ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

দেশের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি একটি বিষয় বর্তমানে প্রতিদিনই সমালোচিত হচ্ছে এবং প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তা হল শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি । আর এই শেয়ার বাজার এ প্রায় ৩৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী রয়েছে । এদের মধ্যে কেউ বেকার যুবক,কেউ ছাত্র, কেউ চাকরিজীবী, কেউ অবসরপ্রাপ্ত । দেশের পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মসংস্থান না থাকায় তারা সবাই এই শেয়ার বাজার এ বিনিয়োগ করে অন্তত বেকারত্ব ঘুচানোর পাশাপাশি কিছু আয়ের পথও বেছে নিয়েছে । যা কিনা নিজের খরচের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক যোগানও হয়ে যাচ্ছে । কেউ কেউ শুধুমাত্র এই আয়ের উপরেই নির্ভরশীল । এহেন অবস্থায় কিছু লুটেরা অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে ।এই লুটেরারা বিলাসবহুল গাড়ী-বাড়ি নিয়ে উচ্চাভিলাশি জীবনযাপন করছে আর অপরদিকে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা তিন বেলা খাবার জুগাতে, ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা চালাতে আজ অপারগ । একদিকে প্রয়োজনের বাইরে উচ্চাভিলাশিতা আর অন্যদিকে প্রয়োজনের তাগিদে জীবিকা নির্বাহ করা । একটি মানুষের জীবনে কত অর্থ-সম্পদের প্রয়োজন বা কত হলে আর চাইবেনা কেউ কি বলতে পারেন ? একবারও কি তাদের মনে হয়না এই নিঃস্ব মানুষ গুলো তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে কোথায় যাবে কি করবে ? এমতাবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আজ পথে নেমেছে, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ চাচ্ছে । কিন্তু এত কিছুর পরেও সরকার কোনভাবেই মার্কেট নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছেনা । এটা কি সরকারের ব্যর্থতা না ?

প্রথমে যখন গত ডিসেম্বর থেকে দরপতন শুরু হয় তখন বলা হয়েছিল মার্কেট কারেকশন হচ্ছে । মার্কেট এতই কারেকশন হচ্ছে যে মানুষকে নিঃস্ব করে ছাড়ছে । আমার প্রশ্ন হচ্ছে সুচক যখন ৯ হাজার উঠে তা একদিনে উঠেনি আর তখন সরকারের দৃষ্টি কোথায় ছিল ? কেন এর আগেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি ? শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা হলে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষদের নিঃস্ব হতে হতোনা । এ পর্যন্ত বাড়া কমা যাই হয়েছে তা এই সরকারের আমলেই হয়েছে । তা হলে কেন এই দরপতন রোধ করতে পারছেনা ? এর মধ্যে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যদি বলে কিভাবে মার্কেট ঠিক হবে তা আমি জানিনা তাহলে কি মার্কেট ভাল থাকতে পারে ? আরও বলেছেন অনশনের রাজনীতি হয়েছে । এই পরিস্থিতিতে আপনি কি করতেন ? পেটে ভাত না থাকলে মানুষ চুরি পর্যন্ত করে আর নিজের বিনিয়োগ করা টাকা নাই হয়ে যাচ্ছে তাতে তারা রাস্তায় নামবে না, অনশন করবেনা ? সাধারণ বিনিয়োগকারীরা রাজনীতি বুঝেনা,তারা বুঝে কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করা যায় । নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করুন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের দেখুন তারা কিভাবে ব্যর্থতা এড়াতে দেশের স্বার্থে নিজেই পদত্যাগ করেন । ক্ষেতে হাল চাষ না করতে পারলে শুধু শুধু লাঙ্গল হাতে নিয়ে কি হবে যিনি পারেন তার হাতেই লাঙ্গল দেওয়া উচিত। ঘরের কর্তাই যদিই বলে এ সংসার সম্বন্ধে আমি জানিনা তাহলে সংসার ঠিক থাকে কি করে ? আমাদের প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরেঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন-শুটকির বাজারে বিড়ালের দায়িত্ব। এখানে বিড়াল কে বের করুন তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন । আর সেই বিড়ালকে আপনারাই বসিয়েছেন অন্যকোন রাজনৈতিক দল বসায়নি। নাকি বিড়ালের ভয়ে ইঁদুর হয়ে থাকবেন?

আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখানে ইদুর-বিড়ালের খেলা দেখতে চাইনা । আমরা চাই একটি স্থিতিশিল মার্কেট। যেখান থেকে অন্তত পরিবারের কিছু ভরণপোষণ যোগাড় করা যাবে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোন দল বুঝিনা, যে ব্যক্তি বা দল দেশের ভাল করবে আমি তারই সাপোর্ট করি । আশা করি এত সব কিছুর পরেও শেয়ার বাজার আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবার পরিবার-পরিজনদের নিয়ে সুন্দরভাবে দিন কাটাবে, দেশে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে এবং তার জন্য সরকার দৃঢ় ভাবে পদক্ষেপ নিবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।