ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আশির দশকের মাঝামাঝি চট্টগ্রামে রাশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে “দ্যা ব্যালাড অফ এ সোলজার” ছবিটির দৃশ্যপট এখনো আমার অন্তরে গাঁথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একজন সৈনিকের বীরত্ব গাঁথা নিয়ে এ ছবিটি। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে কোন একজন সৈনিকের বীরত্ব গাঁথা নিয়ে কোন চলচ্চিত্রের সাক্ষাত আমি অন্তত এখনো পাইনি। যদি এমন ছবি কখনো নির্মিত হতো, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে ‘বাঘা কাদের সিদ্দিকী’ নামেই হতো। কারন কাদের সিদ্দিকী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অহংকার!

মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর ভূমিকা আমাদের শৈশবে ছিল কিংবদন্তির মতো। ১৯৭৫-এ সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর এই বাঘা কাদের নির্বাসনে চলে গেলেন ভারতে। আওয়ামী লীগের এতোসব নেতা-পাতি নেতার ভীড়ে কাদের সিদ্দিকী নামটি কখনো সমুজ্জ্বল ছিল না? এর যতটা না তিনি বয়সে নবীন হওয়ার কারনে, তারচেয়ে বেশি তার আপোষহীন চারিত্রিক দৃঢ়তার কারনে। রাজনীতিতে তার কোন মূল্য নেই। যেমন তাকে নেতা হিসেবে কেউ মানে না, তেমনি ক্ষমতার ধারে কাছেও তিনি ভীড়েন না। তার নাম সর্বস্ব দলের খবরাখবর যেমন পত্রিকার পাতায় আসে না, তেমনি তিনিও কখনো খবরের শিরোনাম হন না। তবে টিভি পর্দার সময় ক্ষেপনের জন্য তাকে কেউ কেউ ডাকেন কালে ভদ্রে! সেই টিভিটি যদি আবার মুক্তিযুদ্ধের বার্তাবাহক(?) না হয়, তাহলেও সমালোচনার ঝড় আসে কাদের সিদ্দিকীর উপরই।

কাদের সিদ্দিকী কি আওয়ামী লীগের? না কি যে আওয়ামী লীগ তিনি চেয়েছিলেন, সেই আওয়ামী লিগ আজ লক্ষ্যচ্যুত! কাদের সিদিকী কি দিগভ্রান্ত? না কি আওয়ামী লীগই আজ দিক হারিয়ে ফেলেছে মোসাহেবদের কারনে! বাংলাদেশের যে প্রজন্মটি মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছে, আজ তাদের কাছে কাদের সিদ্দিকীর অবদান এবং ভূমিকার বিষয়ে জবাব প্রয়োজন। অন্ধ এবং মোসাহেবি রাজনীতির ভীড় ঠেলে কাদের সিদ্দিকীকে খুঁজে বের করে আনতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে, রাজনীতির স্বার্থে। আমরা একজন বীরকে ধুলোয় হারিয়ে যেতে দিতে পারি না!

ফিরে দেখা
’৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর কাদের সিদ্দিকী পালিয়ে (অথবা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে) গেলেন কেন? কারন তিনি বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসতেন। তিনি ভাবতেন, এই বঙ্গবন্ধুই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের কারিগর! বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশ তাই তাঁর কাছে ছিল বিস্বাদ। নেতা হীন এই বাংলাদেশে নিঃশ্বাস নেয়াও তাঁর কাছে ছিল কস্টের, বেদনার! আমার প্রজন্মের যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা উত্তর ঘাত প্রতিঘাতে বড় হয়েছে, তাদের কাছে রয়েছে কাদের সিদ্দিকীসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার বেদনার ভার!

বাংলাদেশকে যারা অন্যায়, শোষণ-শাসনের নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন তারাই আমাদের গর্বের মুক্তিযোদ্ধা। যে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার-হাজার তরুণ যুবককে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উতসাহিত করেছিলেন, কাদের সিদ্দিকী ছিলেন সেই তারুণ্যের প্রতিভূ। নিজের জীবনকেই শুধু নয়, কাদেরিয়া বাহিনীর অন্তত দশ হাজার তরুণতরুণীর জীবনকেও সঁপে দিয়েছিলেন দেশপ্রেমের মহা অগ্নি পরীক্ষায়! সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর মতো কাদের সিদ্দিকীও ছিলেন আমার কাছে এক স্বপ্নের পুরুষ, এক নির্ভেজাল নায়ক!

