ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

বর্তমান যান্ত্রিক বিশ্বের চালিকা শক্তি হচ্ছে–পুঁজিবাদ। এখানে সবকিছুর উপরে অর্থের পূজা করা হয়। মানুষের শ্রম থেকে শুরু করে ভালোবাসা, মানবতা অর্থের মানদন্ডে মূল্যায়ন করা হয়। গাণিতিক সমীকরণ–পুঁজিবাদের মূলমন্ত্র। কিন্তু মানব জীবনকে সব সময় সমীকরণে আবদ্ধ করা যায় না। অর্থ থেকে অর্থ, অর্থ থেকে সুদ, সুদের ওপর সুদ–এই হচ্ছে পুঁজিবাদের ব্যাকরণ।

পুঁজিবাদ মানব জীবনকে দিয়েছে বেগ-কেড়ে নিয়েছে আবেগ। দু’চোখে পরিয়ে দিয়েছে রঙিন চশমা–যা লোলুপ দৃষ্টির প্রতীক। বর্তমান বিশ্বের মুষ্টিমেয় অংশ ব্যতীত বাকিরা পুঁজিবাদে আক্রান্ত। ঘরের যে শিশুটি এখনো অস্ফুট স্বরে কথা বলে সে-ও ধীরে ধীরে পাঠ নিচ্ছে পুঁজিবাদের। সে-ও বুঝতে পারছে বাবার পকেটে টাকা থাকলেই তার আবদার পূর্ণ হবে। আরাম-আয়েশ, বিলাসী জীবন যাপনের প্রথম ও প্রধান নিয়ামক হচ্ছে- টাকা। মানুষ সৎ পথের চেয়ে অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করে বেশি। আমরা টাকা উপার্জন করি মানুষ হত্যা করে, অপহরণ ও গুম করে, প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা করে। টাকা চাই চরিত্র নষ্ট করে, ইজ্জত বিকিয়ে। ভাল-মন্দ বাছ বিচারের দরকার নাই–টাকা চাই,টাকা। চাই, চাই ধ্বনি- (লোভ -লালসা) পুঁজিবাদের অলঙ্কার।

পুঁজিবাদ বিভ্রান্তি ছড়ায় সমাজে, রাষ্ট্রে, ধর্মে ও মানুষে। যুদ্ধ করে নিরীহ মানবতার বিরুদ্ধে,। নিষ্পাপ আয়নাল কুর্দিকে লাশ করে রাখে বেলা ভূমিতে। মানুষকে(নারী ও শিশু) পণ্যে পরিণত করে। শিক্ষাকে করে কলুষিত, নৈতিকতাকে করে অবদমিত। পুঁজিবাদের প্রধান অস্ত্র ‘বিজ্ঞাপণ’। বিজ্ঞাপণে মুখ ঢেকে যায় মানবতার। মানুষ হয় পরাজিত।

পুঁজিবাদ মায়ের কোল’কে পর্যন্ত কলুষিত করে ছেড়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতের চিন্তায় মা কেন আজরাইলের ভূমিকা পালন করবেন। কী সেই ভবিষ্যতের চিন্তা? ক্রিকেট মাঠে কেন নারী দেহের ছন্দহীন , দৃষ্টিকটু লম্ফ-ঝম্প? পুঁজিপতিরা কালো চামড়াকে সাদা করতে লগ্নি করেন। লগ্নি করেন না পাঠাগার স্থাপনে। শিক্ষায় লগ্নি করেন ঋণ হিসেবে। যত ধরনের বিভ্রান্তিকর মতবাদ আছে, তা পুঁজিবাদের দখলে। মানবতা বিকাশে এর ভূমিকা অতি নগণ্য।।