ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কথাটির ঐতিহাসিক সত্যতা জানা নেই। মিথ হলেও এখন বাস্তব। কৌতুক করে কথাটি বলা হয়ে থাকলেও এখন আর তা কৌতুকে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় চরিত্রের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথাটির মাধ্যমে আমি তাঁর প্রখর দূরদৃষ্টির পরিচয় পাই। আনঅফিসিয়ালি বলা কথাটি কয়েক দশকের মধ্যে আমাদের মজ্জাগত হয়েছে।

পিতা নাকি একবার বলেছিলেন, “সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি।” আসলেই তাই- সোনার বাংলা এখন চোরে ভরপুর। একজন বিশ্ববরেণ্য নেতা যখন তাঁর নিজ জাতির বিরুদ্ধে এমন কথা বলেন তখন তা আলাদা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। পিতাকে অবশ্যই তাঁর পুত্রদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হয়।

একজন চোর প্রথমে তার প্রাকটিস শুরু করেন- মায়ের হাঁড়ি দিয়ে। এরপর বাবার পকেট, প্রতিবেশীর এটা-ওটা। অবশেষে দেশে, পরিশেষে দেশের বাইরে, মানে আন্তর্জাতিক চোর। চোর কী কারণে চৌর্যবৃত্তিতে লিপ্ত হন তা গবেষণার দাবী রাখে। কারণ এখন আর কেউ পেটের ক্ষুধায় চুরি করে না। চোরেরা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকে। কেননা প্রতিবার তাদের চৌর্যবৃত্তির জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। যেহেতু চোরে শোনেনা ধর্মের কাহিনী, তাই এদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানদের সাপ্তাহিক খুৎবা, পাক্ষিক জলসা, মাসিক ওয়াজ, বাৎসরিক ইছালে সওয়াব– কোন কিছুই তাদের চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত রাখতে পারে না। সুতরাং চোরদের সাথেই আমাদের বসবাস করতে হবে।

মানুষ দরজায় খিল দিল, তালা ঝুলাল– চোরেরা সিঁদ কাটল। ঘর পাকা করল–তারা গ্রিল কাটল, ছাদ ফুটো করল। সভ্যতা এ্যানালগ হতে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করল, চোরেরাও ডিজিটালাইড হল। তারা স্কিমিং মেশিনের ব্যবহার জানে, ম্যালওয়ার তৈরি ও ডেভলপড্ করতে জানে। এসব বিষয়ে তারা আমাদের গুরু। এজন্যই গুরুদের প্রস্থানের পর আমাদের বুদ্ধি বাড়ে। যারা কোন বিনিময় ছাড়াই আপনার আমার বুদ্ধির ব্যারোমিটার বাড়িয়ে দেন, প্রকারান্তে তারা আমাদের বন্ধু। এরা চৌর্যবৃত্তির জন্য প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করছে। স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটা পানসে। এর বহুমুখী ব্যবহারিক দিকটাকে কাজে লাগাচ্ছে তস্করেরা। আপনি ডাটা কানেকশন চালু করে যে কাজই করুন না কেন তারা ঢুকে পড়বে “ডিজিটাল আপনি”-তে। আপনার সব গোপণীয় তথ্য এমনকি পাসওয়ার্ড পর্যন্ত তাদের হাতে চলে যাবে। অ্যানড্রয়েড মোবাইল ভিত্তিক প্রায় সকল গেম- গোয়েন্দা গেম। আপনার গেইমে আসক্তি নেই- সমস্যা নেই। আপনি লিঙ্গধারী জীব তো! ওরা আপনার জন্য পর্ণো সাইট বিনামূল্যে ওপেন করে রেখেছে। যত বার দেখবেন ততবার আপনার তথ্য চোরদের হাতে পৌঁছাবে।

পিতাজী আমাদের জাতীয় চরিত্র উন্মোচন করতে বাঙালি জাতির কোন দিকটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তা আমার মত ক্ষুদ্রর পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যে জাতি মনের জোরে শুধু বাঁশের লাঠিকে অস্ত্র বানিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, তারা তো এত নীচ হতে পারে না। তবুও আমরা নীচ। কেবলমাত্র নীচু মনের মানুষরাই চৌর্যবৃত্তিতে লিপ্ত হয়। না হলে আমাদের নোবেল পুরষ্কার কেন চুরি যাবে? কেন এদেশের শিক্ষিত লোকেরা বিদেশী শপিংমলে চুরি করে ধরা খাবে? দিনে দুপুরে ব্যাংকের টাকা চুরি যায়। আবার জনৈক চোরের সাক্ষী বলেন, চারশ কোটি টাকা- এ আর এমন বেশি কিছু নয়। এ জন্যই বলে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। সবশেষে ডিজিটাল চোরেরা যা করল — তা বলাই বাহুল্য।

রিজার্ভ মানি চুরির ঘটনায় এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তাসহ দেশ তথা সরকারের বাঘববোয়ালরা জড়িত। এ ঘটনার পরিচ্ছন্ন সমাধান না হলে আমরা যেমন শুনে শুনে বড় হয়েছি- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পিতার সন্তানেরা ব্যাংক লুটে জড়িত ছিল (আওয়ামী বিরোধীদের কুৎসা)- তেমন কিছু শোনার জন্য হয়তো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অপেক্ষা করছে।