসের পথেও।