১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের তৎকালীন খুনী খন্দকার মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে একটি মাত্র লোকও যদি বিদ্রোহের হুংকার ছাড়ে, সেই লোকটি ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে, আপোষ করে অনেকে রাজনীতিতে টিকে থেকেছেন। অনেকে মন্ত্রীও হয়েছেন। কিন্তু কাদের সিদ্দিকী তা করেননি। একজন স্পষ্টবাদী মানুষকে যদি চারণের বেশ নিতে হয়, অন্তত তাও ভাল। এই ঘুণে ধরা রাজনীতির কবরে যদি নতুন দিনের আশায় কেউ একটি বীজও বপন করে, তাও ভাল। স্বার্থবাজ পা’চাটা দলের নেতা হওয়ার চেয়ে কিছু করতে না পারাও অনেক ভাল। অন্তত দুর্নীতি পরায়ণ আত্মস্বার্থ পরায়ণদের দিকে অঙ্গুলি নিরদেশ করা যাবে।

দুর্ভাগ্যবশত ৭৫-এর পর যারা দলটিকে সচল রাখার চেষ্টা করেছিলেন তারাও আজ নিজ গৃহে পরবাসী! না দলের, না দেশের। পর্দার বাইরে, অথবা অন্তরালে তাদের ভূমিকা নেই কোথাও। একজন তোফায়েল আহমেদ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হলেও ‘বার্ধক্যের অজুহাতে’ তাকেও অকর্মা করে রাখা হয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ আর আদর্শের মহিমায় এরা ত্যাগীপ্রাণ করে তুলতে পারতেন আওয়ামী লীগের নতুন প্রজন্মকে। ষার্ধ বছরের আওয়ামী লীগে আজ যারা আসে, তারা কেবল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বেড়ে উঠছে। তাইতো দুর্নীতির বড় বড় সব ক্যালেঙ্কারিতে ভেসে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ নামধারী এসব নব্য রাজাকারেরা।

কাছে থেকে দেখা কাদের সিদ্দিকী
কাদের সিদ্দিকী যেদিন দেশে ফিরলেন, বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলাম আমি একজন রিপোর্টার। তাকে এক নজর দেখা, তার কথা শোনার জন্য সাধারণের মতো আমিও ছিলাম ব্যাকুল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক বলয় সৃষ্টির যে অশনি সঙ্কেত যারা সেদিন আঁচ করতে পেরেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলাম আমিও। মনে হয়েছিল একজন মহানায়কের যাদুর পরশে বোধ হয় আবার জেগে উঠবেন বঙ্গবন্ধু। দারিদ্রপীড়িত এ দেশের লক্ষ কোটি মানুষ হয়তো আবার স্বপ্ন দেখতে পাবে একটি শোষণ হীন সুখী বাংলাদেশের। দুর্ভাগ্য বশত সেই স্বপ্নের কিছুই আজ আর অবশিষ্ট নেই। ক্ষমতার আয়েস, আর দুর্নীতির রাহুগ্রাসে বন্দী স্বপ্নের রাজ কুমারেরা!

