ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

এই ঘোর আঁধারে যে যায়, সে আর ফিরে আসে না। যে হারায়, তার আর জেতা হয় না। যার ভাঙ্গে, তার আর জোড়া লাগে না। কয়েকটা দিনের হা পিত্যেশ, ব্যাকুলতা, তার পর সব সেই আগের মতো। মধ্যিখানে মানুষ বিশ্বাস হারায় নিকটজনের উপর থেকে, আস্থা হারায় নিজের ওপর, আর অদৃশ্য এক ভয়ের দেয়াল তৈরি করে।

অবশ্য ইতিহাস বলে- মানুষের এই অবিশ্বাস আর ভয়ের বলয় কখনো স্থায়ী হয় না। মানুষ এক সময় জেগে ওঠে। নিজেই নিজের ভয়ের বলয় ভেদ করে বেড়িয়ে আসে। তখন এক অফুরন্ত শক্তির সমাবেশ আমরা দেখি। মানুষের জেগে ওঠার শক্তি! প্রবল বেগে! বালির বাঁধের মতো সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়! যৌবনের জলতরঙ্গ সব এক হয়ে মিশে যায় এক মোহনায়।

আমাদের এই কাঁদা মাটির বাংলাদেশে এখন কল্পনাতেও কস্ট হয়- এখানে ৫২, ৭১, ৯০-এর মতো প্রচন্ড প্রলয় সৃষ্টি করেছিল এ দেশেরই কৃষক-মজুর-মধ্যবিত্ত-ছাত্র! অথচ, কিছু মানুষের কাছে এ দেশেরই মানুষ এখন প্রকৃত বোঝা, পাগল প্রকৃতির, মূর্খ ও অকেজো! এরা বেঘোরে মারা পড়ে, অথবা বাকি সবাইকে বেঁচে থাকার সান্তনা দিয়ে নিজেই মৃত্যুর পথ বেছে নেয়! এদের বোঝা বইবার শক্তি নেই এ দেশেরই রক্তচোষা পাণ্ডবদের।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ-শাসনে বিরক্ত হয়ে আমরা সৃষ্টি করেছিলাম বাংলাদেশ, আবার গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষায় আমরা সৃষ্টি করেছি ৯০-এর গণ জোয়ার। আজ ২২টি বছরের পরীক্ষানিরীক্ষায় আমরা বুঝে নিয়েছি আমার ‘গণতন্ত্র’ আজ পরিণত হয়ে গেছে মুষ্টিমেয়ের শোষণের হাতিয়ারে। গণতন্ত্রের “ভোটের অস্ত্র” আর আমার হাতে নেই! রাস্ট্রীয় সন্ত্রাস, কালো টাকা আর মাফিয়াদের থাবায় আমার ভোট ও বেঁচে থাকার অধিকার আজ বিপন্ন!

যে সন্ত্রাস আর দূর্নীতির সর্বব্যাপী থাবায় বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতের দিক-নির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে, সে মানুষ আজ আশা চায়, চায় জেগে ওঠার প্রেরণা। বাংলাদেশের ইতিহাসেই আছে সেই শক্তির জেগে ওঠার অমিত সম্ভাবনা। প্রয়োজন এই প্রচ্ছন্ন শক্তির লালন এবং সময়ের প্রস্তুতি। সব লোভ, শঠতা, আর কূপমণ্ডুকতাকে পায়ে দলে কোন এক ‘পাগল’-এর আগমণবার্তা আমার কানে বাজে। আর সবার চোখে এ লোকটি ‘পাগল’। কিন্তু আমি একে পাগল বলি না। এ আমাদেরই ঘুণে ধরা সময়ে ইতিহাসের নায়ক! ‘পাগল’টি জনপদে আসছে। জনপদের অক্ষম-বোবা লোকগুলি রাস্তা থেকে সরে দাঁড়িয়ে আছে সাইড লাইনে। কেউবা পাগলকে দেখে হাসছে, ঢিল ছুঁড়ছে, কিন্তু সবার চোখেই কৌতুহল। কী না তান্ডব ঘটায় এ পাগলটি! পাগলের সামনে কেউ নেই। কিন্তু পেছনে লাখো মানুষের মিছিল! এ পাগল আর কেউ না, আমাদেরই ইতিহাসের তীতুমীর, সূর্যসেন, মুজিব, জিয়া, নূর হোসেন!

নিউইয়র্ক, ১ এপ্রিল ২০১২