ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গণপিটুনি সভ্য দুনিয়ার আইন নয়। সংবিধানের কোথাও গণপিটুনির কথা লেখা নেই। ক্রসফায়ারও সংবিধান সম্মত নয়। তথাপি রাস্ট্র, সরকার এবং আইন শৃঙ্খলার জন্য নিয়োজিত সরকারি সংস্থা গণপিটুনির উস্কানিদাতা! হয়তো এমন দিন বেশী দূরে নেই, যেদিন গণপিটুনির বিরুদ্ধে কথা বলাই হবে বে-আইনী। যে বা যারা গণপিটুনির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তাদেরকেই হতে হবে গণধোলাই’র শিকার।

বাংলাদেশ রাস্ট্রটির এমন পরিণতি হওয়ার কথা ছিল না। ১৯৭১ সালে মুক্তিপাগল বাঙ্গালীর আত্মত্যাগে কখনো কোন নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু-বরণ করার দাবি ছিল না। বরং প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন কায়েমের কথা ছিল। বঙ্গবন্ধু তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন আমাদের সবার স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা এবং বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটিকে নিজেদের মতো করে ধনে-জ্ঞ্যানে-মানে বড় করে তোলার জন্য। আমরা কি আমাদের প্রতিশ্রুতির সে স্বাক্ষর রাখছি?

আজ কথায়-কথায় মানুষের মৃত্যু। নেই স্বৈরাচার, নেই বর্গী, নেই হানাদার। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাধীন-মুক্তভাবে জীবন পরিচালনা আজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর একটি মাত্র কারন দেশে আইনের শাসন নেই। ক্রসফায়ারের পর গণপিটুনি ঢুকে গেছে সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার এ প্রবণতা কোন স্বাভাবিক জীবনের প্রক্রিয়া নয়।

দেশে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির আরেকটি বড় কারন- জন প্রশাসন তথা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করতে পারছে না। জাতীয় সংসদ অথর্ব ও অকেজো। সেখানে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা হয় না। সরকার ও বিরোধী দল কেউই জনগনের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয়। জনগনের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয় কিছু লোকের আখের গোছাবার জন্য। এরা জাতীয় সংসদের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না। এদের কাছে গণতন্ত্র মানে ‘যতদিন পারো লুটেপুটে খাও’।

ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে গেছে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার আখড়া। এক সময় আখড়ায় বসবাস করতো সাধু সন্ন্যাসীরা। আর আজ দুর্নীতিপরায়ণ আমলা আর রাজনীতিবিদদের ক্লাবের নাম ‘আখড়া’।

এরা দেশপ্রেমিক নয়, এদের নেই কোন দলও। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রী এদের কাছ থেকেই নেন বাড়তি মাসোহারা। যা জমা হয় বিদেশি ব্যাংকে। এরা নিজেরা দুর্নীতির কলংক মেখে জেল খাটেন। তথাপি দুর্নীতিপরায়ণদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেন না। কারন অতি পরাক্রমশালী মাফিয়া চক্র গত কুড়ি বছরে ধীরে ধীরে এদের চারপাশ ঘিরে ধরেছে। এ চক্রের সদস্যদের নাম তালিকাভুক্ত করা তাই আজ সময়ের দাবি। সময় বেশী দূরে নয়, যখন এদেরকেই হতে হবে প্রকৃত গণপিটুনির শিকার। সুশিল বলে দাবিদার ভদ্রবেশিদের প্রতি অনুরোধ- প্রতিটি রাস্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতিপরায়ণদের একটি তালিকা তৈরি করুন। এটি যত তাড়াতাড়ি হবে ততই জাতির মঙ্গল। কিছু লোকের কারনে আমরা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাস্ট্র হতে দিতে পারি না।

নিউইয়র্ক, ২২ আগস্ট ২০১১