ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের আট নাগরিককে হত্যার নিন্দা ঠেকাতে আমাদের পররাস্ট্র সচিব মিজহারুল কায়েস অত্যন্ত দায়সারা বক্তব্য দিলেন। প্রেসিডেন্টের মূল্যহীন চিঠি, এবং সৌদি বাদশাকে অনুনয়-বিনয় সবি বিফলে গেল বলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু সৌদি আরবে বাংলাদেশী নিরীহ নাগরিকদের সরকারের এসব অযোগ্য আমলারা কাদের হাওলায় রেখেছেন? এ প্রশ্ন খোদ প্রবাসী বাংলাদেশীদের। সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান একেবারে প্রান্ত সীমানায়। বিশেষত চলমান বিশ্ব মন্দার প্রেক্ষাপটে সৌদি কফিলরা যখন শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছেন না, তখন বাংলাদেশী শ্রমিকরা ন্যায়সঙ্গতভাবে কফিল বদলাতেও পারছেন না। এমনকি ভারত পাকিস্তানের শ্রমিকরা এ সুবিধা ভোগ করলেও বাংলাদেশীদের বেলায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে দিয়েছে। ফলে মারাত্মক বেকারত্ত ও হতাশা তাদেরকে ধাবিত করছে নানাবিধ আইন বহির্ভূত কার্যকলাপে। আমরা শিরশ্ছেদের প্রতিবাদ জানাই, কিন্তু আমাদের সরকার যে হাতির আকার ধারন করেছে, তা এখনি উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে বৈকি। দেশে জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকলে এই হত্যাকাণ্ড পরবর্তীতে পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের শুনানী অনুষ্ঠিত হতে পারতো। কেন প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের আজ এই দূর্দশা? সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে উচিত একটি তদন্ত কমিশন করা, যারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের দূর্ভোগের কারনগুলি খতিয়ে দেখবেন, এবং এর যথাযথ প্রতিকারের উদ্যোগ নেবেন।

খালেদা জিয়াও নিতে পারতেন দায়িত্ব
শোনা যায় সৌদি বাদশাদের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। গত কুড়ি বছরে ম্যাডাম জিয়া অন্তত কুড়ি বার সৌদি ভ্রমন করেছেন রাস্ট্রীয় অথবা ব্যক্তিগত ধর্মীয় প্রয়োজন, অথবা বিনোদনে। শেখ হাসিনাও সৌদি ভ্রমণ করেছেন পাশের বাড়ির মতো। কিন্তু এরা কি কখোনো প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার করেছেন? নাকি রাজকীয় আপ্যায়নে ত্রিপ্তির ঢেকুর তুলেই দেশে ফেরত এসেছেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকার প্রধান এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীদের এমন নির্লিপ্ততা উদ্বেগের।

আজ মিজারুল কায়েস সাহেবের বক্তব্য এবং রাজনীতিবিদদের গণ বিমুখতা দেখে সেই পীরের কাহিনী মনে পড়ে গেল। গ্রামের মধ্যবিত্ত গৃহস্থ বাড়িতে চুরি সংঘটিত হওয়ার পর পীর সাহেবের কাছে ধর্ণা দিল। রফা হলো পীর সাহেব পাঁচশ টাকায় “বাঁশ পড়া” দেবেন। পরদিন সকালে যথারীতি তিনহাত লম্বা দু’টি বাঁশ নিয়ে গৃহস্থ বাড়িতে হাজির হলো পীর সাহেবের শাগরেদ। সকাল এগারোটা থেকে বাঁশের চালান শুরু হলো। বাশটি যার বাড়িতে গিয়ে ঠেকবে, চোর সে বাড়িতেই অবস্থান করে- এই হোল পরিণতি। কিন্তু বাঁশ তো কারো বাড়িতেই থামছে না। শাগরেদ বাঁশ দু’টিকে সামনে সমান্তরাল উঁচিয়ে কারো বাড়ির বারান্দা দিয়ে যায়, কারোবা পেছন দিয়ে যায়। সুপারি গাছের বীড় ভাঙ্গে। কখনো জাম্বুরা গাছের নীচে খানিক দাঁড়িয়ে আবার হাটা ধরে। পার্শবর্তী গ্রামের কোন বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলে সবার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এইবার বুঝি বাঁশ ঠিকই চোরের নিশানা পেয়েছে! নাহ, বাঁশ তো কোথাও একেবারে থামছে না। বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শাগরেদের পেছনে কয়েক’শ মানুষ সমান তালে হাটছে। এদেরও নাওয়া-খাওয়া নাই। সবাই ক্লান্ত। এবার শাগরেদ সরাসরি নেমে গেল বিলের পানিতে। বিলের একপাশে কয়েক’শ মানুষের সমাবেশ। শাগরেদের বুক পর্যন্ত নামা হলেই আশপাশ থেকে কয়েক জন নেমে তাকে তীরে টেনে তুলে। পীরের কেরামতি সবাই বুঝলো- চোর পালিয়েছে নৌকা করে। ইতোমধ্যে গৃহস্থের পাঁচশ টাকা গচ্ছা! আমার প্রশ্ন- আমরা আর কতো এসব পীরের কেরামতি দেখবো?

নিউইয়র্ক, ১৬ অক্টোবর, ২০১১