ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রাজনীতি ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। সেই বড়বেলায় পড়েছিলাম ছোটদের রাজনীতির কথা। ঘুম থেকে উঠে দাঁতে টুথ পেস্ট লাগানো থেকে শুরু হয় রাজনীতি। আর শেষ হয় রাতে ঘুমোবার পর। ঘুমানোর সময়টি রাজনীতির আওতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কারন ঘুম আর মউত সমান। ঘুমন্ত আর মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে কেউ রাজনীতি করে না বলে। হাল আমলে বাংলাদেশের রাজনীতি ঘুমের সময়েও জেগে ওঠে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মতো রাজনীতিবিদেরাও রাত বিরেত মানেন না। কারন রাজনীতিতে বাণিজ্য লক্ষ্মী! সাম্প্রতিক সময়ে গভীর রাতে সুরঞ্জিত সেনের টাকার বস্তা এবং ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া এক নতুন রাজনীতির দিক নির্দেশনা জারি করেছে। লক্ষ্য করুন- দুটো ঘটনাই ঘটেছে গভীর রাতে। একজন রাত জেগে ৭০ লাখ টাকার অপেক্ষা করছিলেন, আরেক জন ডিওএইচএস-এ নতুন কেনা বাড়ির পাওনা টাকা নিয়ে দেন দরবার করতে গিয়েছিলেন রাজধানীর অভিজাত হোটেলে। এ যেন হিন্দি সিনেমার দৃশ্য। মহিলারা হিন্দি সিনেমা বেশি দেখেন বলে তাদের বদনাম আছে। বাস্তবে এ সব হিন্দি সিনেমা মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে কতটা জনপ্রিয় তা আঁচ করা যায় দেশের মিডিয়া জগতের কাহিনীর অবতারণা দেখে। দেশের রাজনীতির জন্য এক নতুন নির্দেশনা বটে! এই নির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ ব্লগার বৃন্দ এবং সরকার যথাযথ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন কি না তা জানতেই এ লেখার চেষ্টা!

রাজনীতির নেতা কারা?
দেশে এখন রাজনৈতিক নেতাদের একটি গোষ্ঠীতে ফেলা যায়। রাজনীতি তারাই করতে আসে যাদের পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল। এরা কেউ মন্ত্রী হতে চায়, এমপি হতে চায়। বাজার কমিটির সভাপতি হতে চায়, স্কুল কমিটির চেয়ারম্যান হতে চায়, অথবা মেয়র-কমিশনার হতে চায়। সর্বোপরি এরা নিজেদের নামে অন্তত প্রকাশ্যে বড় বড় বিলবোর্ডে ছবি মোড়াতে চায়।

নেতা হলে লাভ কি?
নেতা হলে বহুবিধ লাভ। শেয়ার মার্কেট ম্যানিপুলেট করা যায়। জায়গা-সম্পত্তি দখল করা যায়। প্রকাশ্য আয় না থাকলেও কোটি কোটি টাকা ভেসে আসে বন্যার পানির মতো। ঢাকার ফার্ম গেট থেকে শাহজালাল বিমান বন্দর পর্যন্ত রাস্তার কর্তৃত্ব নেয়া যায়। সোনা-রুপা-ডলার চোরাচালানের নির্বিঘ্ন রুট নিশ্চিত করা যায়। রাজউকের প্লট কমদামে পাওয়া যায়। সংখ্যালঘুর সম্পত্তি দখল করে বাগান বাড়ি বানানো যায়। সরকারি হাসপাতাল থেকে টেন্ডার বাক্স পর্যন্ত সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা যায়। সর্বোপরি চাঁদা তোলা যায় রাস্তার হকার থেকে নিরন্ন বস্তিবাসী পর্যন্ত!

কে হবেন নেতা?
নেতাকে অবশ্যই বোমা বানানোর কায়দা-কানুন জানতে হবে। অথবা বোমা বানানোর মতো দক্ষতা সম্পন্ন লোক রাখতে হবে। লাইসেন্স অথবা বিনা লাইসেন্সে রাখতে হবে অস্ত্র! হরতালে রাজত্ব কায়েমের মতো বুকের পাঠা রাখতে হবে। এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে নাম-ডাক থাকতে হবে। আপাত ভদ্রতার মুখোশ পরা সিনিয়র নেতাদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে হবে। নিজের অকর্মের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদী মাথাচাড়া দিতে চাইলে তাকে ‘গায়েব’ করে দিতে হবে। চাঁদা তুলতে হবে বেপরোয়া হয়ে। এর কিয়দংশ ঢালতে হবে উর্ধ্বতন নেতাদের আরাম আয়েশে। নিজের বেপরোয়া জীবন-যাপনের কারনে পরিবার পরিজনকে সবসময় রাখতে হবে হাইপার টেনশনে।

এসব নেতার জন্য রাস্ট্রের কি করার আছে?
রাষ্ট্রের অবশ্যই করার আছে অনেক কিছু। এ সব নেতার পাহাড়ায় রাষ্ট্রকে ২৪/৭/৩৬৫ গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। তিন শিফটে রাখতে হবে গোয়েন্দা। কারন এ সব রাজনীতিবিদের ঘুম বলতে কিছু নেই। জনসাধারণ যখন ঘুমিয়ে থাকবেন, তখনই তাদের আসল রাজনীতি শুরু। কাজেই রাজধানী ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরগুলো পর্যন্ত অন্তত ৬৪+৩৬ (৬x৬)= ১০০ জন নেতার জন্য ৪০০ জন নতুন গোয়েন্দা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা নবিশদের জন্য বিদেশী প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে করে প্রতিদিনের হরতালে পাঁচশ কোটি টাকার লোকশান থেকে রেহাই পাবে দেশের লোকজন। দেশের অর্থনীতি অন্তত দিনে দুপুরে ডাকাতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

আরেকটি কথা- রাজনীতিজীবীরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তাদের না আছে মান সম্মানের ভয়, না আছে জীবনের ভয়। তাদের শত্রুর অভাব নেই। কাজেই কে কোথা থেকে তাদের হত্যা কিংবা গুম করে তার কোন হদিস নেই। অথচ তাদেরকে হারানোর ভার লাঘব করার মতো শক্তি এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের নেই। কাজেই তাদেরকে রাস্ট্র কর্তৃক সার্বক্ষণিক তদারকির প্রয়োজনীয়তা আজ সময়ের দাবী!
নিউইয়র্ক, ২৪ এপ্রিল ২০১২

নিচে কিছু লিঙ্ক দিলাম, নিজ দায়িত্বে পড়বেন-
বাংলানিউজ২৪
বাংলানিউজ২৪