ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

কৈশোরের দূরন্ত দিনগুলোতে অনেক দিন শিয়ালের পেছনে দৌঁড়িয়েছি। একা নয়, দুই তিনটা কুকুরসহ। নদীর তীরবর্তী জঙ্গলে ওদের থাকার গর্তগুলো জোয়ারের পানিতে ডুবে গেলে শেয়ালগুলো লোকালয়ে এসে পড়ত। প্রৌঢ়দের চোখে পড়লে সমস্যা হতোনা, যুবা বা কিশোরদের সামনে পড়লে আর রক্ষা নেই। দে দৌড়। এ মাঠ থেকে সে মাঠে, এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম। পিটিয়ে মৃত না করা পর্যন্ত….। এ রকম আক্রোশের অবশ্য অন্য একটি কারণ ছিল। শেয়ালগুলো রাতে তো বটেই, দিনে দুপুরে হাঁস মুরগি ধরে নিয়ে যেত। গ্রামের প্রত্যেক বাড়ীতে উঠতি বয়সের ছেলেপেলে থাকায় শেয়ালগুলোর এ ধরণের অনধিকার প্রবেশ তাদের নবাগত যৌবনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। তাই মৃত্যুদণ্ডই ওদের একমাত্র প্রাপ্য।

শেয়ালের পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে যখন হাঁপিয়ে উঠতাম, তখন কুকুর গুলো লেলিয়ে দিয়ে একটু জিরিয়ে নিতাম। কুকুরগুলো ধাওয়া করতে করতে যখন ছুঁই ছুঁই ভাব তখনই ঘটতো অন্যরকম এক ঘটনা, দেখতাম ওরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে কী যেন খোঁজার মত করে ঘুরছে। এই ফাঁকে শিয়াল অনেক দূর এগিয়ে যেত। এ বিষয় নিয়ে গ্রামের মুরুব্বিদের সাথে আলোচনা করলে তারা জানালো শেয়াল পণ্ডিতের ধূর্তমির কথা। আসলে ওই সময়ে শেয়াল ধাবমান কুকুরগুলোর সামনে বাত কর্ম ( প্রচলিত কথায়, পাদ দেওয়া) করে। এর তীব্র উৎকট গন্ধ কুকুরগুলোকে দিশেহারা করে ফেলে, ওরা খুঁজতে থাকে এক বায়বীয় শেয়ালকে।

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে তথাকথিত বিশ্ব মোড়ল আমেরিকাকে অনেক বার দেখেছি শেয়ালের ভূমিকায় অভিনয় করতে। সাদ্দাম হুসেনের কাাছে মারাত্মক সব পারমানবিক অস্ত্র আছে — এমন অজুহাতে ইরাকে আক্রমন। ইরাকের মানচিত্র পর্যন্ত পরিবর্তন হলো। অস্ত্র আর পাওয়া গেল না। আক্রমন হলো সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তানে। আমেরিকা ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ্য করেও বোমাবাজি করে। যেমন- তালেবান প্রধান, আইএস প্রধান,। বহি: বিশ্বের জন্য এদের নীতি – ভাওতাবাজি নীতি। বিশ্বে
জঙ্গি গোষ্ঠী লালন- পালন ও পৃষ্ঠপোষকতায় এরা অনন্য। আবার এদের মারতে চলে কুটিনীতি, সমর নীতি পরিশেষে বৃদ্ধাঙ্গুলি নীতি।

আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবিরা যেন ওদের পা -চাটা কুকুর। ওদের ফর্মূলা যে প্রকৃতই মূলা তা তারা বুঝেন না অথবা বুঝতে চান না। বর্তমান বিশ্বে এক নম্বর মোনাফেক আমেরিকা। এদের দ্বিমুখী নীতি অনেকেই বুঝতে পারে, তারপরও কেন যে সমীহ করে চলে তা বোধগম্য নয়।

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্লগারদের নিয়ে আমেরিকার উথলে ওঠা দরদ দেখে আমি শংকিত। ব্লগাররা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থণা করলে তা তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। এটি কিন্তু ব্লগারদের উসকে দেওয়া। তোমরা যত পারো ধর্ম নিয়ে কচু- কলা লেখ, আমরা আছি তোমাদের পাশে। এ কথা সত্যি যে, বাংলাদেশে (তথাকথিত) ব্লগার হত্যার যে সব ঘটনা ঘটছে তা উদ্বেগজনক এবং সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমেরিকার এহেন বক্তব্য দেশকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে, অত্যুৎসাহী কেউ কেউ সুযোগ নিতে গিয়ে তেঁতুল মুন্সীর দল অথবা সরকারের ইসলামী পকেট ওলামালীগের রোষাণলে পড়তে পারে। আমেরিকার কাজ হচ্ছে – আভ্যন্তরীন কোন্দল বাড়িয়ে তোলা। তোমরা মারমারি কাটাকাটি করো, আমরা তা সূচকে সূচিত করছি। বছর শেষে দেখাবো এই তোমাদের অবস্থান।

ইসলাম ধর্মকে নিয় এর আগে যারা কটুক্তি করেছে, মহানবী (স.) কে যারা ব্যঙ্গ করেছে আমেরিকা তাদের অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে আশ্রয়- প্রশ্রয় দিয়েছে। আমি বাইবেল নিয়ে, বেদ নিয়ে সমালোচনা করতে চাই আমেরিকা আশ্রয় দিবে? মোটেই না। তা হলে কেন ইসলাম অথবা কোরআন! কারন এই ধর্মটি অন্যান্যগুলোর চেয়ে কিছুটা পরিশীলিত।।