ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মাঝে মাঝে মিডিয়ায় ধর্মকে কটাক্ষ করে লেখা দেখলে মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। ধর্ম কখনোই রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় বিষয় নয়। এটি নিতান্ত ব্যক্তিগত। আর কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তীর্যক মন্তব্য না করাই ভালো। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এ দু’টি মানবিক উপাদানের খুবই প্রয়োজন।

ধৃ’ ধাতুর সাথে ‘মন’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ধর্ম পদটি সাধিত হয়েছে। ধৃ অর্থ ধারণ করা। মন তাহলে কি ধারণ করে? অত্যন্ত সহজ করে ভেবে দেখুন–আপনার মন “জ্ঞান” ছাড়া আর কিছুই ধারণ করে না। জ্ঞান প্রয়োগ করে আমরা কর্ম সম্পাদন করে থাকি। এ জন্য বলা হয়–জ্ঞানই শক্তি। শক্তির প্রয়োগ ছাড়া কর্ম হয় না। কর্ম তৈরি করে পণ্য। পণ্যে থাকে সুখ। সুখ মানেই স্বর্গ।

ধর্ম হচ্ছে মানব জ্ঞানের পাণ্ডুলিপি। এজন্যই এটি ব্যক্তিগত বিষয়ের মধ্যে পড়ে। ধর্মকে ধারণ করে আমরা ধার্মিক বা জ্ঞানী। ধর্ম যে জ্ঞানেরই বার্তাবাহক তা একটি উদাহরণ দিয়ে প্রমান করা যায়। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। ‘ বিদ +ঘঞ=বেদ”। বিদ মানে জানা (to know)। অর্থাৎ বেদ অর্থ জ্ঞান। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্হের নাম ত্রিপিটক (তিন পেটিকা)। এতে মহামতি গৌতম বুদ্ধের সম্যক জ্ঞানের বিবরণ রয়েছে। বুদ্ধ মানে জ্ঞানী। বুদ্ধকে বলা হয়ে থাকে বোধিসত্ত্ব। যে প্রাণীর(সত্ত্ব) বোধ বা জ্ঞান জাগ্রত। বাইবেল শব্দটি ল্যাটিন ও হিব্রু biblia থেকে এসেছে। এর অর্থ পুস্তক। পুস্তকে কেবল জ্ঞানের কথাই থাকে। পরিশেষে, কোরআন শব্দটি এসেছে আরবি ক্বারা ধাতু থেকে। ক্বারা অর্থ পাঠ করা, পঠন ইত্যাদি। কোন কিছু পাঠ করেই জ্ঞান অর্জন করতে হয়।( তথাকথিত মুখস্ত করা নয়)। এভাবে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগুলোর শিরোনাম-ই বলে দিচ্ছে –জ্ঞানই ধর্ম। যে কোন ধর্মের ধার্মিক মানেই জ্ঞানী। আসুন বকধার্মিক না হয়ে ধার্মিক হই। ভালবাসি সব ধর্মাবলম্বীকে।