ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ


বাংলাদেশে এখন সবলের শাসন চলছে। সবলের এ শাসনে দুর্বলের নাভিশ্বাস চরমে! এ শাসনের ভ্রুণোদ্গম হয়েছিল দুই দশক আগে স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর। মানুষ আশা করেছিল দুঃশাসনের কালো রাত্রি পেরিয়ে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কিন্তু মানুষের সে আশায় ছাই ঢেলে দিয়েছে দুই কাল নাগিনী’। মানুষ তাই এখন শ্লোগান তুলেছে ‘নৌকা ও ধানের শীষ, দুই নাগিনীর একই বিষ’!

স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মানুষ দিশেহারা গত এক দশক। একে তো রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার অভাব, অন্যদিকে বুদ্ধিজীবীদের স্বার্থ মগ্ণতায় পরিবেশ আরো বিষণ্ণ। মানুষ আওয়ামী লীগের বিকল্প কোনো শক্তির অন্বেষণে প্রয়োজনে চাঁদে যেতেও প্রস্তুত। একচেটিয়া ক্ষমতার ভারে নিমজ্জমান আওয়ামী লীগ। অপরদিকে দুর্নীতির রাহু গ্রাসে বিএনপি কার্যত অস্তিত্বহীন বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের এজেন্ডা একটিই- কি করে বিএনপির হাড়গোড় ভেঙ্গে তাদেরকে ফার্মগেটের ওভারব্রীজের উপর থালা হাতে বসিয়ে দেয়া যায়। দুর্ভাগ্যবশত বিএনপি সে ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছে। ওপর দিকে শেখ হাসিনা যে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মগের মুল্লুক শাসন করে যাচ্ছেন, তাকে সহসা চ্যালেঞ্জ করার মতো কোন শক্তির অস্তিত্ব আপাতত বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশে তাই আজ- সবলের শাসনে দুর্বলের নাভিশ্বাস!

দেশে আইনের শাসন নেই। অর্থনীতির মেরুদণ্ড- দেশের পুঁজি বাজার লুটপাট করে নিয়েছে সরকারি ও বিরোধী দলের কতিপয় লুটেরা। এরা প্রধান মন্ত্রীর চারপাশেই ঘুর ঘুর করে। আইন, বিচার বিভাগ, সংসদ, মিডিয়া কোথাও প্রধান মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ নেই। দেশের জাতীয় সংসদের মালিক জনগন। অথচ সেখানে জনগনের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। শেখ হাসিনার প্রধান ইস্যু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এই বিচারের নামে অগণতান্ত্রিক এবং অব্যবস্থাপনার এক জগদ্দল পাথর বসিয়ে দিয়েছেন ষোল কোটি মানুষের কাঁধে। মানুষ এ ভার আর বইতে পারছে না। অপরদিকে বিরোধী দলের তথাকথিত নেত্রী ব্যাস্ত নিজের কালো সম্পদ আর দুর্নীতিপরায়ণ পুত্রদের কলংকিত মুখ আড়াল করতে।

দেশে এক শ্রেণীর কেনা বুদ্ধিজীবী আর অর্থনীতিবিদ প্রবৃদ্ধির মনগড়া সংখ্যা উপস্থাপণ করে মানুষকে ধোকা দিচ্ছেন। দেশে যে হারে মানুষ বাড়ছে, সে হারে প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আওয়ামী লীগের চালে ধরাশায়ী বিএনপি। দলটি আর সোজা হয়ে দাঁড়াবে, সে ভরসা নেই। বিএনপির ওপর তলায় যে দিকে তাকানো যায়, সেদিকেই দুর্নীতিবাজদের জটলা। আর আওয়ামী লীগের কোন দিকেই তাকানো যায় না। কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত সর্বত্র সন্ত্রাসী আর টেণ্ডারবাজদের দৌরাত্ম্য।

মানুষ মুক্তি চায়, ’৯০-এর মতো আরেকটি গণ জাগরণের অপেক্ষায় মানুষ। তারা আর ধোঁকাবাজদের খপ্পড়ে পড়তে চায় না। মানুষ চায় সাহসী, সৎ আর যোগ্য নেতৃত্ব। এ নেতৃত্ব আসবে সাধারণ ও প্রান্তিক কোন মানুষের হাত ধরে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত এই তিন অপশক্তিকেই এক সঙ্গে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত মানুষ। দেশের মানুষকে তাই সচেতন আর সাহসী করে তোলার দায় বর্তেছে ইন্টারনেটচারী তরুণ প্রজণ্মের ওপর। সে দায়িত্ব তারা পালন করতে সক্ষম, সে বিশ্বাস আমার আছে।

***
নিউইয়র্ক, ৫ জুলাই ২০১১