ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

টিউশন ফি’র ওপর ভ্যাট আরোপের বিরোধীতা করে আন্দোলনে নেমেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বন্ধুরা। বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। তবে এই আন্দোলনকে যদি সঠিক পথে বেগবান করা না যায় এ থেকে যে খুব বেশি কিছু অর্জন হবে তা কিন্তু নয়। তাই স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনকে দাবি আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত বলবৎ রাখা নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব। এজন্য নেতৃবৃন্দকে হতে হবে অবশ্যই সৎ এবং দূরদর্শিতাপূর্ণ। (শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং আরো কিছু আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকেই এই বক্তব্যের অবতারণা।)

ভ্যাট বিরোধী যে আন্দোলন বর্তমান আছে তা কিন্তু শুধুমাত্র ভ্যাট শব্দটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর শেকর আরো বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ হচ্ছে সেই আন্দোলন যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬-০৭ সাল থেকে চলে আসছে। কিংবা এরও আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন। অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নয়। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই পাবলিক-প্রাইভেট সকলকে একসাথে আন্দোলনে নামতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো ‘বর্ধিত বেতন-ফি বিরোধী আন্দোলন’ নামে। তখনই হাতে আসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ২০ বছর (২০০৬-২০২৬ সাল) মেয়াদি কর্মকৌশলটি। যা ঐ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই কর্মকৌশল আসলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের হলেও পুরো ইন্ধনে থাকে বিশ্বব্যাংক। তখন পর্যন্ত বর্ধিত ফি বিরোধী আন্দোলন চবি ক্যাম্পাসের একক আন্দোলন। মানে এক ক্যাম্পাসে আন্দোলন হচ্ছে কিন্তু আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে আলোড়ন নেই। কারণ কৌশল বাস্তবায়নকারীরা এমনই কৌশলী যে তারা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে বেতন-ফি বাড়ায়নি। ফলে ক্যাম্পাসে-ক্যাম্পাসে ঐক্যও গড়ে উঠেনি। কিন্তু বেতন-ফি ঠিকই বেড়েছে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।

২০ বছর মেয়াদি কর্মকৌশলের প্রায় মধ্যবর্তী সময় অতিবাহিত হচ্ছে ভ্যাট বিরোধী এই আন্দোলন পরিস্থিতিতে। শুধুমাত্র পাবলিক নয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অনুভব করছে এখন শিক্ষাব্যয় ক্রমান্বয়ে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সবার। শিক্ষাকে পণ্য বানানোর রাষ্ট্রীয় এই অপতৎপরতাকে যদি এবারও রুখে দেয়া না যায় অদূর ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কেবল ধনীদেরই প্রাপ্য হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের প্রতি আহ্বান থাকবে, কেবল ভ্যাট মওকুফের দাবিতে স্থির না থেকে বরং সামষ্টিকভাবে শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন এবং সম্পূর্ণভাবে দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখুন। আশাবাদ, এ আন্দোলন পূর্ণতা পাক। কারণ জয় হলে জাতি পাবে অধিকার।

১১.০৯.২০১৫