কাদের সিদ্দিকী দেশে ফিরে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে মৃত বঙ্গবন্ধুকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। ১৯৯০-এ গণতান্ত্রিক বিজয় অর্জনের পর প্রথম বারের মতো তিনি শুরু করেন টুঙ্গিপাড়ায় তিন দিনব্যাপী জাতীয় শোক সমাবেশের। সেটা খুব সম্ভবত ১৯৯২ সালের ১৫ই আগস্ট। ঢাকা থেকে দুটি মিনিবাস বোঝাই হয়ে সাংবাদিকরা যান টুঙ্গিপাড়ায়। একজন নবীন রিপোর্টার হিসেবে আমিও ছিলাম সে ঘটনার সাক্ষ্মী। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন একদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। মঞ্চে শেখ হাসিনাকে তিনি সম্বোধন করেছিলেন বোন হিসেবে। ঢাকা থেকে জাতীয় পর্যায় অথবা আওয়ামী ঘরানার কোন বুদ্ধিজীবীই বাদ পড়েননি সেদিন।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের সমাবেশ স্থলে যাওয়া-আসার জন্য কাদের সিদ্দিকীর একমাত্র বাহন ছিল একটি খোলা প্যাডেল ভ্যান। গ্রামের আটপৌরে সাধারন মানুষের মতো লুঙ্গি-গামছায় হাত-পা ছেড়ে সমাবেশ আর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত কাদের সিদ্দিকীর আসা-যাওয়ার ব্যস্ততা এখনো ভাসে চোখের কোণে। কেতাদুরস্থ পাঞ্জাবী-শেরওয়ানীর প্রয়োজন নেই এই বাঘা কাদেরের। এই স্বপ্নের কাদামাটির বাংলাদেশ, আর এর প্রান্তিক মানুষেরাই তার পরিজন! ঢাকা থেকে আগত রিপোর্টারদের নিদ্রা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর প্রতিদিনকার ব্যস্ততায় সেদিন এই নায়কের আরেকটি দিক উন্মোচিত করে, সেটি ছিল ‘সংগঠক কাদের সিদ্দিকী’।

কাদের সিদ্দিকীর ঠিকানা হওয়া উচিত ছিল আওয়ামী লীগই। দুর্দিনের বন্ধুই যদি প্রকৃত বন্ধু হয়, তাহলে কাদের সিদ্দিকী নামের বাইরে আর কারো সঙ্গে আপোষ করা চলে না। অথচ আমরা আজ কি দেখি? পুরাতনদের ঠেলে ঘরের ভেতর বন্দী করে যে নতুন নাবালকদের হাতে দলটির ভার সপে দেয়া হলো, তার পরিণাম বিচার বিশ্লেষণ করবেন আওয়ামী লীগাররা। কিন্তু যারা রাজনীতিকে জনমুখী কিংবা কল্যাণমুখী হিসেবে দেখতে চায়, তাদের বিচারে এটি মনে হবে আত্মঘাতি। রাজনীতিকে রাজনীতিবিদের নাগালের বাইরে রেখে যদি ‘মোসাহেব’-এর দল তৈরি করা হয়, তাহলে সে রাজনীতিও পরিণত হয় একনায়কতন্ত্রে!

বাংলাদেশে কেন এখনো রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, এখনো কেন সামরিক শাসন ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দেয়, তার অন্তর্নিহিত কারন অনুসন্ধানের প্রয়োজন আজ। যোগ্যতরের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হয়ে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পারিবারিক সূত্রে। তাও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু সেই নেতৃত্ব যখন দলে গণতন্রের টুঁটি চেপে ধরে মোসাহেব তৈরিতে মগ্ন হয়, তখন কিছু একটা গড়বড় লাগে! দুর্ভাগ্যবশত পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরাও এখন আমাদের দেশের রাজনীতি নিয়ে পরিহাস করে। কিছুদিন আগে সে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানী বলেছেন- ‘কার্যকর সংসদ বিহীন বাংলাদেশে কোথায় কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা তিনি জানেন না’। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিকেও তিনি এই খারাপ নজিরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এমন বাংলাদেশ এবং এমন গণতন্ত্র নিঃসন্দেহে আমাদের কাম্য ছিল না!

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যখনই কোথাও আলোচনা হয়, অনেকে দায়হীন একটি উক্তি ছেড়ে আসর থেকে বিদেয় নেন। সেটা হলো- ‘দূর ছাই, বাংলাদেশে কোন নেতা নেই!’ এরা ভাবেন নেতা থাকবে আকাশে-পাতালে, গাছে অথবা জঙ্গলে! নেতা কি মানুষের মাঝে থাকতে পারেন? আমাদের বর্তমান বিভক্ত বাংলাদেশেও কেউ নেতা খোঁজে পান না। কারো নাম উচ্চারিত হলেই আমরা শরীরের গন্ধ খুজি, তাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি অথবা জামাতের কোন স্বাদ পাওয়া যায় কি না। এর কারন একটিই মনে হয়- আমরা এক ধরণের স্বার্থের জাল বুনে ফেলেছি আওয়ামী লীগ, বিএনপি অথবা জামাত-জাপা ঘিরে। লুটেপুটে খাওয়ার এক সর্বগ্রাসী মানসিকতা ক্যান্সারের মতো বিস্তৃতি লাভ করছে! রাজনীতি এবং ধর্মের হাতিয়ার পরিচালিত হচ্ছে একই লক্ষে। কার আগে কে কত বেশি টাকা-পয়সা, জায়গা-জমির মালিক হতে পারে!

