ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

লাশ চাই, লাশ!! নির্বাচনের দিন তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে বাঙালীকে বোকা বানানোর তৎপরতাটাও বেশ জোরে-শোরে শুরু হয়েছে। বোকা বানানোর হরেক কিসিমের মধ্যে লাশের রাজনীতি অন্যতম। লক্ষ-কোটি হাড় জিরজিরে মানুষের হররোজের দূর্ভোগ যতটা কাবু করে না, তার চেয়ে বেশি কাবু করে একটি লাশ। রাজনীতিতে তাই লাশের কদর সবচেয়ে বেশি! মাফিয়া চক্রান্তে শেয়ার বাজারে হাজার-হাজার মানুষের নিঃস্ব হওয়ার “সংবাদ” কোন সংবাদ না হলেও লাশের সংবাদে সবাই সচকিত হয়ে উঠি।

তাইতো লাশ চাই, লাশ! ক্ষমতায় যেতে গেলে দরকার “লাশ”। এক-দুই-শতাধিক লাশ! যে কোন ভাবেই ফেলতে হবে লাশ! কারন লাশের রাজনীতি ছাড়া ক্ষমতার পালাবদল ঘটে না। ১৯৭৫, ১৯৮০, ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০৬-এ আমাদের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে যেমন লাশের প্রয়োজন ছিল, আজ আবার তেমনি অনুভূত হচ্ছে! কিছু মানুষের বেঘোরে লাশ হয়ে যাওয়ার ভয়াবহ এক পরিণাম সম্ভবত আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে! কিন্তু কেন? ক্ষমতার পালাবদলে মানুষ লাশ হবে কেন? আর এ লাশ কেন রাজনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হবে? এ কোন নির্মম সমাজে আমরা বসবাস করছি?

বেচারা সাগর-রুণি’র বেঘোরে লাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এক নতুন রাজনৈতিক মেরু করণের সূচনা করেছে। এ ভয়াবহ মৃত্যুর পরিণামে জেলের কয়েদী নতুন নামে রাজনীতির ময়দানে আসর মাত করার সুযোগ
পাবে, তাতো কাঙ্ক্ষিত নয়? সৌদি দূতাবাসের কর্মচারি লাশ হবেন, আর তা নিয়ে রাজনীতির জ্বলন্ত কড়াইয়ে কেউ-কেউ ঘি ঢালবেন, তা কি করে হয়? আর এ সুযোগ যে সরকারের তরফ থেকেই কেউ-কেউ করে দিচ্ছেন না, তাই বা মানবো কি করে?

গত দুই দশকে এক বিধ্বংসী “ডাইনী” চরিত্র ভর করেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। জীবিত মানুষের কষ্টসহিষ্ণু দিন গোজরাণ ধরা পড়ে না এ ডাইনীর চোখে। এ ডাইনী আলোতে চোখ খুলে না, কেবল অন্ধকারে নর্তন-কূর্দনে মেতে ওঠে! অন্ধকারের অভিশাপ, আলোতে ধরা পড়ে “লাশ” হয়ে। আর এ লাশ’ই হয়ে যায় মহারাণী “ডাইনী”র কম্মখাবার! আজ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি যখন জনতার আদালতে ফাঁসির রায় পেয়ে প্রচলিত আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে, তখন শঙ্কা হয়- “মাতুঙ্গি মেতেছে আজ সমর রঙ্গে”!

বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে “গণতান্ত্রিক রাজনীতি” পরিচালনার দৃপ্ত শপথে যে বাঙালি জাতি ১৯৯০-এ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। যে জাতি এই স্বাধীনতার রক্ত-সবুজ পতাকা হানাদারের হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছিল, সে জাতিকে এতো সহজে পরাভব মানানো যাবে না। দেশের তরুণ সমাজ আর কাউকে লাশের রাজনীতি করতে দেবে না! রাজনীতির সংস্কার এখনি প্রয়োজন। ঘূণেধরা সেকেলে রাজনীতির বৃত্ত থেকে রাজনীতিকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনবে এ দেশের তরুণরাই। সরকার তার সততা ও নিষ্ঠা, এবং কর্ম তৎপরতা প্রদর্শনের সুযোগ সবসময় সংরক্ষণ করেন। সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই সরকার সে সুযোগ কাজে লাগাবেন, তাহলেই মানুষ সস্থির নিঃশ্বাস ফেলবে।

নিউইয়র্ক, ৬ মার্চ ২০১২