ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 
1

স্বাধীনতার সংজ্ঞা কি, তা জানার জন্য পুঁথি-কেতাব ঘাঁটার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি, সামাজিক, ধর্ম ও রাস্ট্রীয় জীবনে আমরা কতোটা স্বাধীনতা ভোগ করি তা নিজেকে প্রশ্ন করলেই জানা যায়। কারন স্বাধীনতার সংজ্ঞা ব্যক্তি বিশেষে রকম ফের। যেমন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো লোককে জিজ্ঞেস করলে তার কাছে স্বাধীনতার সংজ্ঞা- ঠিকমত খেয়ে পড়ে বাঁচা। বাংলাদেশের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হয়ত বলবে- মিছিল মিটিং করার স্বাধীনতা। ধর্ম পালন করা, কিংবা না করারও যে স্বাধীনতা আছে, সে সেটা বুঝতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে, থাকবে। নিজ দেশের কর্পোরেটগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কতোটা স্বাধীনতা দেয় বহির্বিশ্বে পুঁজি খাটানোর জন্য, তা নিয়েও বিস্তর সমালোচনা আছে। বহির্বিশ্বে বিশেষত চায়নায় গত ত্রিশ বছরে পুঁজি ও প্রযুক্তি চালান করে খোদ যুক্তরাস্ট্রই যে পণ্য উৎপাদনের আজ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে তা তো আর অজানা নয়।

এলজিবিটি-দের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার ভোগ করার অধিকার দিয়ে খোদ রবার্ট মুগাবের মত স্বৈরাচারীও সমালোচনায় পিছ পা হচ্ছে না। আসলে দেখা উচিত- নাগরিকরা এখানে কতোটা স্বাধীনতা ভোগ করেন, আর একই স্বাধীনতা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নাগরিকরা ভোগ করেন কি-না?

23
লেখায় সংযুক্ত ছবিগুলো কয়েকটি মসজিদের। অন্তত দু’টি গড়ে উঠেছে চার্চের উপর। মসজিদগুলো আমার বাড়ির আশেপাশে বলেই আমি জানি। ওয়েস্টচেস্টার মুসলিম সেন্টার নামের মসজিদের কাঠামো এখনও পরিবর্তন হয়নি, এখনও চার্চের কাঠামোতেই আছে। সেটি কেনা হয়েছে কয়েক বছর আগে। মাত্র গত বছর মিলিয়ন ডলারে এর বর্ধিতাংশ কেনা হয়েছে। কিনেছেন স্থানীয় মুসলিমরাই। আর আমাদের পাশের নিউবার্গ মদিনা মসজিদটি গড়ে উঠেছে চার্চ ভেঙ্গে। এর আয়তন ১৫ হাজার বর্গফুট। চার্চটি খালি পড়ে থাকত উপাসকের অভাবে। অতঃপর স্থানীয় মুসলমানরা সেটি কিনে, ভেঙ্গে সেখানে গড়ে তুলেছেন বিশালকায় মসজিদ। এই নিউবার্গেই আরেকটি উপাসনালয়- মসজিদ আল এখলাস। আমাদের এলাকার উপাসনালয়- মসজিদ আল নূর। বলে রাখা ভাল, সব ক’টি মসজিদ নির্মানের সঙ্গেই বাঙালি মুসলিমদের ভূমিকা সর্বাধিক।

 

4
ছবিঃ ওয়েস্টচেস্টার মুসলিম সেন্টার, নিউবার্গের আল-এখলাস মসজিদ, ওয়াপিঞ্জার ফলস মসজিদ আল-নূর, নিউবার্গের মদিনা মসজিদ

আমরা কি কল্পনা করতে পারি বিশ্বের আর কোথাও মসজিদ ভেঙ্গে চার্চ নির্মাণ হতে পারে, তাও আবার নাইন এলিভেনের মত সন্ত্রাসী হামলার পর? অথচ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা আছে। সেখানে সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হয় খোদ রাজনীতিবিদদের হাতেই। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা চলে। ভাবখানা- জোর যার মুল্লুক তার। এভাবেই আমরা বিপন্ন করি স্বাধীনতাকে!