ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রায় এক মাস হতে চললো। ১১ই ফেব্রুয়ারিতে একটি মাত্র সন্তানকে এই পাষাণ ধরণীতে একা ফেলে চলে গেল মা-বাবা। কোলের এই শিশুটির জানা ছিল না মৃত্যুর বিভীষিকা কী! ঘুম থেকে উঠে পৃথিবীর বেঁচে যাওয়া মানুষদের মোবাইল ফোনের কী টিপে জানিয়ে দিল তার মা-বাবা আর বেঁচে নেই। এরপর এই বীভৎস জোড়া খুন নিয়ে চলল নাটক। এ নাটকের কোন যবনিকা নেই। কারন নাটকটি এখন রাজনীতির ঘোর মারপ্যাঁচে আটকে আছে। সবাই যেন ছবির মতো “ফ্রিজ”। এ যেন কবরের দেশ! এ যেন কবরের নিস্তব্ধতা!

বিচারের বাণী নিরবে কাঁদে। কে জানি কখন বলেছিল- “জাস্টিস ডীলে, জাস্টিস ডিনাই”! বছর খানেক আগে যুবলীগের এক নেতা ইব্রাহিম খুন হলেন এক সাংসদের পিস্তলের গুলিতে। পত্রিকায় পড়ে ধারণা হয়েছিল হয়তো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। খুনের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। কারন বাংলাদেশে খোলা বাজারে যে কেউ অস্ত্র কিনতে পারে না! এরপর নরসিংদীর লোকমান, একজন জনপ্রিয় পৌর মেয়র। এক মন্ত্রীর ভাইকে আটক করা হলো, অথচ তিনি জামিন পেয়ে গেলেন হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে। মানুষ জানলো না কেন একটি লোককে হত্যা করা হলো!

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আমিও ছিলাম শিশু। কিন্তু আমার মতো বয়সী শিশু রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন সেদিন মেনে নিতে পারিনি, আজো মেনে নিতে পারি না বিনা বিচারে মানুষের খুন হয়ে যাওয়া। যে মানুষ মরে যায়, সে বেঁচে যায়। কিন্তু জীবিতদের জন্য রেখে যায় গ্লানি। এ গ্লানি থেকে মুক্তি নেই। সে কারনে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংসদে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল বিল’ পাশ করা হয়। এরপর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রতিটি পর্বে আমি ছিলাম সরব সাক্ষী। পুরনো ঢাকার জেল খানার সামনে বিশেষ আদালতে উপস্থিত ছিলাম প্রতিদিন। প্রায় তিন বছর এ মামলা চলছিল ঢাকার দায়রা জজ গোলাম রসুলের বিশেষ এজলাশে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দ ২২ জন সাক্ষী হাজির করেছিলেন। প্রায় ২২ বছর আগের ঘটনাকে এক সূতোয় বেঁধে যে অসীম সাহস এবং একাগ্রতা তিনি দেখিয়েছিলেন, সে জন্য তিনি জাতীয় পুরুষ্কারের ভূষিত হয়ার মতো যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। মামলায় হত্যাকারী কয়েক জনের ফাঁসী হয়েছে, কয়েক জন এখনো দেশের বাইরে। বিচারের বাণী দেরিতে হলেও বাস্তবায়িত হওয়ায় মানুষ স্বস্থি পেয়েছে।

আমাদের দেশে যোগ্য তদন্তকারী নেই, এ কথা আমি মেনে নিতে পারি না। প্রায় দশক কিংবা তারও আগে নিশান হত্যার কথা হয়তো এখনো আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। কয়েক জন বন্ধু তাকে বহুতল এপার্টমেন্টের ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করেছিল। মামলার কোন প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা আলামত কিছুই ছিল না। ছিল কেবল একটি ভিডিও ক্যাসেট, সে রাতে বন্ধুরা মিলে দেখেছিল সেটি। ওই একটি ভিডিও থেকেই বের হয়ে আসে হত্যাকারী বন্ধুদের জোট! গোয়েন্দারা সেদিন তন্ন-তন্ন করে বের করেছিলেন ভিডিও শপ, যেখান থেকে সেটি রেন্ট করা হয়েছিল!

আমি জানি না আমাদের দেশের গোয়েন্দা শাখায় কি ভাবে লোক নিয়োগ দেয়া হয়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে কখনো “ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন”-এর মতো জরুরি বিষয় যুক্ত করার কোন প্রয়জনীয়তা উপচার্যরা কখনো অনুভব করেছেন কি না, তাও আমি জানি না। শুধু এটুকু জানি- “নো এডুকেশন, নো ডেডিকেশন”। যথাযথ শিক্ষা ছাড়া হয়তো দু’চার জন আব্দুল কাহহার আকন্দ পাওয়া যাবে, কিন্তু অপরাধ তদন্তের কোন প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যাবে না। আর রাজনৈতিক নিয়োগে আমাদের দেশের বিচার এবং প্রশাসন যন্ত্রের বারোটা বাজতে আর কতো বাকি সেটাও বোধ করি সবাই জানেন!

পরিশেষে আজ সৌদি দুতাবাসের কর্মকর্তা খুন হওয়ার পর আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু আপা ঠোঁটের কোনে হাঁসি মেখে যেভাবে বিদেশী তদন্তকারীকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ, তা দেখে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে আসে। এ কোন বর্বর দেশে আমার আত্মীয়-পরিজন বসবাস করে, যেখানে একটি খুনের তদন্তের যোগ্যতা নেই দেশটির আমলা-লুটিরাদের? তাহলে সাগর-রুণি হত্যার কি হবে? কি হবে ইব্রাহিম, কিংবা লোকমান হত্যাকাণ্ডের? এ কোন বর্বরতায় ছেয়ে গেছে আমাদের চারপাশ?

আজ আমি নিউইয়র্কে কয়েকজন প্রাইভেট “ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটর”-এর সঙ্গে আলাপ করেছি। এদের কেউ-কেউ মধ্য আমেরিকা কিংবা আফ্রিকার দেশগুলোতে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছে। এশিয়ার কোন দেশের ব্যাপারে এই প্রথম তারা আগ্রহী “কল” পেল। ভাবতে কস্ট লাগলো- আমার প্রিয় মাতৃভূমি কি তাহলে হন্ডুরাস, এল সালভাদর, জামাইকা, জিম্বাবুয়ে, সুদান কিংবা দক্ষিন আফ্রিকার কোন দেশ হয়ে গেল? যেখানে হত্যার বিনিময়ে মানুষ শান্তি, প্রাচুর্য, ড্রাগ আর ক্ষমতার আস্বাদ লাভ করে! হত্যাই যেখানে জীবনের বিনোদন!

এখানে আমি প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটরের ওয়েব এড্রেস দিলাম। আগ্রহীরা খোঁজে দেখতে পারেন। কেউ উদ্যোগ নিলে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলবো, আপনারা নিশ্চয় প্রবাসীদের সহযোগিতা পাবেন।
1. www.pvteyes.com
2. www.NorthAmericanInvestigations.com
3. http://www.pvteyes.com/criminal-investigation.php 1-800-724-8080
4. www.the-detectiveagency.com
5. www.homicideinvestigators.com

নিউইয়র্ক, ৮ মার্চ ২০১২