ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। পাহাড় ঘেরা বিশাল আয়তনের অপূর্ব এই ক্যাম্পাসের নাম শুনলেই নস্টালজিয়ায় মন চঞ্চল হয়ে উঠে। চেনা পথ-ঘাট, চেনা যান। ঝুপড়ির কোন বন্ধুর গান। কান পাতলেই স্মৃতির দুয়ারে আজো মিছিলের শব্দ শুনি। বজ্রমুঠো হাতের শিহরণ পাই। হাতগুলো আমায় ডাকে। মাঝেমাঝে যাই। তবে অপরিচিত অনেক। বহুবিদ ক্রিয়াকলাপের সাথে পরিচয় নাই।

‘র‌্যাগিং কালচার’। কালচার মানে সংস্কৃতি। র‌্যাগকে সংস্কৃতি না বলে বরং অপসংস্কৃতি বলাই ভালো। এতে কোন মানবীয় গুণ নেই। আছে হিংস্রতা, পাশবিকতা। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু পুরনো প্রকোপ হলেও চবি ক্যাম্পাসে ‘র‌্যাগিং কালচার’ এখন নতুন প্রকোপতার দিকেই যাচ্ছে। গত দু’বছরে সংক্রামকের মতো ছড়িয়েছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কিছু লোক পাশবিক উল্লাসে মেতে উঠছে। যার অধিকাংশই সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের কর্মী বা সমর্থক। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন বিকৃত আচরণের বহিঃপ্রকাশের জন্য আসলে প্রশাসনই দায়ী। যদিও এটি দৈশিক অস্থিরতা ও ভাবালুতার সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে উত্ত্যক্তকারীরা আজ পরোয়াহীন।

ভয়-ভীতি দেখিয়ে শার্ট খুলাচ্ছে। প্যান্ট খুলাচ্ছে। এমনকি চাকু ধরে মৃত্যুভয় দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা কেউ কেউ র‌্যাগারদের হাতে ফোন সেট, মানিব্যাগ পর্যন্ত খুইয়েছে। দূর থেকে আসা ভর্তিচ্ছুরা এমনই বিকৃতির শিকার হয়ে মানসিকভাবে দারুণ বিপর্যস্ত। আক্রান্তদের মধ্য থেকে পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অভিব্যক্তিও শুনেছি। ক্যাম্পাসজুড়ে এমন অরাজকতা কিন্তু প্রশাসন এতো নীরব কেনো?

যেহেতু উত্ত্যক্তকারীরা সরকার সমর্থক, তাই কি প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নেই তাদের বিরুদ্ধে! র‌্যাগারদের বাঁচাতে আছে দলীয় নেতৃবৃন্দ। আক্রান্তদের বাঁচাবে কে? এই বিকৃত সংস্কৃতি থেকে বাঁচতে এবং বাঁচাতে আওয়াজ তুলুন!!!