ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা। সভ্য সমাজের কাছে মাহফুজুর রহমান বদনাম কুড়িয়েছেন অনেক আগে। যেদিন থেকে এটিএন বাংলা নামক চ্যানেলে নাসির বিড়ির বিরামহীন বিজ্ঞাপণের নর্তন-কূর্দণ শুরু করেছিলেন, সেদিন থেকেই ছিঃ ছিঃ পাচ্ছিলেন। এরপর শুরু করলেন বস্তাপচা বাংলা সিনেমার বিরামহীন প্রচারণা। একটি টিভি চ্যানেলের জন্মের শুরুতেই তিনি এর বিকৃত অবয়ব দান করলেন। তার উদ্যম যদি সেখানেই থেমে থাকতো, তাহলেও কথা ছিল। অনেক সাংবাদিক সারা জীবনের সাধনায় যা করতে পারেন না, তিনি তাই করলেন। অর্থাৎ পড়ন্ত যৌবনে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন অষ্টাদশীকে। গায়িকা স্ত্রী নায়িকার বেশে উপস্থিত হন নিজের ঘরোয়া টিভির পর্দায়। যদিও মাহফুজুর রহমান তাকে পরিচয় করিয়ে দেন ‘বস্তির মেয়ে’ হিসেবে।

টাকায় কি না বাঘের দুধও মেলে। তাইতো মাহফুজুর রহমান তার চ্যানেলে কিনে নিলেন জ ই মামুনের মতো ভদ্রলোককেও। দামী দামী নাট্যকারের, পরিচালকের প্যাকেজ কিনে টিভির ইজ্জত বাড়াতে থাকলেন। টিভি পর্দায় আমন্ত্রণ জানাতে থাকলেন বুদ্ধিবাজ সম্প্রদায়ের লোকজনকেও। প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও তার ডাক পড়লো মতিউর রহমান, মাহফুজ আনামদের সঙ্গে। নাসির বিড়ির বিজ্ঞাপনের কথা মানুষ ভুলে গেলেও ভুলতে দেননি মাহফুজুর রহমান নিজে।

মাহফুজুর রহমানের পেটে দুনিয়ার সব তথ্য। কারন তিনি সাংবাদিক চড়িয়ে বেড়ান। তার খোঁয়াড়ের সাংবাদিকরা সারাদিন চষে চষে যে সব ফুটেজ সংগ্রহ করেন, সবই তার সম্পত্তি। এ সব ফুটেজ প্যন্টের পকেটে সিডিতে, অথবা পেন ড্রাইভে রেখে তিনি যদি হাল আমলের দ্বিতীয় বাণিজ্য (ঠেক দেয়ার) করেন, তাতেও কেউ বাগড়া দিতে পারেননা।

মানুষ বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। মাহফুজুর রহমান পেটে ধরে রাখতে পারেননি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো তাজা সব তথ্য। গড়-গড় করে বলে দিয়েছেন লন্ডনে। তিনি ভেবেছিলেন দেশে তিনি যে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো পারিবারিক মিডিয়ার জন্ম দিয়েছেন, লন্ডন পর্যন্ত সে দানবের হাত বিস্তৃত হবে না। কিন্তু বিধি বাম! আজ তাকে সে দানবের হাতেই পড়তে হলো। ভদ্রলোকের সন্তান জ ই মামুনেরা অনেক চেষ্টা করেও পারলেন না।

লন্ডনে তিনি যে ভাষায় একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের জট খুলে দিয়েছেন, তাতে সবার আপত্তি থাকলেও আমার নেই। তিনি তার মতো করে, তারি সংস্কৃতিজাত শব্দগুলো চয়ন করেছেন। এতেই সাংবাদিক সমজের বিপত্তি। কিন্তু তিনি যত সহজে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন, তাতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাজ আরো সহজ হয়েছে বলে আমার ধারণা। আর যদি তার উদ্ভাবিত ক্লু বেঠিক হয়, তাহলে হাতকড়া পরার কথা তারি হাতে।

শেষ কথা
এতদিন অনেকে ভাবতো মাহফুজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর লোক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশের মাটিতে বসে “বাচাল” বলার কারনে বোঝা যায় এ দেশে মাফিয়ারা রাজারও রাজা, বাপেরও বাপ। আসলে তিনি আওয়ামী লীগেরও নন, বিএনপির তো নয়ই। তিনি তথ্য মুঘল। তার একমাত্র ভুল- তিনি ভুল জায়গায়, ভুল মন্তব্য করেছেন। যে অভিমত তিনি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পেশ করতে পারতেন, তা তিনি করেছেন বিদেশের মাটিতে বসে। এবং একটি জঘন্য হত্যাকান্ডের দায়ভাগ তিনি তুলে নিয়েছেন পুরো নিজের কাঁধে। আনাড়ি সাংবাদিকরা এ কাজগুলোই করেন। মাহফুজুর রহমান সাংবাদিক চড়ানো শিখেছেন, কিন্তু সাংবাদিকতা শেখার আরো অনেক বাকি!!

আবার ওদিকে যারা মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে মাঠ গরম করে ফেলেছেন, তাতে আওয়ামী লীগ- বিএনপির দুর্গন্ধময় দলাদলি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আশংকা হয়, এই দলাদলিতেও না শেষ পর্যন্ত সাগর রুনিকে আবার হত্যা করা হয়। এতোমধ্যে সাগর রুনির কয়েক দফা হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘঠিত হয়েছে!

নিউইয়র্ক, ২৬ জুন ২০১২