ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আসুন (ফিলিস্তিন)প্যালেস্টাইনকে জাতিসংঘে পূর্ণ রাস্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আমরাও রাস্তায় নামি। সবাই জাতীয় সংসদের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করি। বিডিকম.কম- এর খবরে প্রকাশ-

“বর্তমানে ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) নামে পর্যবেক্ষক হিসেবে জাতিসংঘে তাদের আসন। …
দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পথ ধরে ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে পিএলও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকের স্বীকৃতি পায়। সেই পাওয়ার পূর্ণতার জন্য এখন পদক্ষেপ চালাচ্ছেন মাহমুদ আব্বাস।…
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলে আব্বাসের চাওয়া আর আলোর মুখ দেখবে না। তবে তারপরও পিছু হটতে নারাজ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট।
কূটনীতিকরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদে আটকে গেলেও পূর্ণ সদস্য হতে ফিলিস্তিনের আবেদন নিয়ে কোনো পস্তাব সাধারণ পরিষদে যদি পাস হয়, তা-ও তাদের দাবিকে একটি বৈধতা দেবে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। আর তাই অর্জন করতে চাইছেন আব্বাস। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নাবিল সাথ বলেন, ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া নৈতিক, আইনগত ও সর্বমহলে স্বীকৃত দাবি।
অন্যদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সুসান রাইস বলেন, “নিজ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আমরা বুঝতে পারছি। যত দ্রুত সম্ভব তাদের কাক্সিক্ষত রাষ্ট্র অর্জনে সহায়তা করতে চাই আমরা।”

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন জানান, সুদৃঢ় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

এই মতভেদের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি একটি প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছেন। তার প্রস্তাব হলো- পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করলেও ফিলিস্তিনের পূর্ণ রাষ্ট্র মর্যাদা পাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট একটি সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে সাধারণ পরিষদ।

অন্য দেশগুলোর কূটনীতিকরা এ নিয়ে হিসাব কষতে শুরু করে দিয়েছেন। মাহমুদ আব্বাস আনুষ্ঠানিক আবেদন যখন জানাবেন, তখন রামাল্লায় তার সমর্থনে রাস্তায় নামবে ফিলিস্তিনিরা। তারা চেয়ে থাকবেন, জাতিসংঘে কী হয়।”

১৩১৮ সালে রামাল্লায় স্থাপিত টাওয়ার অফ রামাল্লা, এখনো সারা বিশ্বের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ

তথ্য তালাশ করে জানা যায়- ৪৫০ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্যালেস্টাইন রাস্ট্রের অস্তিত্ব ছিল। এমনকি দেশটির ছিলো গৌরবোজ্জ্বল অতীত। ১৯৪৮ সালে জাতিসঙ্ঘের এক খোঁচায় দেশটির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। অতঃপর ইসরাইলী আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিরা বাস্তচ্যুত হয়। অধিকারহারা ফিলিস্তিনিরা ইয়াসির আরাফাতের পর সাময়িক নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। শিকার হয় অতি ডানপন্থী ও উদারনৈতিক রাজনৈতিক বিভাজনের। সম্প্রতি উদারনীতিক হিসেবে বিবেচিত ইয়াসির আরাফাতের যোগ্য উত্তরসূরী মাহমুদ আব্বাস চলে এসেছেন সামনে, ফিলিস্তিনি জনগনের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে। তার নেতৃত্বেই আজ দাবি উঠেছে রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃতির। অবশ্য বাংলাদেশ বহু আগে থেকেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দিয়ে আসছে।

নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১