ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের হাইকোর্ট ভবন। এ ভবনটির দিকে তাকালে নিরাশার আঁধারেও ফুটে আশার আলো। রাজনীতি ও সন্ত্রাসের যুগল থাবায় আহত যে কোন নিরপরাধ, নিরীহ মানুষটিও ভাবেন তার শেষ আশ্রয়স্থল বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট। এর বিচারপতিরা বাংলাদেশের সকল সঙ্কটে হাত বাড়িয়েছেন সাহায্যের। রাজনীতির কর্দমাক্ত মাঠে এরা ফুটবল খেলতে বাধ্য হয়েছেন। আবার সময়-সুযোগে বিচারের তোলাদণ্ড হাতে ফিরে গেছেন। দর্শকের গ্যালারিতে বসে কেবল নীরব আস্ফালন করেননি। বরং সময়ের প্রয়োজনে যা বলা দরকার, তা বলেছেন। এ বিচারপতিরা আমাদের গর্বের। আমাদের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ।

বিশ্বে এমন দেশ খুব কমই আছে, যে সব দেশে বিচারপতিরা জাতীয় সঙ্কটে এগিয়ে এসে হাল ধরেছেন রাস্ট্রের। যে সব দেশে রাজনীতি বার-বার হোঁচট খেয়েছে, মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজনীতিবিদদেরই কারনে, বাংলাদেশ তার অন্যতম। আত্মসর্বস্ব রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে যখনই নাভী পীড়ন শুরু হয়েছে তখনই আমরা শরণাপন্ন হয়েছি বিচারকদের। কিন্তু সঙ্কট ফুরোলে এই বিচারকদেরই আমরা সমালোচনায় জর্জরিত করেছি। এই নিকট অতীতেও রাজনৈতিক স্বার্থে আঘাত এলে আমরা বিচার ব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দেয়ার মতো দুস্কর্মে মেতে উঠেছি। আমরা লগি-বৈঠা নিয়ে ঘেরাও করেছি হাইকোর্ট। স্বার্থের পরিপন্থী রায় এলেই আমরা বলেছি অমুক বিচারপতি দলবাজ, অমুক বিচারপতি ‘চেহারা দেখে’ বিচারকার্য পরিচালনা করেন!

আমরা জানি বাংলাদেশের গত একচল্লিশ বছরের ইতিহাসে বেশিরভাগ সময় বিচারপতি পদে নিয়োগ হয়েছে রাজনৈতিক সরকারের অধীন। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করি- যে সরকারের অধীনেই তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হউন না কেন, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, সততা এবং কর্ম দক্ষতায় তাদের মনোনয়ন যথাযথ। আমরা এও বিশ্বাস করি, দু’একটি প্রমাদ দৃষ্টি এড়িয়ে গেলে আমাদের বিচারপতিরা দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ। রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিক বিচারকের দ্বারস্থ হলে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। সে ভরসায় আমরা বীর দর্পে পথ চলি, নিজের অধিকার সম্পর্কে যেমন সচেতন থাকি, তেমনি সজাগ থাকি অপরের অধিকার রক্ষার ব্যাপারেও। গণতন্ত্রের এ সার্বজনীন শিক্ষায়ও আমরা অভ্যস্থ হচ্ছি, আমাদের সমাজে ন্যূনতম হলেও ন্যায় বিচারের গ্যারান্টি আছে বলে!

