ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ধর্ম আমাকে মানবিক হতে শিখিয়েছে। বিশ্বাসী বানিয়েছে। তবে আমি এটাকে ‘অন্ধ বিশ্বাস’ বলব। প্রজন্ম হতে প্রজন্মন্তরে উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাস অন্ধই বটে। আরো দিয়েছে পাপ-পুণ্যের ধারণা। যদিও আমার জীবনের মধ্যাহ্ন পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনো পাপ- পুণ্য কী তার বিন্দু বিসর্গ বুঝে উঠতে পারিনি। আর কতখানি প্রচেষ্টার পর এ বিষয় আমার বোধগম্য হবে। নাকি অজানা থাকতে থাকতেই চলে যাব। বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থে পাপের জন্য শাস্তি এবং পুণ্যের জন্য পুরষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। মানুষ কি এ দু’য়ের লোভে ধর্মকে ধারণ করে আছে? –বুঝে ওঠা মুশকিল।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষের জন্য আচরণীয় কতকগুলো বিধি- নিষেধ আইন আছে। এগুলো ভঙ্গ করলে অমান্য করলে অন্যায় হয়, অনিয়ম হয়। কিন্তু স্রষ্টার আদেশ অমান্য করলে, ধর্ম নির্দেশিত পথে না চললে পাপ হয়। এর স্বরূপ কী? পাপ কি দেহজাত নাকি আত্মা-জাত? একজন পাপীর পাপ কোথায় মজুদ থাকে? দেহজাত পাপের দায়ভার কি আত্মার ওপর বর্তায়? প্রশ্নগুলো অতি সাধারণ কিন্তু আমার বোধগম্যের উর্ধ্বে।

মিথ্যা বলা মহাপাপ। আমি মিথ্যা বললাম পাপ কীভাবে, কোথায় হলো? মিথ্যা বলার দরুণ হয়তো কেউ একজন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, বিপদে পড়তে পারে। এসব লৌকিক সমস্যা। অলৌকিক নয়। কিন্তু পাপ যে হল!! পাপকে হ্রাস করার উপায় আছে কি? আছে বই কি! বেদ – বাইবেল- কোরআন- পুরাণের অমৃত বাণী। এগুলো পাপকে পুণ্যে পরিণত করতে পারে। তাহলে শক্তির মতো পাপ-পুণ্যেরও রূপান্তর ঘটে। স্রষ্টার আদেশ- নির্দেশ অমান্য করলে যেমন পাপ হয় তেমনি বিপরীতভাবে তৈরি হয় পুণ্য। বিভিন্নসময় ধর্মগ্রন্থে বেশি বেশি পুণ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এটি আসলে কী? সবচে’ মজার বিষয় হল- পাপ-পুণ্যের আবার শ্রেণি বিন্যাস আছে। ছোট পাপ, বড় পাপ, মহাপাপ। এই শ্রেণি বিন্যাস কে বা কারা করেছেন। ধর্মের ওস্তাগাররা। প্রত্যেক ধর্মের ধর্মীয় ওস্তাগাররা ইচ্ছে মতো ধর্মের গায়ে আস্তর লাগিয়েছেন।

খ্রীষ্টানধর্মে তো আদি পিতার আদি পাপ মোচনের জন্য আরেক মহা মানবকে জন্ম নিতে হয়েছে (?)। ধর্মে পাপ- পুণ্য কি ভয় ও লোভের প্রতীক? মানুষ ধর্মকে ধারণ করে বেঁচে আছে। কিন্তু পাপ- পুণ্য কীভাবে ধারণ করে? ধর্মগ্রন্থের ভাষ্যমতে, স্রষ্টার বরকতময় নামোচ্চারণ করলেই সওয়াব বা নেকী বা পুণ্য হবে। আসলেই কি তা হচ্ছে? নামোচ্চারণের জন্য যে শুদ্ধতা, যে পবিত্রতা, যে বিনয়তা দরকার তা আমার আছে কি? অর্থাৎ পুণ্য প্রাপ্তির যোগ্যতা আমার রয়েছে কী? নাকি আত্ম-তুষ্টিতে ভুগছি।

ধর্ম মানুষকে বিনয়ী করে। পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে- তোমরা বিনয়ীভাবে সালাতে দাঁড়াও। কিন্তু আমরা সালাতী, বিনয়ী নই। পাপ বা পুণ্যকে আমি ‘কর্মফল’ বলতে চাই। অন্যকোন ভাবে এর বাহ্যরূপ আমার দৃষ্টিগোচর নয়। লোকের সাথে লৌকিক আচার সম্পৃক্ত।মানব জীবনে অলৌকিক বলতে কিছু নেই। যেমন সত্যকে তৈরি করা যায় না, আবিষ্কার করতে হয় মাত্র।।