ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

কথায় নয়, কাজে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে, আর কত দূর পথ চলতে হবে? সবাই বলে ডিজিটাল বাংলাদেশ তাই আর বেশিদূর পথ চলতে হবেনা। আমরা গরীব দুঃখী, নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরা সুখ পাখিটা ছুঁতে না পারলেও কাছাকাছি যাওয়ার আশায় ছুটছি তো ছুটছিই। কিন্তু ক্রমেই তা আরও দূরহ হয়ে উঠছে। চাল-ডাল, তেল-লবন, কাঁচামরিচ, তরকারীর মত নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধিই পেয়ে যাচ্ছে। লাগাম ধরার মত কেহই নাই। চাল পঞ্চাশ টাকা কেজি সবচেয়ে নিম্নমানের যেটি, তরকারি ৪০ থেকে ষাট টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ঈদের আগের দিন থেকে কেজি প্রতি ১৫০/- টাকা থেকে ২৫০/- টাকা।

অপর দিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সিংগেল চুলা ৬০০ টাকা থেকে যথাক্রমে ৭৫০/ ও ৯০০/ টাকা, ডাবল চুলা ৬৫০ থেকা যথাক্রমে ৮০০ ও ৯৫০/- টাকায় উন্নীত হয়েছে। এমনিই সংসার চালানো বেশ কষ্টের হওয়া সত্ত্বেও এই বাড়তি টাকা সমন্বয় হবে কোথা থেকে? এ বিষয়টি নিয়ে হয়তো নীতি নির্ধারকদের তেমন মাথা ব্যাথা নেই। কারণ উনারা অভাব কি জিনিস বোঝেন না। যে সব স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ওরাও বাপের হোটেলের ভাত খেয়ে, নেতাদের পিছু পিছু ঘুরছে। নেতা হতে পারলে সন্মান, ক্ষমতা ও অর্থ সবকিছুই হাতের মুঠোয় পাবে। নেতা হতে যে যোগ্যতার প্রয়োজন, সে যোগ্যতা অনেকেরই নেই। নেতা হতে হলে এ দেশের শেখ মুজিবর রহমান ও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে অনুসরণ করার প্রয়োজন। নির্লোভ নেতা উনারা। আমার দৃষ্টিতে উনারা দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ। উনাদের ভিতর মিথ্যা কথা বলার কোন অভ্যাস আমার নজরে আসেনি। কেননা দল টিকিয়ে রাখতে সবাই চোখের উপর চোখ রেখে মিডিয়ার সামনে মিথ্যে কথা বলেন যা আজকাল একটি দশ বছরের শিশুও বুঝতে পারে। বুঝতে পারেন না তারা যারা শুধু মিথ্যার পর মিথ্যা কথা বলে জনগণকে ধোকা দেবার চেষ্টা করছেন। এটাও সত্যি রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তেমনি মিথ্যা কথা না বললেও জনগণের সহযোগিতা পাওয়া যায়না। এ যাবৎকাল জনগণ বলতে যা বুঝি তা হচ্ছে দলের সমর্থকদের। আর কিছু গরীব দুঃখী যাদের কিছু অর্থ বিলালে ডাক দিলেই যখন যেথায় খুশি সমবেত করা যায়।

কথায় কথায় শোনা যায়, সরকারি চাকরিজীবীর বেতন বৃদ্ধি করায় তাই বাংলাদেশের মানুষের কোন অভাব নেই। কিন্তু উনারা বুঝতে চান না যে, রাজপ্রাসাদে থেকে মানুষের অভাব দেখা যায়না। এ কথাটা অনেকেই বুঝতে পেরেও বুঝতে চান না।যারা বিভিন্ন সময় নেতাদের নিকট প্রতিবেদন পেশ করেন তারাও ইচ্ছে করেই অনেক সময় অনুমান ভিত্তিক প্রতিবেদন দিয়ে থাকেন। তাই সৎ ও দক্ষ সরকারও অনিচ্ছাকৃত মিথ্যার কোপানলে জড়িয়ে পড়েন। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ( ইউ এন এফ পি এ) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে জনসংখ্যা প্রায় ষোল কোটি চুয়াল্লিশ লক্ষ। তন্মোধ্যে ১লা জুলাই ২০১৫ খ্রিঃ সাল থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ সরকারী চাকুরীজীবীর নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন পাচ্ছেন। নিম্ন বেতনক্রম ৮২০০/ টাকা থেকে উর্দ্ধে ৮০ হাজার টাকায় বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের ক্ষেত্রে ৮৮ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।