কিন্তু আমরা ভাবি এক, হয় আরেক। আমাদের সরল ভাবনায় হূল ফোটায় কূট এবং সার্থান্ধ রাজনীতি। এ রাজনীতি সমাজের অপরাপর প্রতিষ্ঠানের মতো কলুষিত করে বিচার ব্যবস্থাকেও। বিচার বিভাগকেও তার নিয়ম শৃঙ্খলায় থাকতে দেয় না। ১৯৯১ সাল থেকে গত একুশ বছরের ইতিহাসে আমরা তাই দেখেছি। প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে এক অশ্লীল রাজনীতির মহড়া আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিচ্ছিল। সৌভাগ্যবশত আবারও বিচারপতিরাই এই পঙ্কিল আবর্ত থেকে নিজেদের বের করে আনার এক অসম সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই দেখে আমি পুলকিত।
আমি আশাবাদী। নিশ্চয় ক্ষমতার লালসায় বিচারের বাণী আর নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না। এক শক্তিশালী বাংলাদেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মর্যাদা নিয়ে বেড়ে উঠবে! আমাদের সংবিধানকে, নিরীহ জনগণকে যে বা যারাই পদভারে পিষ্ট করুক, আমাদের বিচারপতিরা চোখে কালো রুমাল বেঁধে দাড়াবেন জনগণের পক্ষে। ১৯৯০ সালের ৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিয়ে প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন যেমন এক হাতে ক্ষমতার দণ্ড, আরেক হাতে বিচারের তোলা দণ্ড নিয়ে দাড়িয়েছিলেন এক তেজি ঘোড়ার মতো। আজ তেমনি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকও এক যুগান্তকারী রায়ে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন রাজনৈতিক ক্ষমতার সিঁড়ি থেকে। আমার কাছে মনে হয়েছে- বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের মতো তিনিও এক অসম সাহসী যোদ্ধা। স্রোতের বিপরীতে যেন দাঁড়িয়ে বলছেন- “তোমরা বিচারকদের আর বলির পাঠা করো না, বিচার ব্যবস্থা থেকে মানুষের আস্থা মুছে দিও না!”

আমাদের বিচারকদের এই মহানুভবতা দেখে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা আরো গভীর হয়! আমার মতো এক নগণ্য পরবাসীর এই আকুতি আর সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসেই এই লেখা। বিশ্বাস করুন- বাংলাদেশের রাজনীতিকে নিজের পায়ে ভর করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন তারা। ক্ষমতার হালুয়া-রুটির তোয়াক্কা না করে রাজনীতিবিদরা যদি জনগণের স্বার্থে এক হতে না পারেন তাহলে তাদের জন্য দূর্দিন অপেক্ষা করছে। বিচারপতিদের কাঁধে ভর করে যদি ক্রমাগতভাবে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে থাকেন, তাহলে তাদের ‘আমও যাবে, ছালাও যাবে”!

আমরা একই সঙ্গে রাজনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক এবং ন্যায়-বিচারের সঙ্কটে ধাবিত হবো। সমাজে রাজনীতি ক্ষণভঙ্গুর হতে পারে, কিন্তু যখন ন্যায়-বিচারের কোন ভরসাস্থল থাকে না, তখন সে সমাজে অনাচার, ক্যানিবলিজম অঙ্কুরিত হয়। আর আমাদের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে, যেখানে মানুষের অনুপাতে পুলিশ এবং বিচারালয়ের সংখ্যা অতি নগণ্য, সেখানে একবার আইন অমান্যের ঘটনা ঘটতে থাকলে, এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে, রোধ করা কঠিন হবে। কারন বাংলাদেশ আর আগের অবস্থানে নেই। সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট, এবং দরিদ্রের পক্ষে আইনের দ্বারস্থ হওয়া দিনে-দিনে একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠছে!

বিচারপতি বনাম রাজনীতিবিদ
ক্ষমতার লড়াইয়ে রাজনীতিবিদ সব সময় অগ্রগামী। কিন্তু বাংলাদেশে কাদের শাসনে জনগণ সবচেয়ে বেশি সস্থিতে থাকে, এ ধরণের কোন জরীপ পরিচালিত হলে দেখা যাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। কারন আর কিছু নয়, তত্ত্বাবধায়কের সময় ন্যায়-বিচারের গ্যারান্টি থাকে বলে। তত্ত্বাবধায়কের সময় যে জনজীবন থাকে শীতল, রাজনৈতিক সরকারের সময়ই তা হয়ে যায় উষ্ণ, চঞ্চল। অথচ রাজনীতিবিদের শাসনেই মানুষের শান্তি ও সস্থি নিশ্চিত হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় না কেন? হয় না, কারন রাজনীতিকে আমরা প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতার পেশি শক্তিতে পরিণত হতে দিয়েছি।

