ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

একটি পরিবারে সুন্দরভাবে থাকতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, দ্বিতীয়ত সততা তৃতীয়ত সহানুভূতিশীল হওয়া। অর্থাৎ একে অন্যের প্রতি ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে হলে উপর্যুক্ত কয়টি শর্ত মেনে চলা অপরিহার্য।

এই ভার্চুয়াল জগতে ফেইসবুক নিয়ে অনেক স্বামী তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে সন্দেহ করে। তাদের ধারণা স্ত্রী বা স্বামী অন্য কারো সাথে চ্যাটিং করলে অন্য রকম সম্পর্ক তৈরী হবে। এমন ২/৪ টি অঘটন যে ঘটেনি বা ঘটবেনা তা নয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরাই তাদের স্ত্রীদের উপর কিছু শর্ত আরোপ করে ফেইসবুক চালানোর অনুমতি দেন। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর নানান বাহানায় ফেইসবুক বন্ধ করতে বাধ্য করান। অথচ সেই স্বামী ঠিকই অন্যের স্ত্রী বা মেয়েদের সাথে চ্যাট করে যাচ্ছেন। ফোন করে কথা বলছেন। তা হলে উনার স্ত্রীর দোষ কোথায়?

স্বামী ব্যক্তিটির বিশ্বাস, স্ত্রীও হয়তো উনার মতই কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন, এমন সন্দেহে নিজের কর্মকান্ডগুলো স্ত্রীর কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে নিজে প্রভুত্ব খাটাচ্ছেন। তাছাড়া সামাজিক পরিবেশের কারণেও ঘটে। যেমন- দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ নানান কথা বলে স্বামীর মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিতে পারে। বোকা স্বামী কিছু না বুঝেই স্ত্রীর উপরে সন্দেহ নিয়ে সংসারে অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অথবা স্ত্রী যদি স্বামীর তুলনায় বেশি সুন্দরী বা বেশি শিক্ষিতা হয় বা চাকুরী জীবনে স্ত্রী যদি স্বামী থেকে উঁচু পদে থাকেন, তাহলেও সংসারে এমন অশান্তির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে। অথবা স্বামী যদি তার পরিবারকে সর্বক্ষেত্রে প্রাধান্য দেন কিন্তু স্ত্রীর পরিবারকে মূল্যায়ন না করেন তখন স্বামী তার স্ত্রীর ভালবাসা হারায়, পরিবার মেয়েটির শ্রদ্ধা হারায়। আমার মতে এখানে স্বাম-স্ত্রীর মাঝে কোন ভালবাসা নেই। ভালবাসার মানেই হলো একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, সততা ও সহানুভূতিশীল হওয়া। এর মাঝে যে কোন একটি অনুপস্থিত থাকলে ভালবাসার গুরুত্ব হারায়।

আমি সেই সকল স্বামীদের অনুরোধ জানাব, প্রথমে নিজে সংশোধন হোন, পরে স্ত্রীকে সংশোধনের জন্য ব্যবস্থা নিন। কেননা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অন্যের প্রতি সমান অধিকার রাখেন। উভয়েই সংসারের উন্নতির জন্য সচেষ্ট থাকেন। উভয়েই কষ্ট করেন তবে স্ত্রী ও যদি চাকুরীজীবী হোন সে ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রমী হতে হয় ও কষ্ট করতে হয়। এখানে স্ত্রীর প্রতি স্বামীদের অনেক বেশি সহানুভুতিশীল হতে হয়। তাদের অবচেতন মনে সৃষ্ট ভুলত্রুটিগুলো উপেক্ষা করতে হয়, তাদের কর্মগুলোকে মূল্যায়ন করতে হয়। সুযোগ পেলে তাদের ঘরের কাজে কিছুটা সাহায্য করলে স্ত্রীরা উৎসাহিত হোন এবং ভালবাসা আরও মজবুত হয়।

ইসলামে পুরুষ কিংবা মেয়েলোক প্রত্যেকেরই চলাচলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানেও পুরুষ বীরেরা তাদের সীমাবদ্ধতার ভিতরে থাকেন না। নিজে যে কাজটি করেন না সেটি স্ত্রীর প্রতি কেন আরোপ করবেন? তাই ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অন্যের প্রতি বিশ্বাসী, সততা ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। সংসার হবে সুন্দর ঠিক তখনই, যখন উপর্যুক্ত শর্তসমূহের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং একে অন্যের প্রতি দোষারোপ থেকে বিরত থাকবেন। তখন বাবা-মায়ের কাছে ছেলে-মেয়েরা হবে এক একটি মজবুত সেতু, যেখানে থাকবেনা ভেজাল কংক্রিট, রড বা সিমেন্ট।