ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ খুবই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার। পুরো দেশটি দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। আর ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে কায়েমী স্বার্থবাদী একটি গোষ্ঠী। ঠিক যেন ১৯৬৯ আর ৭০, এবং পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ! জনপ্রশাসনের উপর মানুষের কোন আস্থা নেই। মানুষ অসহায়, দুর্বল এবং নিপীড়িত। আর এ সুযোগে মাঠে নেমে পড়েছে সমাজের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং প্রতারক- ধর্মীয় মৌলবাদী জামায়াত-শিবির চক্র।

গত সোমবার জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের পর ব্লগে এক বন্ধু সরকারকে উদ্দেশ্য করে কিছু হিতোপদেশ দিয়েছেন। ব্লগটি পড়ে আমার মনে হয়েছে- এ যেন অসহায়ের কান্না! তিনি ব্যক্ত করেছেন কিছু আশংকাও। কিন্তু এটা শোনা কিংবা উপলব্ধির জন্য দায়িত্ববান কেউ সরকারে আছেন বলে আমার সন্দেহ হয়! তোষামোদকারী আর পা’চাটাদের ভীড়ে সৎ এবং সাহসী কোন লোক শেখ হাসিনার আশে পাশে আছেন কি না আমার যথেষ্ট সন্দেহ হয়।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের এমন রুগ্নদশার জন্য কেবল একটি পক্ষকে দায়ী করলে ভুল হবে। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই সমভাবে দায়ী। কারন দু’টি দলই গত কুড়ি বছরে সরকারি ও বিরোধী দলে ছিল। জনগণের জীবনযাত্রাকে সস্থিময় করার পরিবর্তে দু’টি দলই পরস্পরকে ল্যাং মেরে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করেছে। আরো সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া উভয়ে নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব বলয়ে সৃষ্টি করেছেন কিছু তোষামোদকারী এবং চাটুকার। এদের অযাচিত হস্তক্ষেপে রাস্ট্র একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আইন-আদালত, জাতীয় সংসদ, জন প্রশাসন, অর্থনীতির চালিকাশক্তি- শেয়ার বাজার, ব্যাংকিং কার্যক্রম কোন ক্ষেত্রে সংস্কার কিংবা পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। বহুল আকাঙ্ক্ষিত প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরন হয়নি। টাকা যার, বিচার তার। জনগণের এই হতাশার জায়গায় গণপিটুনির মতো সহিংসতা সমাজে পাকাপোক্ত আসন গেড়ে বসার সুযোগ পাচ্ছে। জনসেবা- অর্থাৎ যোগাযোগ ব্যাবস্থা, জনশিক্ষা, জন স্বাস্থ্যের জন্য নিয়োজিত সংস্থাগুলো সেবার মান কোন স্থরে তা ভূক্তভোগী মাত্রই ভাল করে বলতে পারেন। আজ জাতীয় সংসদের মতো এমন একটি নিবীর্য প্রতিষ্ঠান আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, এবং এমন অপ্রয়োজনীয় একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে জনগনের ট্যাক্সের অর্থ খরচের সার্থকতা কোথায়, তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

আজ অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়- বিষয়গুলো নিয়ে যারা ভাববেন, এরাও বিভক্ত ও মেরুদণ্ডহীন। অথবা হতাশার গহবরে নিমজ্জিত। যে তরুণ ও ছাত্র সমাজ সমাজের অগ্রণী ভূমিকা নেবে তারাও জানে না পথের ঠিকানা। তারা শুধু আঁচ করতে পারছে অন্ধকারের কূজ্জটিকা ক্রমশ তাদের দিকে তেড়ে আসছে। এমনই এক তরুণ সম্প্রতি তার ব্লগে উদ্ধৃত করলো নিজের এই বোবাকান্না-

“আমরা এমন এক দেশে জন্মেছি, যেখানে-
(১) পিজ্জা ডেলিভারী আসে এম্বুলেন্স এবং পুলিশের আগে। (২) গাড়ির লোন-এর সুদ ১৮ শতাংশ, কিন্তু শিক্ষা লোন-এর সুদ ৪০ শতাংশ। (৩) চালের কেজি ৫০ টাকা, কিন্তু সিম কার্ড প্রায় ফ্রী। (৪) জুতা বিক্রি হয় এসি শো রুমে, কিন্তু খাবার বিক্রি হয় নোংরা ফুটপাথে। (৫) আমরা খাই কৃত্রিম লেবুর রস, আর আসল লেবুর রস দিয়ে করি ডিস ওয়াশ। (৬) ভূয়া ডিগ্রীধারীরা সমাজের শিল্পপতি, আর সত্যিকারের মেধাবীরা কর্মহীন!”

নিউইয়র্ক, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১