ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

লোকমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় সপ্তাহ গড়িয়ে যাচ্ছে। নরসিংদির এই রাজনীতিবিদ একাধারে ছিলেন জনপ্রিয় মেয়র এবং সফল ব্যবসায়ী। কয়েক মাস আগে বিএনপি’র একজন রাজনীতিবিদকে অনুরূপভাবে কূপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য রাস্তায়। নিকট অতীতে বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী শামস কিবরিয়াকে সন্ত্রাসীরা বোমা মেরে হত্যা করে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে নতুন নয়। প্রয়োজন এই হত্যাকাণ্ডের ধারা চিরতরে বন্ধ করা।

একজন রাজনীতিবিদ তৈরিতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়। দেশের অনেক অর্থ, সম্পদ এবং মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়। কিন্তু মুখোশধারী হন্তারকের পিস্তলের মাত্র কয়েকটা গুলিতে একজন নিষ্ঠাবান, জনপ্রিয় রাজনীতিকের জীবনাবসান হয়। অথচ কে জানতো- হয়তো লোকমানই ছিলেন বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী। ষড়যন্ত্রকারী, হন্তারক ফুল ফোটার আগেই একে নিপাত করে দিল। একজন লোকমানের জীবনাবসানে তার নিজের যতটা ক্ষতি হলো, তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি হলো সে অঞ্চলের মানুষের। সে ক্ষতি পোষাতে আমাদের হয়তো আরো কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হতে পারে।

মনে পড়ে নরসিংদির আরেক কৃতি সন্তান বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক আবুল মান্নানকে। নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা, এই সৎ মানুষটির অকাল প্রয়ানে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। আর সে সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিছু লোক ক্ষমতা ও অর্থের মদমত্ততায়। বাংলাদেশের রাজনীতিকে বি-রাজনীতিক করার প্রক্রিয়ায়ই সঙ্ঘটিত হয়েছে এ হত্যাযজ্ঞ। মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিকরা এমনকি আওয়ামী লীগ থেকেও অপসারিত এবং বিস্মৃত। তাদের জায়গা দখল করেছেন ব্যাবসায়ী এবং ফটকাবাজরা। তারাই হচ্ছেন মন্ত্রী, উপদেস্টা এবং এমপি। কাজেই সৎ রাজনীতিকরা ঘরে বসে মাছি মারবেন, আর সে সুযোগে ভবিষ্যতে এ ধরণের নির্মম হত্যাকাণ্ড, গুম-অপহরনের ঘটনা আরো বাড়বে এটা অস্বাভাবিক কোন নিয়তি নয়। ভবিষ্যতের আশংকায় আমি একটি প্রস্তাবনা এখানে রাখতে চাই।

রাজনীতিকরা থানায় জিডি করে রাখবেন
বাংলাদেশে উঠতি এবং প্রতিষ্ঠিত মিলিয়ে কতজন রাজনীতিবিদ? ৬৪টি জেলায় ৫০ জন হিসেবে গড়ে ৩০০০। ঢাকা শহরে একাই ২০০০। কারন ঢাকা বাংলাদেশের ক্ষমতা ও অর্থের কেন্দ্রবিন্দু। এই ৫০০০ রাজনীতিক যদি তাদের সম্ভাব্য হন্তারকদের তালিকা দিয়ে থানায় জেনারেল ডাইরি করেন, তাহলে দেখা যাবে হয়তো ৫০০০ জনের নামই তালিকায় এসে যাবে। তখন এরা কোথায় কার সঙ্গে কথা বলেন, কোন হোটেলে বসে বৈঠক করেন সবই নজরদারির প্রয়োজন পড়বে। আর তা দেখভালের জন্য থাকবে ৫০০০ সদস্যের শক্তিশালী গোয়েন্দা দল। এই গোয়েন্দা দল হবে অনেকটা এফবিআই-এর মতো। মেধা, প্রশিক্ষন এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত থাকবেন এরা। এরা ৫০০০ রাজনীতিকের প্রতিদিনের কার্যক্রম তদারক করবেন, রাজনীতিবিদদেরই নিরাপত্তার স্বার্থে।

পয়সা আসবে কোত্থেকে
এখন অনেকে হয়তো প্রশ্ন করবেন এই কর্মযজ্ঞের পয়সা আসবে কোত্থেকে? আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন- নরসিংদির এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রেলওয়ের ২’শ কোটি টাকার বেশী ট্রেনের বগি পুড়েছে। স্বয়ং যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন এ কথা। মনে করুন- প্রতি একজনের বেতন এবং লজিস্টিক সাপোর্ট হিসেবে যদি গড়ে প্রতি বছর ১২ লাখ টাকা খরচ হয়, তাহলে ৫০০০ জন গোয়েন্দার পেছনে খরচ হবে বছরে ১২০০০০০ পূরণ ৫০০০= ৬০,০০০০০০০০ (অর্থাৎ ৬০ কোটি) টাকা। গাড়ি ও ট্রেন পোড়ানো থেকে বছরে সাশ্রয় হবে ১শ’ ৪০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই কিন্তু জনগণের ট্যাক্সের টাকা। বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য আপনাদের সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিউইয়র্ক, ৫ নভেম্বর ২০১১