কাদের সিদ্দিকীর সাম্প্রতিক লেখা থেকে
কাদের সিদ্দিকী একজন নিয়মিত লেখকও। নির্বাসনে থেকে তিনি কয়েকটি বইও লেখেছেন, এখনো লিখছেন। তার প্রতিটি লেখা মনযোগের দাবি রাখে। সাম্প্রতিক একটি লেখায় তাঁর কাছে ৩৬ বছর আগে শেখ হাসিনার লেখা একটি চিঠির উল্লেখ করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা লেখেছেন- “ভাই, আপনার চিঠি পেয়েছি। উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেল। কি লিখব বলেন? আপনাদের মুখ চেয়েই বসে আছি। অনেক দিন থেকেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু সম্ভব হয় নাই। চিঠি পেয়ে যে কেমন লেগেছে তা বলতে পারব না। আপনারাই আমাদের ভরসা। কি অন্যায় করেছিলাম যে আজ বাবা-মার কবরটা পর্যন্ত দেখতে পারব না। আব্বার এত বড় ভালোবাসার মূল্য বাঙালি এভাবেই প্রতিদান দিল? তবে সবাই যে বিশ্বাস ঘাতক না আপনারা তা প্রমাণ করেছেন। আমাদের সংগ্রামী অভিনন্দন রইল আপনাদের জন্য। বিশ্বাসঘাতকদের কোনোমতেই ক্ষমা করবেন না। দ্বিতীয় বিপ্লবকে সফল করতেই হবে এবং সেটাই হবে আপনাদের ও আমাদের ত্যাগের একমাত্র সার্থকতা। ভাই, অনেক কথা লিখতে ইচ্ছে করে কিন্তু লেখার মতো মন ও ভাষা নেই। আমরা বেঁচে আছি দুটো অপদার্থ। দোয়া করবেন। আপনাদের পাশে আছি। দোয়া করবেন। চিঠির ব্যাপার সম্পূর্ণ গোপন রাখবেন। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা। ইতি- আপনার বোনেরা”

এই চিঠির উল্লেখ শেষেই কাদের সিদ্দিকী বলছেন- ‘চিঠিতে আমার নাম লেখারও সাহস করেননি। বীর-টির কিছু একটা লিখতে গিয়ে কেটে দিয়েছেন। নিচে দুই বোনের নাম লিখে তাও আবার কেটেছেন। সর্বশেষ চিঠি গোপণ রাখতে বলেছিলেন। ৩৬ বছর গোপন রেখেছিলাম। এখন আর সম্ভব হলো না। বুকের ভেতর যে খাঁচায় আগলে রেখেছিলাম সে খাঁচা ভেঙ্গে খান খান হয়ে বহু অমূল্য সম্পদ নস্ট হয়ে গেছে। সেখান থেকে কুড়িয়ে যা দু’একটা পেয়েছি তা-ই জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।’

শেষ কথা
নেতাহীন ক্ষণভঙ্গুর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখনই মনে হয়েছে কোন শূন্যতা, তখনই চোখের সামনে ভেসে উঠেছেন কাদের সিদ্দিকী। যে কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে স্বেচ্ছা নির্বাসন বরণ করে নিতে পারেন, সেই কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশের মানুষকে কখনো নিরাশ করবেন না!

কাদের সিদ্দিকীর জন্য আমার দুঃখ হয়। তিনি আমাদের বঙ্গবীর বাঘা কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম। নির্ভেজাল দেশপ্রেম ছাড়াও দেশটি তার কাছ থেকে অনেক কিছু পেতে পারতো। কিন্তু আমি কিংবা আমরা তাকে সে সুযোগ করে দিতে পারিনি। সে দায়ভোগের অন্তরজ্বালা নিয়েই লেখাটির ইতি টানছি।

নিউইয়র্ক, ১০ই অক্টোবর ২০১২