ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 
2<a 1 3

ছবিঃ ১) স্ট্যালিনের সঙ্গে গোর্কি, ২) বিখ্যাত রুশ লেখক আন্তন চেখভের সঙ্গে গোর্কি, এবং ৩) মস্কোর গোর্কি যাদুঘর।

(ঈদ সংখ্যার বিশেষ রচনা)
………………………
ম্যাক্সিম গোর্কির প্রায় অর্ধেক লেখা পড়ে শেষ করেছিলাম আশি দশকের শুরুতে, বয়স আঠারো’র আগে। প্রথম বইটি ছিল ‘গল্প সংগ্রহ’। অতঃপর চেলকাশ, আমার ছেলেবেলা, পৃথিবীর পাঠশালায়, মা- ইত্যাদি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা। তখন সোভিয়েত রাশিয়া থেকে অনুবাদ আসত বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গে। অনুবাদকরা ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের এবং প্রগতি প্রকাশনের চাকরিজীবী। ফরমায়েশি অনুবাদ, তাই ছিল খটমটে, পড়তে গিয়ে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গতো। এক’শ পৃষ্ঠা শেষ করতে লেগে যেত কয়েক দিন! তখনই মনে মনে পণ করেছিলাম- জীবনে যদি কোনদিন নিদেন পক্ষে ইংরেজী ভাষা আয়ত্ত করতে পারি, এসব ক্লাসিক বাংলায় অনুবাদ করে দেখাব, কিভাবে অনুবাদ করতে হয়। সে সুযোগ এখনও হয়নি। তাই বলে প্রিয় লেখকদের ব্যাপারে মুখ ফিরিয়ে থাকি কি করে?

রাশিয়া সম্পর্কে আমার জানা অত্যন্ত অল্প। আমরা ১৯০৫-এর বলশেভিক বিপ্লব কিংবা ১৯১৭ সালের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পর্কে অনেক কিছু জানি সেখানকার সরকারি ছাপাখানার বই-পত্র থেকে। কিন্তু এই বিপ্লব সংঘটনের আগে-পরে রাশান সমাজে যে অন্তর্মুখী ঘটনা প্রবাহ চলছিল সে সম্পর্কে সরকারি ভাষ্যে তেমন কিছুই ছিল না। পশ্চিমা মাধ্যম থেকে যা আসত, তাও উড়িয়ে দিতাম বুর্জোয়া অপপ্রচার বলে। ফলে সত্য মাথা কুঁড়ে মরত। এখন অন্তর্জালের জমানা। তথ্যকে আর লৌহ যবনিকা দিয়ে আগলে রাখার সুযোগ নেই। ফলে যে প্রশ্নটি নিয়ে গত তেত্রিশ বছর ছিলাম অন্ধকারে, আজ তাই জানার সুযোগ হলো।

১৯৩৬ সালের ১৮ জুন রাশিয়ার রেডিও থেকে গোর্কির মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা হয়। তার সম্পর্কে বলা হয়- “মহান রুশ লেখক, প্রখ্যাত কথাশিল্পী, আজীবন মজুরের বন্ধু এবং সাম্যবাদের লড়াকু সৈনিক”। গোর্কির মৃত্যুতে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে রাস্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়, এবং মস্কোর চ্যাপেলে তার মরদেহকে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ। তার দেহ পোড়ানোর পর ছাই ভস্ম একটি সজ্জিত শবাধারে কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যান তৎকালীন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট বিশ্বের নেতা জোসেফ স্ট্যালিন সহ অন্যান্যরা। রেড স্কোয়ারে লেনিন মসোলিয়ামের পাশে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশে অশ্রু সজল বক্তৃতা দেন স্ট্যালিন। আন্তর্জাতিক রাইটার্স এসোসিয়েশনের পক্ষে বক্তৃতা করেন গোর্কীর একান্ত বন্ধু ফ্রান্সের লেখক আন্দ্রে জিদ প্রমুখ। শোক সভা শেষ হওয়ার পরেই গোর্কীর জীবনের শেষ ইচ্ছাকে জলাঞ্জলি দিয়ে চিতা ভস্ম সমাহিত করা হয় ক্রেমলিনের দেয়ালের ভেতর। অথচ তার শেষ ইচ্ছে ছিল নভোদিভিচি সেমিটেরিতে সন্তানের পাশে যেন সমাহিত করা হয় তাকে।

