ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

myanmar

গত মাসে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়- ছবি: রয়টার্স

এ কোন বিভীষিকাময় খেলায় মেতে উঠেছে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি ও মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী? মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসররা রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত করতে একতাবদ্ধ। রাখাইন রাজ্য শূন্য করার প্রয়াসে অং সান সুচির পরোক্ষ প্ররোচনায় আজ শাসকগোষ্ঠী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর নানানভাবে নির্যাতন করে গণহত্যা চালিয়েছে।

অং সান সুচি একজন নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি একজন মানবাধিকার প্রবক্তা হয়েও অমানবিক কাজে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এমনাবস্থায় অং সান সুচির কি কিছুই করণীয় ছিলনা?

১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রবর্তন হওয়ায়, মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও অত্যাচার শুরু হয়, ক্রমে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী তাদের জীবনকে আরও অতিষ্ঠ করে তুলেছিলো। এদের অত্যাচারে তখন থেকেই সময়ে সময়ে রাখাইন রাজ্য হতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মুসলিম ও হিন্দু রোহিঙ্গাদের বর্তমান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখের উপরে।

যে কোন নেতা যদি তার নৈতিক কর্তৃত্ব সমর্পণ করেন, তাহলে তিনি তার দেশেরই জনগনের শত্রুতেই পরিণত হতে পারেন। দেশের সরকারের মূল কাজ হলো তার নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করা। যদি কোন সরকার তার নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখনই কিন্তু সররকার দেশ শাসনের মৌলিক নৈতিকতা হারিয়ে ফেলে।

রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার পদ্ধতিও অত্যন্ত ঘৃ্ণ্য ও ন্যাককার জনক। সুচি ও মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী, রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা চালিয়ে একটি জাতিকে ধ্বংস করার যে কুট কৌশল অবলম্বন করেছেন, বিশ্বের বিবেক সম্পন্ন জনগণ তা কখোনই মেনে নিবেন না। এমনকি একদিন দেখা যাবে নিজের দেশেই জঙ্গির উত্থান প্রকট আকারে ধারণ করছে। যা মানুষ হিসেবে মানবতার জন্য কারো কাম্য নয়।

রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বর্বরতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও পকিস্তানের যুদ্ধে পাকিস্থানী হায়েনাদের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়ছে, জ্বলন্ত অগ্নিকুুন্ডে জীবন্ত শিশুদের ফেলে দিয়ে পুড়ছে। অনবরত গুলিবর্ষণে অসহায় রোহিঙ্গাদের মারছে। যুবতী ও সুন্দরী মেয়েদের ধরে নিয়ে গণধর্ষণ করছে। ধর্ষণের পর কষাইয়ের মত মেয়েদের স্তন কাটছে, বিবস্ত্র করে রাস্তার ধারে গাছে কিংবা খুঁটিতে বেঁধে রাখছে। কারো বা শরীর টুকরো টুকরো করে কেটে উল্লাস করছে।

এ সব কিছু বিশ্ব দেখছে অথচ অনেকেই চুপ করে আছে। রাশিয়া ও চীন বিষয়টিকে আভ্যন্তরীন বলে, সুচি ও তার শাসকগোষ্ঠিকেই মূলত তাদের অন্যায় কর্ম কান্ডকেই প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্ববিবেক ক্রমশঃ জেগে উঠছে। একদিন তা বৃহৎ আকারে বিস্ফোরিত হবে, ততদিনে অনেক রোহিঙ্গাদের প্রাণহাণী ঘটে যাবে। দেশে মানবতাবোধ বলতে অবশিষ্ট আর কিছুই থাকবেনা। যা থাকবে তা হলো প্রতিহিংসা।

প্রতিদিন যে হারে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে এবং এ অবস্থা যদি আরও কিছুদিন টিকে থাকে এবং জাতিসংঘ কর্তৃক রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয় তাহলে বাংলাদেশের জন্যও বিপর্যয় বয়ে আনবে। বাংলাদেশের সরকার প্রধান মাননীয়া শেখ হাসিনা ও তার সরকার এবং দেশের জনগন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মহা মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। কেন না বন্যাকবলিত বাংলাদেশের মত ছোট্ট একটা দেশে এতো বিশাল জনসংখ্যার চাপ সয়ে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।

বাংলাদেশ, বিশ্বের অন্য বহু দেশের চেয়ে উত্তম নজির স্থাপন করার জন্য বিশ্ববিবেক মিয়ানমারের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত। বাংলাদেশ অনির্দিষ্ট মেয়াদে চড়া মাশুল বইতে পারবেনা, তাই জাতিসংঘের উচিৎ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো। সাহায্যের হাত আরও প্রসারিত করা, রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং বাঁচিয়ে রাখার তাগিদেই সুচিও তার শাসকগোষ্ঠীর উপর কঠোরভাবে চাপ প্রয়োগ করা, গণহত্যা বন্ধ করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তাই করতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর বিভীষিকাময় মৃত্যুর খেলা। তখনই হবে বিশ্ব মানবতার জয়।