ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

মানুষের চারিত্রিক স্খলন ঘটে তখনি, যখন মনুষ তার সৌন্দর্য্যের মর্মার্থ হারায়, হারায় তার মনুষ্যত্ববোধ আর সততা। বলতে দ্বিধা নেই প্রতিটি মানুষেরই সৌন্দর্য্য আর অর্থের প্রতি মোহ রয়েছে। প্রকৃত সুন্দর সেই যে পুরুষ বা মেয়েলোক, রাঙা বা কালো, গরীব বা ধনী, লম্বা বা খাটো যেমনই হোন না কেন তাকে ভালো মনের অধিকারী হতে হবে।

তার মন হবে স্বচ্ছ কাঁচের মত। আচরণ হবে সুন্দর প্রকৃতির মত, চলা হবে ধীরস্থির ঝর্ণার মত, বলা হবে মোলায়েম মাধুর্য্যতাপূর্ণ। মেয়েরা হবে সুকন্ঠী সহনশীলা, সহবাস হবে সততার সাথে, স্বামী বা স্ত্রী একে অন্যের প্রতি হবে সহানুভূতিশীল, থাকবে ন্যায়পরায়ণতা, ভুল বা অন্যায় কৃতকর্মের জন্য নিজেই থাকবে লজ্জিত। নিজের সৌন্দর্য্যবোধ এবং বাবা বা নিজের ঐশ্বর্যের জন্য হবেনা অহংকারী। দরিদ্র ও অসুস্থের প্রতি থাকবে মমত্ববোধ থাকবে সহানুভূতিশীল। নিজে কষ্ট পেয়েও অন্যকে কষ্ট দেয়না এমন পুরুষ ও স্ত্রীলোকই হলো প্রকৃত সুন্দরের অধিকারী।

বর্তমানে আমাদের চোখে রঙিন চশমা উঠেছে তাই সুন্দরের রুচিতেও পরিবর্তন এসেছে। সুন্দর বলতে যা বুঝায় পুরুষ বা মেয়েদের ক্ষেত্রে রাঙা, ফর্সা দীর্ঘাদেহী বা খাটো, সৌষ্ঠব, বলিষ্ঠ, সম্পদশালী কালো বা খাটো। ওরা প্রত্যেকেই মিষ্টভাষী। বিপরীত লিঙ্গকে পটাতে ওস্তাদ। ওরা লোভ লালসায় আচ্ছন্ন। ওদের ভিতরে লজ্জাবোধ কম। তারা তাদের অন্যায় কৃতকর্মের জন্য কখনোই আফসোস করেনা। স্বীয় স্বার্থের জন্য ওরা সব কিছু করতে পারে। ওরা অনেক নীচে নামতে পারে। ওদের ভিতরে কোন সততা নেই। ভোগই হলো ওদের প্রধান লক্ষ্য। ছেলেদের ক্ষেত্রে নারী, মেয়েদের ক্ষেত্রে অর্থ।

এসব ছেলে-মেয়েরা অনেকেই কলি থেকেই ঝরে পড়ে। তারপরও সেই সকল পুরুষ ও স্ত্রীলোক সৎ ও সতী। বিয়ের পর ওদের পরিবারে সন্দেহের বীজ বপন করে। অতীতে নিজের কর্মের কুপ্রবৃত্তিগুলো একজন অপর জনের উপর চাপিয়ে নিজেকে সাধু ভাবানোর প্রচেষ্টা। এতে পরিবারটাকে ধ্বংসের মুখোমুখি করা হয়। মূলত স্বামী বা স্ত্রী ছেলে বা মেয়ের পরিবার কেউই রেহাই পায়না এই অভিশপ্ত কর্মফল থেকে। পরিবারকে সুন্দর রাখতে হলে অতীত জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেই সংসার করতে হবে কি পুরুষ কি মহিলা, উভয়ের জন্যই কথাগুলো প্রযোজ্য।

আমরা অনেকেই বলি, অনেকেই কেন, আমিও বলি, অনেক মেয়েরা স্বামীর কাছে ভালবাসা পায়না, পুরুষরা ঘরের স্ত্রীকে সন্মান করেনা বা করতে চায়না। এর পিছনেও মেয়েদের অনেক ত্রুটি রয়েছে। অনেক মেয়েদের রুক্ষ আচরণের জন্য ও স্বামীর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। আমরা পর পুরুষ কিংবা পরস্ত্রীর প্রতি অনেক যত্নবান ও দয়াশীল।

যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঢুকেন তাহলে বুঝতে পারবেন ছেলে ও মেয়েদের কোন কিছু পোস্ট করার উপর কি পরিমাণ লাইক বা কমেন্ট কাদের উপর বেশি পড়ছে। যে পোস্ট এর উপর লাইক বা কমেন্ট পড়লো সত্যিই সেই পোস্ট তা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে কি-না? এখানেও দেখবেন পুরুষরা ভিমরুলের মত জেঁকে বসেছে মেয়েদের দেয়া পোস্ট এর উপর। অর্থাৎ যোগ্যতার মাপকাঠি যোগ্যতায় হয়না। চারিত্রিক স্খলন ঘটে তখনি, যখন আমরা আমাদের স্ত্রী বা স্বামীর প্রতি বিশ্বাস হারায়ে দুর্ব্যবহার করে, অন্যের স্ত্রী বা পুরুষকে কৃত্রিম ভালবাসা ও মধুর বক্তব্যে আকৃষ্ট করি।