আলেক্সেই মেক্সিমোভিচ পেশকভ- ম্যাক্সিম গোর্কির জন্ম ২৮ মার্চ ১৮৬৮ সালে নিজনি নভগরদে। কিন্তু বাল্যকাল কাটে অস্ত্রখানে। ৫ বছর বয়সে বাবা মারা গেলে মায়ের দ্বিতীয় বিবাহ হয় এবং গোর্কী চলে আসেন আবার নিজনিতে মাতামহের কাছে। তার বয়স যখন বারো, দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত বালক বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। জুতা সেলাই থেকে শুরু করে ছাপা খানার কর্মচারি, রঙ মিস্ত্রী, ভলগা নদীতে স্টীমারের রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির চাকরি, রাতের চৌকিদার, হেন কোনো কাজ নেই করেননি। এই কাজ করতে যেয়ে দোকান মালিকের হাতে প্রায়ই তাকে শারিরীকভাবে নিগৃহীত হতে হতো। প্রয়োজনীয় খাবার এবং শীতের পোশাক কেনার সামর্থও তার ছিল না। এই প্রেক্ষাপটে ১৮৮৭ সালের ডিসেম্বরে তরুন অ্যালেক্স আত্ম হত্যারও চেষ্টা করেন।

গোর্কি ৫ বছর রাশিয়া চষে বেড়ান। কাজানে অবস্থানকালে প্রথমে বিপ্লবী ধ্যান ধারণা লাভ করেন। এবং তিবলিসে স্থানীয় কাগজে লেখা শুরু করেন ১৮৯২ সাল থেকে। তখনই কলম নামধারণ করেন- ম্যাক্সিম গোর্কী (ত্যাক্ত-বিরক্ত, ইংরেজীতে Maxim the bitter)। ১৮৯৫ সালে পিটসবার্গ জার্নালে “চেলকাশ” প্রকাশিত হলে তার নাম ডাক প্রচারিত হতে শুরু করে। ১৯০০ সালের দিকে তার নাম উচ্চারিত হতে থাকে লিও তলস্তয় ও আন্তন চেখভের সঙ্গে। ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন পিটসবার্গে এবং সেখানে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯০৩ সালে দল বিভক্ত হলে তিনি বলশেভিকদের সঙ্গ নেন। কিন্তু লেখকের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই লেনিনের সঙ্গে ঘরোয়া বাহাসে লিপ্ত হন। বই প্রকাশনা থেকে তার যে বিপুল আয় হত, তার প্রায় পুরোটাই তিনি ব্যয় করতেন পার্টির কাজে। ১৯৩৩ সালের হিসাবে তার বইয়ের প্রচার সংখ্যা ছিল ১ কোটি কেবল রাশিয়াতেই। ১৯০০ সালের শুরুতে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

১৯০৬ সালের ১০ এপ্রিল গোর্কি আসেন নিউইয়র্কে, এবং বলশেভিক বিপ্লবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন। নিউইয়র্কের হোটেলে তিনি তার সুন্দরী বান্ধবীকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে উঠেন। বিষয়টি স্থানীয় পত্রিকার নজরে আসে, পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে মুখ রোচক গল্প প্রকাশিত হতে শুরু করে। গোর্কী যেখানে বক্তৃতা দিতে যান, সেখানেই বহুগামিতার প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে মহিলারা দাঁড়িয়ে যান। কারণ গোর্কী তখন বিশ্ব বিখ্যাত! গোর্কি এক পর্যায়ে হলুদ সাংবাদিকতা ও নিউইয়র্কের কঠোর সমালোচনা করে লেখেন- “সিটি অব ইয়েলো ডেভিল”। কিন্তু কী আশ্চর্য- নিউইয়র্কের আডিরন্ডেক পর্বতমালার রিসোর্টে অবস্থানকালেই তিনি তার বিখ্যাত উপন্যাস “মা” লেখেন। হাডসন ভ্যালিতে এই পর্বতমালা আমার বাড়ি থেকে মাত্র ঘন্টা খানেক দূরত্বের পথ। উল্লেখ্য, গোর্কী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন পাক্কা ছয় মাস। আমেরিকার যে কোনো রাজ্যের চেয়ে নিউইয়র্কে সর্বাধিক অবস্থানকারী ইহুদী সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমেরিকার মত রাশিয়াও ইহুদীদের নিরাপদ আবাসভূমি। অর্থ ও অন্যান্য অনুদানে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য তিনি বার বার অনুরোধ জানান। বলা বাহুল্য সে সময় মস্কোতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাস্ট্রদূত রাশিয়ার পুনর্গঠনে রেখেছিলেন প্রকৃত বন্ধুর অবদান- আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে।