কথা হলো যে দেশে ষোল কোটি লোক সে দেশে সরকারি চাকরিজীবী মাত্র প্রায় তের লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ হতে পারে। তাদের না হয় চলার গতি আছে কিন্তু যারা ২০১৫ এর পনের জুলাই এর পূর্বে অবসর গ্রহন করেছেন তাদের কী হবে? সব কর্মকর্তা কর্মচারীই পেনশনের এককালীন প্রাপ্ত টাকা নিয়ে ব্যাংকে রাখা কিংবা জমি ক্রয় করা কিংবা ব্যবসা করা বা বাড়ি ক্রয় করা সবার পক্ষে সহজ হবেনা। কারণ যে যে পদে থাকেন তাদের যদি পাশাপাশি অন্য কোন আয়ের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ঋণ করে বা বাপ-দাদার থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে চলতে হয়। এমন অনেক পরিবার আছে যাদের বাপ-দাদার সম্পত্তিও শেষ হয়ে গেছে বা নেই, তারা বাধ্য হন চড়াসুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে। কেননা পৃথিবীতে স্বার্থবিহীন খুব কম ব্যক্তিই পাওয়া যায়। ফলে সুদে সুদে টাকার অংকটাও বিশাল একটা পাহাড়ে রূপ নেয়। বলবেন ব্যাংক ঋণের কথা? না এখানেও যার সম্পত্তি কিংবা সম্পদ বা ব্যবসা জাতীয় কিছু না থাকে, তাহলে তিনিও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য হবেন।

কৃষিজীবী ৮০%। তারাও সঠিকভাবে ফসল পাচ্ছেনা। ফসল পেলেও সরকার ভর্তুকি মূল্যে তা ক্রয় করবেন বলেও যথাযথভাবে ক্রয় করতে পারছেন না, ফলে কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। লাভ হচ্ছে তাদের, যারা সরকারের প্রতিনিধি বা ফরিয়াদের, তিনারা নানান বাহানায় কৃষিজীবীকে ঠকাচ্ছেন।

এবার আসুন দৈনন্দিন জীবনে চলাচলের জন্য রাস্তা ঘাটের কথা। প্রতি বছর রাস্তা মেরামত করা হয় কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার সেই যত্রতত্র গর্ত দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো দলীয়ভাবে ঠিকাদার নিয়োগ করা। ফলে কাজ হয় অতি সামান্যই তাই যানবাহন চলাচলে নানান অঘটন ঘটে। মাসের পর মাস রাস্তাটি মেরামত বিহীণ অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে অনেক যাত্রীর হতাহতের ঘটনা ঘটে। এগুলো দেখার জন্য হয়তো সরকার কর্তৃক কোন সংস্থা বা লোক নিয়োগ করা হয় নাই বা হয়ে থাকলেও হয়তো তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না। তাহলে রাস্তাগুলো মাসের পর মাস এ রকম অমেরামত অবস্থায় এভাবেই পড়ে থাকতোনা, ফলে সামান্য কিছুক্ষনের জন্য বৃষ্টিপাত হলেই রাস্তগুলোতে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তেমনভাবে করা সম্ভব হয়ে উঠেনাই, বলেই রাস্তাটি খাল বিলের মত পানিতে থৈ থৈ করতে থাকে।

19850918_1247361658726824_1166535216_o (1) 19821186_1247362368726753_1697058802_o (1) 19859015_1247362108726779_757085051_o 19850629_1247362228726767_1621409535_o 19814324_1247361872060136_958104781_o (1) 19850918_1247361658726824_1166535216_o (1)

