ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

আজ রাতে বিডি নিউজের মহাখালীর অফিসে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। মারাত্মক আহত হয়েছেন সাংবাদিক সালাহউদ্দিন প্রীতম আর শাহনেওয়াজ রিফাত; সাথে আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। বিডিনিউজের খবরের ছবিতে মেঝেতে পড়ে থাকা রক্তের পরিমাণ দেখে বুঝতে পারছিলাম কতোটা ভয়ঙ্কর হামলা ছিল ওটা!

বিডি নিউজের ব্লগে লিখি মোটামুটি নিয়মিতই, অন্যদের পোষ্ট পড়ি, আলোচনা করি, বিতর্ক করি। আমরা এই ব্লগের ব্লগাররা বিডি নিউজের বেতনভুক্ত নই, কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে দারুন একটা আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভীষণ আহত, ক্ষুব্দ বোধ করছি আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন হামলার। আমাদের ভাইদের রক্ত ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে নিজের মাথায় রক্ত উঠে গেছে। ব্লগার বাদ দেই, একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে যখন ভাবি তখনও ক্ষোভে, ক্রোধে ফেটে পড়তে হয়। চলতেই থাকবে এসব!!

নানা হিসেব নিকেশ মাথায় কাজ করে। কিছুদিন থেকেই একটার পর একটা হামলা হচ্ছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। মনে প্রশ্ন জাগে এটা কি তারই ধারাবাহিকতা? বিডি নিউজ সাইটটি সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, ব্লগ তো সেটা আরো অনেক বেশী করে। এটাই কি কাল হল তাদের? কিংবা কোন স্থানীয় সমস্যার ফলাফল এটা? যদি সেটা হয় তবে একটা অফিসের ভেতরে ঢুকে এমন হামলা করার এতো ক্ষমতা এবং সাহস এদের এলো কোত্থেকে? পেছনে কে আছে এর?

সাংবাদিকদেরকে নানামুখী চাপ দিয়ে নানামুখী হামলায় আক্রান্ত করে ভীতি তৈরি করার ফল সমাজ, জনগনের জন্য ভীষন ভয়ঙ্কর। মত প্রকাশের স্বাধীনতা যখন রুদ্ধ হয়ে যায় তখন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে শাসক আর নানা কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের অনেক ভয়ংকর বেআইনি, অনৈতিক কর্মকান্ড। সংবাদ সংস্থা আর সাংবাদিকদের এই স্বাধীনতা হরণ অনিবার্যভাবে নিয়ে যায় পুরো মাত্রার ফ্যাসীবাদের দিকে। তাই এই সব হামলা আমাদের এই সমাজ আর রাষ্ট্রের জন্য ভীষণ ভয়ংকর অশনি সংকেত।

আমার বাবা বাংলাদেশী চ্যানেলগুলোর স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজে খবরটা দেখে আমাকে বলে দিলেন আমি যেন আর ব্লগে না লিখি। আমার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। আমি এটা বলতে চাইছি না যে আমি কেউকেটা কেউ হয়ে গেছি। কথাটা বললাম যে এই হামলাগুলো আমাদের সমাজে কি রকম আতংক তৈরি করছে সেটা বোঝানোর জন্য। এরকম আতংক আরো ছড়াতে থাকলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।

হামলা কে করেছে, কেন করেছে, মোটিভ কী – জানা যায়নি হয়তো এখনো। জানতেও চাই না; কারণ দ্রুত জানা যাওয়া তো দূরেই থাকুক আদৌ কোনদিন জানা যাবে কিনা, আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সেই ভরসা আর রাখি না এই সরকার আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। সাগর-রুনিকে কুপিয়ে মেরেই ফেলল সেই কবে – কই কিছু তো হল না কারো। একটা তথ্য জানলাম কিছুদিন আগে – এই দেশে স্বাধীনতার পর ঘটে যাওয়া একটা সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি।

এধরনের সব ঘটনার পর সবাই আন্তরিকভাবে অথবা নিয়ম করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায়, দায়ীদের শাস্তি চায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীরা এসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে পাকড়াও করার প্রতিশ্রুতি দেন। না, আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, সরকার কারো কাছে তদন্ত বিচার কিছু চাই না – শুধু জানাতে চাই একরাশ অনাস্থা তাদের প্রতি। ঘৃণা, ধিক্কার জানাবো? না তাও না। ওগুলো গায়ে লাগার জন্য কাউকে যতটা মানবিক হতে হয়, এই সরকারের কেউ এখন আর সেই পর্যায়ে আছে বলে আমি অন্তত মনে করি না।

কামনা করছি আমাদের আহত ভাইরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। আমরা আছি আপনাদের পাশে, থাকব। রাষ্ট্র যখন জনগনের দায়ীত্ব পালন করে না, তখন নাগরিকদেরই উচিত হবে নিজেরাই নিজেদের দায়ীত্ব নিতে শেখা।