ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
1

…………………………
মাটি ছেড়ে অনেক দূরে বলেই হয়ত দেশটাকে দেখতে পাই অনেক বড় ক্যানভাসে। এবং এই দেখতে যেয়ে সজনে-বিজনে আমাদের চিরচেনা বাংলাকে এখন খুঁজে পেতে খানিকটা কষ্ট হয়! যেন আমাদের এই সরল-সোজা মাটির মানুষগুলোকে ছেড়ে বিধাতা এখন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছেন! কথা বলতে যেয়ে অনেক সময় আটকে যাই- কারন আমিও তো সেই স্বার্থপর বিধাতারই অনুসারী!

দেশে কেন এত অপমৃত্যু! কুটুম বাড়ি যেতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় শত-শত মানুষের মৃত্যু, সড়কে গাড়িতে আগুণে বোমা ছুঁড়ে শত মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, পূণ্যস্নানে গেলে সেখানেও ডজন খানেক মৃত্যু! মৃত্যু ঠেকাতে কি আমাদের কোনো আয়োজনই নেই? দেশ থেকে সেচ্ছাসেবকরাও কি সবাই বিদেশে পালিয়ে গেল? নাকি সবাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ কিংবা দলের সদস্য? তাছাড়া এই রাষ্ট্র, এই প্রশাসন সবাই কি কেবল নীরব দর্শক?

এত সব অপমৃত্যু কি আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রের চিন্তাবিদদের চেতনায় সামান্য রেখাপাত করে না? দেশ থেকে কি সেচ্ছাসেবকের ধারনা একেবারে উধাও হয়ে গেল? স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং তার পরের দিনগুলোতে বেড়ে উঠা প্রজন্ম আমার। যে কোনো খেলাধুলা, সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে বাহুতে পট্টি বেঁধে স্বেচ্ছাসেবক সেজেছি গর্বিত মনে। আজকালকার তরুণদের মনে কি স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার বিন্দুমাত্র গৌরববোধ নেই? না-কি ভাল কাজে তাদের উতসাহিত করার লোকগুলোই আজ সমাজে অপাংক্তেয়?

ভাল কথা- আমরা বৈষয়িক উন্নতি লাভ করছি। কিন্তু এই উন্নতি কি আদৌ টেকসই হবে যদি সমাজের মানবিক উন্নতি না ঘটে? মানুষের মধ্যে যদি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় না হয়, ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’- সমাজে এই চেতনা জাগ্রত না হলে এমন উন্নতি আমাদের আদৌ প্রয়োজন আছে কি? মানুষকে বাঁচানো সবার দায়িত্ব, কেবল হিন্দু কিংবা মুসলমানের নয়! বিশ্বাস করুন- রাস্তাঘাটে, কল-কারখানায়, এমনকি যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তেও আমরা অপমৃত্যু ঠেকাতে পারি যদি কিছু লোক সচেতন হই, সেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করি! তবে এ কাজে সমাজের অপরাপর অংশের মত রাজনীতিবিদদেরও নেতৃত্ব নেয়ার অবকাশ আছে। যারা এই নেতৃত্ব নেবেন, তারাই হবেন আমাদের বর্তমান-ভবিষ্যতের সকল ভরসার স্থল, তারাই হবেন আমাদের নেতা!

নিউইয়র্ক, ২৮ মার্চ ২০১৫

ছবিঃ বিডিনিউজের সৌজন্যে