ছবি: ৪/৭/১৭  তারিখ রাতে এবং ৫/৭/১৭  তারিখ সকালে খিলগাঁও, পূর্বগোড়ান, ১০ নাম্বার রোডের বৃষ্টিপাতের চিত্র।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল গ্রাম বাংলার জনগণের দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় করা। প্রতিটি জেলাকে বিভাগের আদলে রূপান্তর করা। নতুন নতুন মিল কারখানা সৃষ্টি করা। নতুন নতুন উন্নত স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি হাসপাতাল তৈরী করা। সেখানে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও বিশ্বাসী কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করা। উৎকোচ গ্রহণ বা ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ বদলীর সিস্টেমটি সরকার কর্তৃক নিপুণভাবে মনিটর করা। প্রতিটি রাস্তাঘাট তৈরী ও রিপেয়ারের ক্ষেত্রে যোগ্য ঠিকাদার নির্দলীয়ভাবে নিয়োগ করা। প্রতিটি রাস্তা পুণঃনির্মানের ক্ষেত্রে ৫ বছরের মেয়াদ রাখা এর মাঝে রাস্তার ক্ষতি হলে, সেই ঠিকাদার তার নিজ খরচে বা যে সংস্থার মাধ্যমে সেই রাস্তাটি নির্মান করা হয়েছে, সেই সংস্থার অর্থায়নে ঠিক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা। কোন ভাংগা রাস্তাই এক মাসের অধিক কোন ক্রমেই পড়ে থাকতে পারবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে কোথায় রিপোর্ট করলে যথার্থ কাজটি হবে তার মোবাইল নাম্বার বা টিএনটি নাম্বার টিভিসহ গণ মাধ্যমে প্রচার করা। উপজেলাগুলোকে জেলার সমপর্যায়ে নিয়ে আসা।

অনেক জেলাতেই সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই কোথাও কোথাও মেডিকেল হাসপাতাল থাকলেও প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায় না। জেলায় বসবাসের কোনো সুযোগ না থাকার কারণে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ ঢাকায় বসবাস করেন। সেখান থেকে এসে উনারা চিকৎসা করে থাকেন। এ বিষয়ে আমার একটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার মাকে ময়মমসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালে চৈতন্য বিহীনা অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল কিন্তু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে ৪-৫ ঘন্টার মধ্যেই ঢাকায় নিয়ে যেতে হলো। প্রতিটি জেলায় সরকারি ব্যয়ে কমপক্ষে দুটি মেডিকেল কলেজ ও প্রতিটি উপজেলায় নূন্যতম একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত করা এবং প্রফেসারদের থাকার উপযোগি সরকারি কোয়ার্টার নির্মান করা, তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য উন্নত মানের স্কুল ও কলেজ নির্মান করা আবশ্যক। তাহলে আর ঢাকার উপর মানুষের এতটা চাপ থাকতো না।

সরকারি চাকরিজীবী, যারা ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর, তাদের নিজ জেলায় কিংবা নিজ বিভাগে বদলি বা নিয়োগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে, তাদের অতিরিক্ত ব্যয় কমে যাবে। অনেকেই নিজের বাড়ি থেকে অফিস করতে পারলে তাদের বেতনের কিছুটা অর্থ সাশ্রয় হতো ফলে কিছু টাকা জমা করতে সক্ষম হবেন।

পেনশনপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পেনশন বৃদ্ধি করা, একই সাথে বাড়ি ভাড়া চালু করা, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি করা, বেকার শিক্ষিত বা অশিক্ষিত ছেলেদের যোগ্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। বেকার ছেলেদের সঠিকভাবে তালিকা প্রস্তুত করা। তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে দলীয় কর্মী বা এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার নিয়োগ করা হলেও সঠিক তালিকা পাওয়া যাবে না। কেননা দলের স্বার্থে তাদের নিজেদের লোকের নামের তালিকাই আসবে। এ জন্য প্রয়োজন সৎ ও নীতিবান শিক্ষক নিয়োগ করা। কেননা এখনও অনেক শিক্ষক সৎ ও নীতিবান আছেন। অনেকেই করাপশনে তেমনভাবে জড়িত হয় নাই। এমন যদি হয় তাহলে আর বেশি দূর আমাদের পথ চলতে হবে না। তখন মুখে শুধু ডিজিটাল বাংলাদেশ নয়, কাজেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে। সরকার হবেন গ্রামগঞ্জ শহরের সবার শ্রদ্ধাভাজন।