ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

বাংলাদেশে এসেছি তিন সপ্তাহ হলো। রাজধানী থেকে মফস্বল- চসে বেড়াচ্ছি আনাচে-কানাচে। যেচে কথা বলছি মানুষের সাথে। কেমন আছেন তারা। দেশ নিয়ে কে কি ভাবছেন। নিজের এবং সমাজ জীবনের কোন সমস্যা তাদের পীড়া দেয় কিনা। দেশটি কোন পথে চলছে? ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা কিছু আছে কি-না? কোথাও উত্তর পেয়েছি, কোথাও পাইনি। কোথাও নীরব ভাষা নিজের মতো করে বুঝে নেয়ার চেস্টা করছি।

এক দশক আমি প্রবাসী। নাড়ীর টানে মাতৃভূমিতে ফিরে আসি মাঝে মাঝে। আমার দেশ, আমার স্বপ্নের ভূমি। দেশটির কাছে আমি নানাভাবে ঋণী। এ ঋণের দায় শোধতে আমি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণের চেস্টা করি। কেবল অর্থ দিয়ে এ ঋণের দায় শোধ করা যায় না। আমার কাছে মানুষকে ভালবাসার অর্থ- তার জীবনবোধে আঁচড় কাটা, জীবনকে পালটে দেয়া। আমি উপলব্ধি করি- পাল্টে দেয়ার কাজটি খুব সহজ নয়। এর সঙ্গে রাস্ট্র ব্যবস্থা, রাজনীতি, অর্থনীতি আর ব্যক্তিক-সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি জড়িত। তবু আমি কথা বলি, জানার চেস্টা করি।

কাল রাতে বাসে ঢাকা থেকে সিলেট ফেরার পথে সহযাত্রী এক শিক্ষিত তরুন কামরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপ-চারিতার এক পরযায়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- বাংলাদেশের মূল সমস্যা তিনি কি ভাবেন। কামরুল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস পাশ করে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানির কাজের সঙ্গে যুক্ত। নিজের উচ্চাশা আছে। একজন গোছানো স্মার্ট তরুণ। নোট বই, কলম, মোবাইল ফোন, মোবাইলে
সার্চ লাইটের ব্যাবহার, তার ব্যক্তিত্বকে আমার কাছে আরো আকর্সণীয় করে তোলে। তার বিশ্বাসে বাংলাদেশের মূল সমস্যা জনসংখ্যা, লুটপাটের অর্থনীতি, আর হানাহানির রাজনীতি।

তার হিসেবে বাংলাদেশে শতাধিক মাল্টি লেভেল কোম্পানি কাজ করছে। মানুষও সরল বিশ্বাসে বিনিয়োগ করছে বিনিয়োগের অন্য কোন নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র না থাকায়। কিন্তু আইনের যথেস্ট রক্ষা কবচ না থাকায় মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। মানুষের টাকা আত্মসাত করে কোম্পানি হচ্ছে নিরুদ্দেশ। এ ক্ষেত্রে রাস্ট্র তার দয়িত্ব পালন করছে না। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে দেশের পুঁজি বাজারে। অবাক বিস্ময়ে ভাবি অর্থনীতিতে এত সব পুকুর চুরির পরও এ দেশের নীতি-নির্ধারকরা রাতে ঘুমোন কি করে? না কি পুকুর চুরির ভাগ বাটোয়ারা তাদের বরাতেও জোটে?

এ দেশের মানুষ অত্যন্ত ধৈর্যশীল। তারা নেতা-নেত্রীদের কথা বিশ্বাস না করলেও অবজ্ঞা করে না। মানুষ দূর্বল। দুর্বলদের শাসন করা সবচেয়ে সহজ। গত কূড়ি বছর তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসনে মানুষ কি পেল, আর কি হারালো- তার হিসেব-নিকেশ হওয়া আজ খবই জরুরি। হয়তো এমন দিন বেশি দূরে নয় কড়ায়-গণ্ডায় মানুষ আদায় করবে তার সব হিস্যা। কিন্তু সেটা হবে সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়।

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ২০১১