ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

১৯৯৬ সালের শেষ ডিসেম্বরের দিকে সিলেট ভ্রমনে যাই। ভ্রমনের শেষ প্রান্তিকে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় দিন তিনেক থাকি। সেখানে ইংল্যান্ডের ডানকান কোম্পানীর চা বাগান, সীমান্তবর্তী খোয়াই নদী আরো বেশ কিছু স্থান ঘুরে ফিরে দেখছি। এক স্বল্প পরিচিত লোকের বাসায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। যেহেতু টাকা খরচ নেই- তাই ফুরফুরে মেজাজে আছি। গৃহকর্তার সাথে প্রথম রাতের পরিচয়ে জানিয়ে দিলেন- দিনের প্রথম ভাগে তার সাথে দেখা হবে না। এজন্য যেন অসৌজন্যতা মনে না করি। দুপুরের খাবার একসাথে খাব, রাত অবধি তিনি সময় দিবেন। আমাদের আতিথেয়তায় কোন ঘাটতি ছিল না।

দু’ দিন পরে গৃহকর্তার সাথে ভ্রমণে বেড়িয়ে তার সম্পর্কে জানলাম। অকপটে জানালেন তার ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা। প্রভাব ও প্রতিপত্তি। তিনি একজন স্মাগলার। প্রশ্ন করলাম, কী কী পণ্য স্মাগলিং করেন? এক কথায় জবাব দিলেন, টাকা পেলে আমরা দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও পাচার করে দিতে পারি। মনে মনে বললাম- পাগল-ছাগল আর কি! আরো জানলাম- ডিসি (তৎকালীন) সাহেব ঘুষ খান না। মাসে দুই লাখ টাকায়ও তাকে রাজি করানো যাচ্ছে না। তাই ব্যবসায় কিছুটা ঝামেলা চলছে। মাসে পঞ্চাশ হাজার খরচ করে তিন জন গোয়েন্দা ডিসির পেছনে লাগানো আছে।

ঘটনাটি এ কারণে বলা যে, অপরাধীরা, দেশবিরোধীরা, কালো টাকার মালিকরা কতটা শক্তিশালী হয় তা বোঝাতে। পত্রিকার খবরে প্রকাশ, আইএস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করতে চেয়েছিল। ১৯৯৬ তে এ ধরনের ঘটনা আমার কাছে পাগলের প্রলাপ মনে হলেও ২০১৬ তে বিস্মিত হব না। স্মাগলারের বালখিল্য ধরনের উক্তির কারণে আমি অবাক হয়নি, যখন রিজার্ভ একাউন্টের টাকা আলাদীনের দৈত্যের চেয়েও দ্রুত গতিতে জুয়ার টেবিলে হাজির হয়। হয়তো অবাক হব না, যে দিন আমার দেহ কোষ থেকে ডিএনএ কোড চুরি হয়ে আমি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলব।

একটি প্রস্তাবনা: অর্থনীতিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ প্রেরণ করা যায়— এই উপায় বের করার জন্য হ্যাকার দলকে এবছর “অর্থনীতিতে” নোবেল পুরষ্কার দেয়া হোক।