ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

লিটন
 

 

 

 

বাঙালি মুসলমান আসলে এক জটিল চরিত্র। যে লোকটি জামাত-শিবিরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে, সে লোকটিই আবার বলে- ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাকি হিন্দুদের উম্মাধারি! দিনে যে লোকটি নিজেকে বাঙালি বলে, পান্তা-ইলিশ না খেলে নিজেকে বাঙালি ভাবতে লজ্জা বোধ করে, সে লোকটিই কোনো শিল্পের প্রকাশ দেখলে বলে উঠে- ‘এটা নিছক হিন্দু কালচার’! শোভাযাত্রায় জীবযন্তুর মূর্তি দেখে বলে- ‘এসব মূর্তি পূজা’!

আমরা যে কেবল মুসলিম কিংবা হিন্দু নই, আমরা বিশ্ব নাগরিক, বিশ্বের যা কিছু মঙ্গলময় তার সবই উত্তরাধিকার আমরা, তা বিশ্বাস করতে ইতস্তত বোধ করে। সব সময় ভাবে ‘হিন্দু’ই বুঝি তার একমাত্র প্রতিপক্ষ! আসলে বাঙালি মুসলমানের কালচার এখনও থিতু হয়নি। অর্থের দারিদ্র ঘুচলে মনের দারিদ্রও হয়ত একদিন ঘুচবে! বিশ্বলোকে তাকানোর সুযোগ পাবে। তার আগ পর্যন্ত হিন্দু-মুসলিমের এই টানাপোড়েন থাকবেই। তবে এই টানাপোড়েনের প্রকাশ যদি সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ধাবিত হয়, নাস্তিক তকমা দিয়ে অভিজিতকে হত্যায় উদ্বুদ্ধ করে, সেটাই ভয়ঙ্কর।

যারা শিল্পের চর্চা করেন, শিল্পের প্রকাশ ঘটাতে চান বাঙালির সত্ত্বায়, তাদেরকে বাঙালি মুসলমানের মনোজগতের এই দৈন্যতা অনুধাবনের অনুরোধ করি। এই ইন্টারনেটের যুগে অন্ধকারের শক্তি কেবল অন্ধকার খুঁজে। অন্ধকারেই তারা সংগঠিত হয়, বেড়ে উঠে। এদেরকে চেনা খুব কস্টকর। এরা জিন্স-টি শার্ট পরে, কিন্তু থলেতে রাখে কসাইয়ের ছুরি। এরা দলকানা, দলে থেকে পুস্টি লাভ করে। এরা যদি তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ দলের ছত্রচ্ছায়ায়ও অন্ধকারে জামাত-শিবিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তাতেও বিচলিত হবেন না!

লিটনকে ধন্যবাদ
…………………
ধন্যবাদ লিটন। তোমার ভগ্ন হাতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এখন থেকে মেয়র ইলেকশনের প্রস্তুতি নেও। তোমাকে আমি আজ টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে দেখেছি। মনে হয়েছে তোমার মত স্বেচ্ছাসেবকের প্রয়োজন আজ সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক দলের বরকন্দাজ আমরা চাই না, চাই লিটনের মত স্বেচ্ছাসেবক। তুমি হিন্দু নও, মুসলমান নও, তুমি মানব প্রেমিক, সত্যের সৈনিক।