গোর্কির জন্ম হয়েছিল অর্থডক্স খ্রীস্টান পরিবারে। তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন, কিন্তু মার্ক্সবাদের বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের অনুসারি ছিলেন না। তার চিন্তার জগতকে যিনি সর্বাধিক প্রভাবিত করেছিলেন, তিনি হলেন খ্রীস্টপূর্ব ১১০ অব্দে জন্ম নেয়া বিখ্যাত ইহুদী সমাজ সংস্কারক হিলাল দ্যা এডলার। গোর্কী তারুণ্যে হিলাল-এর বাক্যাবলী পড়েছিলেন। দু’টি বাক্য তিনি অনুসরণ করতেন পরম মনোযোগে। এক- “আমি যদি শুরু না করি, তবে কে শুরু করবে? আর এখন যদি না শুরু করি, তবে কখন?” দুই- “তোমার কাছে যা মন্দ কাজ, একই জিনিষ তুমি অন্যের জন্য করতে যেয়ো না”। হিলাল বলেন- সমগ্র তোরাহ’তে এই বাক্যের বিশ্লেষণই করা হয়েছে, পড়ে দ্যাখো। গোর্কী হিলালকে উদ্ধৃত করে বলেন- “হিলাল বলেছেন- যে তোমার আত্মাকে ব্যথিত করে, মনে রাখবা সে পুরো বিশ্বকে ব্যথিত করে।” ১২০ বছর বেঁচেছিলেন হিলাল। চল্লিশ বছর বয়সে গিয়েছিলেন ইসরায়েলে, চল্লিশ বছর পড়াশোনা করেছেন, এবং বাকি চল্লিশ বছর ছিলেন ইহুদী সম্প্রদায়ের ধর্ম গুরু।

গোর্কি ছিলেন বলশেভিকের নেতা এবং দাতা। তদুপরি লেনিনের সঙ্গে শ্রদ্ধা-স্নেহের বন্ধুত্ব। ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পর যখন ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ গায়ে লেপ্টে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু হল, গোর্কী তখন অনেক কবি-লেখককে বাঁচাবার জন্য নেতার কাছে তদবির করতে লাগলেন। সে সময় নয়া জীবন (নভয়া জিজন) নামে বলশেভিক মুখপত্র প্রকাশিত হত তারই সম্পাদনায়। পত্রিকায় সেন্সর আরোপ নিয়ে সেসময় কমিউনিস্ট পার্টি নেতাদের সঙ্গে তার একবার চরম মতবিরোধ হয়। নেতা লেনিন এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে তাকে নির্বাসনে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন।

প্রথমবার ১৯০৬ সালে তিনি ইতালির ক্যাপ্রিতে দেশান্তরি হয়েছিলেন সাত বছরের জন্য সাস্থ্যগত ও রাশিয়ার অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এড়ানোর প্রয়াসে। এবার ১৯২১ সালে দেশান্তরি হলেন একই ইতালির ভীন্ন শহর সোরেন্টোতে। আবারও সাত বছরের জন্য। লেনিন মারা যাবার পর ১৯৩২ সালে স্ট্যালিন তাকে ডেকে আনেন এবং মস্কোর কেন্দ্রে তাকে প্রাসাদোপম একটি বাড়ি দেন বসবাসের জন্য। এটি ছিল আসলে একজন ব্যবসায়ীর বাড়ি, বিপ্লবের মাধ্যমে এটি সরকারের দখলে আসে। গোর্কীর মৃত্যুর পর এটি লেখকের নামাঙ্কিত যাদুঘর।

