ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

এক সপ্তায় জয়ের দু’টি ধারা আমাদের ধারাপাতে যুক্ত হয়েছে। এর একটি শিশু রাজনের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অনলাইন এক্টিভিস্টদের জেগে ওঠার ঘটনা। আরেকটি- দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে ৫০ ওভারের সিরিজ জেতা। এই দু’টি ঘটনাই আমাদের ঈদকে আরো আনন্দময় ও বর্ণিল করবে নিঃসন্দেহে।

বাল্যকালে মিছিলের সামনে ব্যানার ধরে শ্লোগান দিতাম- সচেতন জনতা সেই ভাল অস্ত্র, প্রয়োজন হলে হয় সকলে সশস্ত্র। সচেতন মানুষের অস্ত্র এখন আর হাতিয়ার নয়- ফেইসবুক চালানোর মত ছোট্ট একটি মোবাইল আর সুযোগ মত ইন্টারনেট। বহুদিন পর, আমি বলব ১৯৯০ সালের পর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান বাদ দিলে অনলাইনের এমন গণজাগরণ বাংলাদেশের মানুষ আগে কোনোদিন প্রত্যক্ষ করেনি।

অনলাইন এক্টিভিস্টরা কী করেছে? পুলিশকে সজাগ করেছে। অফিসে বসে ঘুস খেয়ে আসামীদের পালিয়ে যাবার সুযোগ বাংলাদেশে আর হবে না। স্মরণ করুন- আমরা যদি এমনভাবে জেগে উঠতে পারতাম, তবে সাগর-রুনী কিংবা ত্বকি হত্যার আসামীরা এভাবে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবার সুযোগ পেত না।
আজ দেখছি- যে তরুনটি ভিডিও করেছে, তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার উপর কী বিষ ঝাড়ে পুলিশ কেন জানেন? সে এই অন্যায়ে বাধা দিতে পারত। তা না করে ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছে। তার এই কর্ম সম্পর্কে বিতর্ক হবে নিঃসন্দেহে। কিন্তু একটি কাজ সে ভাল করেছে- তাহলো দেশবাসীকে সজাগ করেছে। কয়েক মাস আগে বিএনপি-জামাত জোটের আগ্নে বোমা নিক্ষেপের সময়ও তো আমরা দেখেছি- ফটো সাংবাদিকরা আগে সংবাদ পেয়ে ছুটে গেছে অকুস্থলে। কই, তারাও তো বোমা হামলাকারীদের নিবৃত করতে পারেনি, কিংবা উদ্যোগও নেয়নি। আমার ধারনা যে ছেলেটি মোবাইলে সেটি ভিডিও করেছে, সে ঐ অপেশাদার ফটো সাংবাদিকের কাজটিই করেছে। কাজেই তাকে পুলিশি নির্যাতন থেকে বাঁচানোও আমাদের কাজ।

এই যে আমাদের অনলাইন এক্টিভিস্টরা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, এটি কিন্তু বিপথে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কাও আছে। অনলাইন এক্টিভিস্টদের সম্ভাব্য তিন শত্রু-

এক. ক্ষমতাসীন সরকার ও দল। গণজাগরণ মঞ্চকে তারা যেভাবে ছিনতাই করেছিল, ভবিষ্যতে অনলাইন এক্টিভিস্টদের আন্দোলনকেও ছিনতাই করতে পারে। এই জেগে ওঠার বিপরীতে ব্যবহৃত হতে পারে নিবর্তনমূলক আইন।

দুই. মৌলবাদী গোষ্ঠী। নানা ছুতোনাতায় তারা এই জেগে ওঠাকে ভীন্ন পথে পরিচালিত করতে পারে। আপাতত জনমুখি মনে হলেও এরা যে কোনো গণজাগরণকে বাঁকা পথে নিয়ে মৌলবাদের উত্থান ঘটাতে পারে।
তিন. তথাকথিত জাতীয়তাবাদী শক্তি। আমাদের শক্তিকে কেবল সরকার হঠানোর ইস্যুতে নিয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে সরকার হঠানো আমাদের কাজ না। এক চোরের পরিবর্তে আরেক চোরকে ক্ষমতায় বসানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে মুক্ত করা। বাংলাদেশে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করা।
সিলেটি ভাষায় প্রবাদ আছে- “ঠেলার নাম বাবাজি!” যে ছোট ছোট কাজ আমরা শুরু করেছি, সময়ের বিচারে এগুলো ছোট নয় মোটেও।