ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

মোহাংক মাউন্টেন হাউজের কথা হয়তো শুনে থাকবেন অনেকে। বিশেষ করে আমাদের দেশের বিত্তবানদের অনেকে এখন আমেরিকার রিসোর্টগুলোতে পা বাড়ান। সেই সুবাদে না চেনার কথা নয়।
শেয়ার মার্কেট কেলেংকারির পর আমেরিকার পথে ঘাটে বর্তমানে বাংলাদেশী বিত্তবানদের হাটা চলা চোখে পড়ে। এরা আমেরিকায় পাড়ি জমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বাড়ি এবং ব্যবসা্পাতি কেনার চিন্তা করছেন। এদের অনেকেই আমেরিকায় মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা কেনার জন্য এক পায়ে খাড়া। সেদিন এদের কয়েকজন এসেছিলেন হাডসন ভ্যালীতে, থেকেছেন মোহাংক মাউন্টেন রিসোর্টে। শেয়ার লুটপাটের প্রথম এক’শ জনের তালিকায় এদের নাম আছে। তাদের প্রতি আমার বিন্দু মাত্র বিদ্বেষ নেই। শুধু একটু গ্লানি এই ভেবে যে, এরাই আমাদের দেশের রক্ত চোষা। রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের মতো তৈরি করে, যথেচ্ছা ব্যাবহার করে আঙ্গুল থেকে মহীরুহে পরিনত হয়েছেন এরা।

আমেরিকায় খুব সহজে কোটিপতি হওয়া যায়, তবে সে জন্য মেধা ও বুদ্ধি খরচের প্রয়োজন। মাইক্রোসফটের বিল গেটস কিংবা ফেইস বুকের জুখার বার্গ-এর কথাই ধরুন না। এখানে সৃজনশীলকে রাষ্ট্র সাহায্য করে, কিন্তু চোরকে কখনো প্রস্রয় দেয় না। এ কারণে সৃজনশীলরা এখানে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়।

অনেকে ভাবেন আমেরিকা মানেই বিলাশ-ব্যাসন। আসলে তা কিন্তু নয়। বিশেষত আমেরিকান বাঙালিদের জন্য তো নয়ই। দেশে নিজেদের রাজনীতির পৈত্রিক ব্যাবসা থাকলে অন্য কথা। অনেকে বলেন- আমেরিকায় থেকেও আমরা আমেরিকার স্বাদ পাই না। যদিও দেশে আমাদের পোষ্যরা এর ছিটেফোঁটা ভোগ করে থাকেন। স্বাদ না পাওয়ার কারন হলো- এখানে আমাদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। আর হ্যাঁ, দেশে তো সবাই আমাদের পোস্য। কারন আমাদের রেমিটেন্স ছাড়া দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরে না। কাজেই যারা আমাদের টাকায় আমেরিকায় বিলাসি ভ্রমণ করেন- তাদের জন্য আমার খানিকটা গ্লানিবোধ থাকতেই পারে!

যে মোহাংক রিসোর্টে আমি এখন পাঠককে নিয়ে যাব, সেটি আমার ভিটে থেকে মাত্র কয়েক মাইল। অথচ সেখানে হাজার ডলার ভাড়ায় অন্তত একটি রাত থাকার কোন সৌভাগ্য কোনদিন আমার হয়নি। আগে রিসোর্টে গাড়ি প্রতি আট ডলার প্রবেশ মূল্য দিয়ে পিকনিক করা যেতো। এখন সেটিও বন্ধ। কয়েক দিন আগে আমার এক পারিবারিক বন্ধুকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। গেইটম্যান জানতে চাইলো আমরা আগে থেকে বুকিং দিয়ে এসেছি কি না। ঘরে এসে বুকিং-এর জন্য টেলিফোন করতে কাস্টমার সার্ভিস থেকে জানালো অন্তত দু রাতের জন্য বুকিং দিতে হবে। দু’রাতে দু’হাজার ডলার, তাও অক্টোবর পর্যন্ত কোন খালি নেই। তাৎক্ষনিক ভাবে তারা একটি ভিক্টোরিয়ান স্যুট ম্যানেজ করতে পারবে, তবে সে জন্য ভাড়া গুণতে হবে অন্তত চার হাজার ডলার। বিধি বাম, স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থাক…।

***
নিউইয়র্ক, ২৬ জুলাই, ২০১১