স্ট্যালিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভিন্ন মতাবলম্বী ট্রটস্কি তখন পালিয়ে মেক্সিকো সিটিতে। পরবর্তিতে ১৯৪০ সালে কেজিবি তাকে হত্যা করে সেখানেই। রাশিয়ার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা তখনও বিপর্যস্ত। ১৯৩২ সালে রাশিয়া ফিরে এলে তাকে সোভিয়েত লেখক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নিজনি নভগোরদের নাম পাল্টে করা হয় “গোর্কি”। এইসব সম্মাননা প্রদানের সময় ১৯৩৪ সালে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কমিউনিস্ট নেতা সের্গেই কিরভকে হত্যা করা হয় ভিন্ন মতাবলম্বনের কারনে। আবার তার সন্তান ম্যাক্সিম পেশকভকেও হত্যা করা হয় গুলাগের বিরোধিতা করার জন্য। গোর্কী আশঙ্কা করতে থাকেন- রাশিয়ার গুপ্ত পুলিশ এনকেভিডি’র এজেন্টরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ফলে তাকেও গৃহবন্দী করা হয়।

ইতোমধ্যে গোর্কি নিজেও গুলাগ’এর বিরোধিতা শুরু করলেন। গুলাগ হলো নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভিন্ন মতাবলম্বীদের পাঠিয়ে দেয়া হত সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে অবকাঠামো নির্মাণে। এমনই একটি নির্মাণ কাজ ছিল শ্বেত সাগর এবং বল্টিক সাগরের সংযোগ খাল নির্মাণ। ২২৭ কিলোমিটার নির্মাণে ১ লাখ ২৬ হাজার “ফোর্সড লেবার” নিযুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ২৫ হাজার মৃত্যুবরণ করে ঠান্ডা ও অনাহারে। এর দায়িত্বে ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অধীন এনকেভিডি, এই সংস্থাই পরবর্তীতে কেজিবি নাম ধারণ করে।

এসব অন্তর্ঘাতমূলক কাজের বিরোধিতা করে গোর্কি লিখেন তার আরেক বিখ্যাত বই- “গুলাগ দ্বীপমালা”। যার সমালোচনা হয় সরকারি পর্যায় থেকে। পুত্র এবং বন্ধু বান্ধব হত্যার পরিণতিতে বিপর্যস্ত গোর্কী। ইতোমধ্যে স্ট্যালিন এবং গোর্কীর মধ্যে দূরত্ব কেবল বাড়তেই থাকে। গোর্কী আবারও আক্রান্ত হন পুরনো রোগে- যক্ষায়। ১৯৩৫-এর জুনে স্ট্যালিনের সঙ্গে তার চুড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে। প্যারিসে আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলনে গোর্কীকে যোগদান করতে দেয়া হয় না। বাইরের দুনিয়ার লেখকদের থেকে তিনি তখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

প্রচলিত আছে যে, গোর্কির শেষ দিনগুলোতে স্ট্যালিন তাকে অনুরোধ করেছিলেন জীবনী লেখার জন্য। কিন্তু গোর্কি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ১৮ জুন ১৯৩৬ সালে, সন্তানের হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর মারা যান গোর্কি। রুশ ঐতিহাসিক আরকাদি ব্যাক্সবার্গ দাবি করেছেন- সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কারনে গোর্কির মৃত্যু হয়েছে, যা ডাহা মিথ্যা। আসলে স্ট্যালিনের নির্দেশেই তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। এবং মরদেহ মাটিতে সৎকারের পরিবর্তে দাহ করা হয়েছিল। তবে তার মগজ মস্কোর নিউরোলজিক্যাল ইন্সটিউটে অন্যান্য রুশ নেতা লেনিন, মায়াকোভস্কি’র মগজের সঙ্গে সংরক্ষিত আছে।

 

নিউইয়র্ক ১৩ জুলাই ২০১৫