আমরা বেছে-বেছে তাদেরকেই নির্বাচনে মনোয়ন দেই, অর্থ ও বাহুর পেশিতে যারা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবে। বেছে-বেছে তাদেরকেই আমরা মন্ত্রিত্বে বসাই, যারা হবে আজ্ঞাবহ এবং ক্ষমতার তল্পিবাহক! পরাজিত দলকে কোনঠাঁসা করার জন্য আমাদের সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান। জনগণের কস্ট লাঘব করাকে আমরা মূখ্য বিবেচনা করি না। আমাদের আজনীতি তাই জনবিমুখ! আমাদের এই জনবিমুখ রাজনীতির জন্যই আমরা মাঝে মাঝে দেউলে হয়ে যাই। ভিক্ষে মাগি দ্বারে-দ্বারে। বিচারপতিদের হাতে পায়ে ধরে ক্ষমতায় বসাই। শরীরে একটু মেধ জমে গেলে আবার বলি ‘তুই কে রে?’ এই ‘দূর্বলের রাজনীতি’ সাধারণ মানুষের বুঝতে কস্ট হয় না।

ফিরে দেখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার
বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হ্য় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। তখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত নয়। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি রাস্তায় সেনাবাহিনী নামিয়ে ভোটার বিহীন নির্বাচন করে। সে নির্বাচনের পর বিএনপি সংসদে আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন পাশ করে। আওয়ামী লীগ সংসদের বাইরে থেকে তাতে সম্মতি জানায়। বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের জনপ্রিয়তার উপর ভর করে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক চাতুর্যের পরিচয় দেন তাকে নাম কা ওয়াস্তে রাস্ট্রপতি বানিয়ে!

এরপর শুরু হয় বিচারপতিদের নিয়ে রাজনীতির কর্দমাক্ত মাঠে ফুটবল খেলা। ক্ষমতার মদমত্ততায় শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া উভয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলেন জনগণের উপর। খুঁজতে থাকেন অনুগত বিচারপতি। তাদের ধারণা- (তাদের অধীন চাকরিরত?) এই বিচারপতিরাই তাদেরকে ক্ষমতায় বসাতে ‘মই’য়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন! কিন্তু বিধি বাম! বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খালেদার কাছে ধরাশায়ী হলেন শেখ হাসিনা! সেটি অস্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। মনের ক্ষোভ আর মনে ধরে রাখতে পারলেন না ‘অস্থির’ শেখ হাসিনা। বলে ফেললেন- ‘বিচারপতি লতিফুর বেঈমান’!

ক্ষমতায় এসে এবার খালেদা জিয়া আর ‘রিস্ক’ নিতে রাজি না। আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদের কূটবুদ্ধিতে প্রধান বিচারপতির চাকরির বয়স সীমা বাড়িয়ে পরিস্থিতি এমনভাবে রচনা করলেন, যাতে সবচেয়ে বোকা লোকটির মনেও কোন সন্দেহ না থাকে যে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হবেন ‘বিএনপির লোক’। ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হলো হাওয়া ভবন থেকে। যাতে কোন বিচারপতির প্রতিই আর কারো আস্থা না থাকে। রাস্তায় পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে দেশে এমন এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো, যাতে ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ একাধারে রাস্ট্রপতি এবং অত্ততবাবধায়ক সরকার প্রধান হয়ে গেলেন। অনিবার্য পরিণতি- এগারোই জানুয়ারি ২০০৭ (ওয়ান এলিভেন)।

দেখা যাচ্ছে- গত একুশ বছরে একমাত্র বিচারপতি শাহাবুদ্দীন সরকারের অধীন প্রথম নির্বাচন ছাড়া আর কোন নির্বাচনই প্রশ্নহীন ছিল না। অবশ্য সে নির্বাচনকেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন- সূক্ষ্ম কারচূপি’র নির্বাচন! বিচারপতিদের পায়ে ধরে ডেকে এনে তাদের শরীরে কাঁদা ছিটিয়ে অপমান করার এই ‘ছোটলোকি’ মানসিকতাকে বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। রাজনীতির এই দৈন্য দশা বিচারপতিরা দেরিতে হলেও আঁচ করতে পেরেছেন, এটাই শুভ দিক!

