ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

সচেতন প্রাণী হয়েও মানুষ এমন কিছু অভ্যাস ধারণ করে, যা ছায়া সঙ্গীর মত তার সঙ্গে লেগে থাকে। এগুলোকে অভ্যাস না বলে বদঅভ্যাস বলাই ভালো। এগুলোর চর্চা যেমন ব্যক্তিত্বকে খাটো করে, তেমনি দৃষ্টিকটু। মুদ্রাদোষ বা বদঅভ্যাস চর্চাকে আমরা কেউ তেমন গুরুত্ব দেই না, কেননা আমরা সবাই কম-বেশি এতে আক্রান্ত। জনসম্মুখে নাক খুঁটা, নাক ঝারা, অনেকের মধ্যে হাঁচি দেয়া, কাশি দেয়া, কথা বলার সময় থু-থু ছিটানো, আমতা আমতা করে কথা বলা, ভনিতা করে কথা বলা, দাঁত খোচানো, মাথার চুলে চিরুনির মত আঙ্গুল চালানো, বড়দের সামনে কথা বলার সময় শরীরের নিম্নাংশ চুলকানো, বড়দের সামনে পা তুলে বসা ইত্যাদি আমাদের দৈনন্দিন বদঅভ্যাস।

আজ আমি দুটো গুরুত্বপূর্ণ বাজে অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করব, যা অবজ্ঞা করলে আমরা নীরোগ ও সুস্থ থাকতে পারবো। প্রথমটি হল– হাত ধোয়া। খাবার আগে তো অবশ্যই হাত ধুবেন, এছাড়া টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান বা ছাই দিয়ে হাত পরিষ্কার করা দরকার। অভ্যাসটি বাড়ীর ছোটদের মধ্যে গড়ে তোলা অবশ্যই কর্তব্য। আপনি হয়তো বলবেন, খাবার আগে হাত ধুয়েই তো খাচ্ছেন। এটি প্রাত্যহিক সকালের নাস্তা অথবা ভাত খাওয়ার আগে করছেন ঠিকই। কিন্তু অন্যান্য সময়? বন্ধুদের আড্ডায় অথবা পরিচিত জনের দেয়া হালকা স্ন্যাকস, সিঙ্গারা, সমুচা, বিস্কুট ইত্যাদি নেয়ার সময় হাত ধুয়েছেন কি? অথচ একটু আগে একজনের সঙ্গে হ্যান্ডসেক করেছেন যিনি কিনা নাক ঝেরেছেন বা শরীরের গোপণ চর্মরোগের স্থানটি মজা করে চুলকিয়েছেন বা ময়লা টাকাগুলো দু’হাতে গুণে পকেটে রেখেছেন। এভাবে সংস্পর্শে ভয়ঙ্কর কোন জীবানু আপনার শরীরে প্রবেশ করলো না তো?

ব্যক্তিগত এবং বাড়িতে রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হল–হাতধোয়া। অভ্যাসটি যেনো শিশুদের মধ্যে গ্রোথিত হয় সে জন্য স্কুল পর্যায়ে “বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস” কর্মসূচী পালন করা হয়। এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। আপনার হাত ধোয়া পানি যেন জীবাণুমুক্ত হয়, নইলে সব আয়োজনই ব্যর্থ। সবচেয়ে ভালো হয়- প্রবাহমান পানি হলে।

দ্বিতীয় বাজে অভ্যাস হল- জনসম্মুখে হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল ব্যবহার না করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভয়াবহ তথ্য হল, এখানে প্রতি দশ জনে একজন যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বহন করে। আর যক্ষ্মার জীবাণু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে অন্যকে সংক্রমিত করে। আপনি যখন ঘরে থাকবেন তখন সরাসরি শিশুদের সামনে হাঁচি দিবেন না। হয় রুমাল, টিস্যু ব্যবহার করুন অথবা নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে আপনার শিশুকে নিরাপত্তা দিন। হাঁচি কাশির সময় রুমাল,টিসু পেপার ব্যবহার করতে না পারলে অথবা সঙ্গে না থাকলে অন্তত: দু’হাতে নাকমুখ ঢেকে রাখুন এক মিনিট ধরে। এরপর হাত ধুয়ে ফেলুন। আপনার একটু সচেতনতা বা ভালো অভ্যাস চর্চায় যদি অন্যের উপকার হয় মন্দ কী? আসুন, বদ অভ্যাসগুলো ঝেড়ে ফেলি শরীর থেকে, নিজে সুস্থ থাকি অন্যকেও সুস্থ রাখি।