ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কারোরই কম না। কিন্তু এ সবের সমাধান কোথায়, এ নিয়ে বোধ করি সবার মনেই পৃথক পৃথক চিন্তা উদয় হয়। দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা আইনশৃঙ্খলার। আর অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারনে ইতোমধ্যে আমরা হারিয়েছি অনেককে। একটি দেশের আইন শৃঙ্খলার যখন অবনতি হতে থাকে, তখন বাকি সব সমস্যাও মাথা চাড়া দিতে থাকে এবং এক সময় দেশের সার্বভৌমত্বও বিপন্ন হয়।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিদিন দু’বেলা করে খবর অনুসন্ধান করতাম, এই বুঝি তাকে পাওয়া গেল। একই অবস্থা ছিল সাগর রুনি’র ক্ষেত্রে। এই বুঝি অপরাধী ধরা পড়লো! মাঝখানে একজন দুতাবাস কর্মচারীও প্রাণ হারালেন ঘাতকের হাতে। সবই রয়ে গেল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখন প্রতিদিন মনে হয় আরো কোন রাজনীতিক অথবা মিডিয়া কর্মীর প্রাণ বধ অথবা গায়েব করে দিয়ে অপরাধীরা প্রমাণ করতে চায় তারা এই রাষ্ট্রটির চেয়েও অনেক ক্ষমতাধর!

প্রশ্ন দাঁড়ায়- এটাই কি আমাদের নিয়তি?
রাস্ট্র হিসেবে আমাদের আয় খুবই সীমিত। আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা। একটি সেতু করতে পারি না আমরা পয়সার অভাবে। রাস্তাঘাটের অবস্থা যাচ্ছে তাই। কেবল সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মারা যান গড়ে ৮-১০ জন মানুষ। আমাদের নৌ চলাচলের অবস্থাও মারাত্মক। নৌ ডুবিতে মানুষ মারা যান অন্তত প্রতি মাসে। আমাদের রেলপথের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। আমাদের স্কুল-কলেজগুলোতে লেখা পড়ার মান খুবই নিম্ন। কারন আমরা পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণী কক্ষ এবং শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে পারি না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখা পড়া এবং গবেষণার কোন পরিবেশ নাই। কারন সেখানেও নাই পর্যাপ্ত অনুদান। সর্বপোরি আমাদের নাই পুষ্টিকর খাবার। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ পুস্টিহীনতার শিকার। আমাদের আয়ের সিংহ ভাগ চলে যায় ন্যুনতম খাবারের যোগানে। লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও সাধ্য নাই দেশের অন্তত দুই তৃতীয়াংশ মানুষের। সাধারণ চিকিৎসা লাভের সুযোগ নাই দেশের অন্তত অর্ধেক মানুষের। আর সাস্থ্য সম্মত আবাসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত অন্তত দুই তৃতীয়াংশ মানুষ। অথচ রাজনীতি কিন্তু এই মানুশগুলোকে নিয়েই। যারা এই রাজনীতির নেতা কিংবা ক্ষমতাধর, এরা কিন্তু এ সব সমস্যার মধ্যে নেই। তাদের খাওয়া, বাসস্থান, লেখাপড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত কোন কিছুরই সমস্যা নেই। বর্তমান বিশ্বে সহজ ব্যবসা-বাণিজ্যের কারনে কোন কিছুই তাদের জন্য আর দুস্প্রাপ্য নয়। বিদেশ থেকে আমাদের আমদানি হয় সবই। হাসপাতালের সেবিকা থেকে নাইট ক্লাবের নর্তকী পর্যন্ত। তথাপি দেশের ৯৯ ভাগ মানুষের মনে শান্তি নেই! কেন? কারন ক্ষমতা এবং রাজনীতির সুবিধাভোগী মাত্র এক ভাগ তাদের জীবনকে জিম্মি করে রেখেছে!

এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়- এই জিম্মি দশা থেকে কি মানুষের মুক্তি নেই?

নিশ্চয় আছে! আগেই বলেছি আমাদের দেশের আয় খুব সীমিত। আমরা ইচ্ছা করলেই বাড়ির সামনে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিসি টিভির ক্যামেরা বসাতে পারি না। আমাদের বাহিনীগুলোর জন্য ইচ্ছা করলেই আধুনিক সরঞ্জামাদি, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি, কিংবা তাদের বেতন-ভাতা বাড়াতে পারি না। কিন্তু একটি কাজ আমরা করতে পারি, আর তা হলো আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মতপার্থক্য দূর করে আমাদের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের একটি পথ বের করতে পারি।

এই আলোচনার জন্য একটি সুরম্য সংসদ জনগণের অর্থেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর জন্য ঘটা করে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমরা সংসদ সদস্যও নির্বাচন করি। এই সাংসদদের জন্য হাড় জিরজিরে জনগণের ট্যাক্সের পয়াসায় বেতন-ভাতাদিও নির্ধারণ করা আছে। অথচ কি দুর্ভাগ্য, এই সাংসদরা জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য সংসদে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না।

এমন দু’চার জন সংসদ সদস্য নেই, যারা বেতন ভাতা তোলার সময় তাদের বুকটা একবার কেঁপে ওঠে না? তারা কি হালাল না হারাম খাচ্ছেন? না কি এই বোধও এখন আর কাজ করে না! আমি এই বাংলাদেশের সন্তান। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি- সব সাংসদ সংসদে গেলে, হরতাল না দিলে বাংলাদেশে কোন সমস্যাই থাকবে না! এও বিশ্বাস করি- আমাদের জনগণ এতটাই সৃজনশীল যে, দেশে শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকলে তারা কারো মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকবে না। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করবে।

আপনাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা সংসদে যান, এবং হরতালের আযাব থেকে মানুষকে মুক্তি দিন!

নিউইয়র্ক, ২ মে ২০১২