রাজনীতি ভাল কিংবা মন্দ যাই হউক, রাজনীতির পঙ্কিল আবর্ত থেকে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ছিল সময়ের দাবি। বিচারপতি খায়রুল হক আরো কয়েক জন বিচারপতিকে সঙ্গে নিয়ে সে দাবি তামিল করেছেন, আমার কাছে সে কারনেই তিনি বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের মতো আরেক জন অকুতোভয় সেনাপতি। স্রোতের বিরুদ্ধে দাড়াবার মতো সৎ সাহস যাদের এখনো অবশিষ্ট আছে!

ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা
২০১১ সালের মে মাসে আংশিক রায়ে বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বলেছিলেন ‘অসাংবিধানিক’। আংশিক রায় শুনে শেখ হাসিনার সরকার আর বিলম্ব করেনি। সংসদে আইন পাশ করে ফেলেছে- ভবিষ্যতের নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে। আমাদের রাজনীতিবিদরা যে কতটা আবিম্রিশ্যকারী (বানানটা কি ঠিক লিখলাম?), তার জ্বলন্ত প্রমাণ এটি। অথচ রায়ে তারা স্পষ্টত আগামী দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে অনুষ্ঠানের পক্ষে বলেছেন। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারটি কি ধরণের হবে, তা রাজনীতিবিদদের ঠিক করতে বলেছেন।
বিএনপি’র আপত্তি এখানেই। তারা সংসদে যায় না। ঠুনকো অজুহাতে জনগণের কোন দাবি দাওয়ার সঙ্গে তারা একাত্ম নয়। তাহলে এরা কাদের স্বার্থ তামিল করেন? বিএনপি মনে করে গত কুড়ি বছরের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন দলের উপর বিরক্ত হয়েই জনগণ তাদের নির্বাচিত করবে, যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আবার নির্বাচিত না হতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেই দোষারোপ করার, মাঠ গরম করার এন্তার সুযোগ কাজে লাগানো যাবে!

প্রান্তজনের প্রস্তাব
আমি বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষদের একজন। আমার জীবন কাটে প্রবাসের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে। প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার। গ্রামের কোন এক নিরন্ন কুঠির থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার। কারণ দেশটির প্রতি আমার অনেক ঋণ! আমার একটি ‘স্থূল’ প্রস্তাব দিয়েই এ লেখার ইতি টানছি। প্রস্তাবটি হলো- আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র কয়েক জন সিনিয়র আইনজীবী মিলে আপনারা যে কোন ঘরোয়া আলোচনায় হলেও মিলিত হন। প্রয়োজনে সে আলোচনায় ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ডঃ জহির প্রমুখকে (মডারেটর হিসেবে) উপস্থিত রাখুন। মোটাদাগে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি কাঠামো দাঁড় করান। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের মধ্যস্থতার অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। আপনাদের মনে আছে কি না- ১৯৯৫ সালের দিকে কমনয়েলথ মহাসচিব (নিধিরাম সর্দার) স্যার নিনিয়ানের নেতৃত্বে মধ্যস্থতায় আপনারা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় লাইন ধরে আসা-যাওয়া করেছেন ‘মধ্যস্থতার আশায়’। তখনও মধ্যস্থতা হয়নি। কাজেই সমাধানের সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই শুরু করুন। মনে রাখবেন- রাজনীতির প্রতিযোগিতায় জনগণ যেমন দর্শক, তেমনি বিচারকও। আর পুরষ্কারও দেয় এই জনগণই। আর তিরস্কার! সে তো জানেনই। ক্ষমতা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে। ‘ওয়ান এলিভেনের সরকার’ সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছিল রাজনীতিবিদদের হাতে হাতকড়া, এবং পায়ে বেড়ি পরিয়ে। জনগণের যে কোন আদালত অত্যন্ত নির্মম এবং ভয়াবহ! তা ভাবতে এখনো আমার কষ্ট হয়!

নিউইয়র্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২