ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

 

বাংলা সাহিত্যের আদিযুগ থেকে মধ্যযুগ হয়ে আধুনিক যুগে প্রবেশ করলেন তিনি। চর্যাপদ থেকে কবিয়াল, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি হয়ে আলাওল, বিভূতি ভূষণ, বঙ্কিম, মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল চষে সুনীল, সমরেস, শীর্ষেন্দু কে কিছুটা ছুঁয়ে বাংলাদেশ-সাহিত্যে প্রবেশ করে ব্যাঙ্গাত্বক হতাশায় নিমগ্ন হলেন বাংলার অধ্যাপক সাহেব। “ লাল- নীল- দীপাবলি ও বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস ” এর গুণে পার পেয়ে গেলেন হুমায়ুন আজাদ। কবি হয়ে করুণা পেলেন শামসুর রহমান। কোন এক মূর্খ মুখ ফসকে সম্ভবত উচ্চারণ করল “ হুমায়ূন আহমেদ ”।

– হুমায়ূন আহমেদ ?!… লোকটা এখনো লিখেটিখে নাকি?…… শুনেছি হার্টে কয়েকটা ব্লক ধরা পড়েছে, লোকটা মরলে বাংলা সাহিত্যের একটা আপদ বিদায় হয় – তরুণ অধ্যাপকের স্বগতোক্তি।

আরেক উজবুক তর্ক ধরে, – স্যার এভাবে বলাটা বোধ হয় ঠিক হচ্ছে না, আমার তো মনে হয় তিনি সাহিত্যের একটি ধারা তাঁর মতো করে সৃষ্টি করেছেন।

– আপনি কি জানেন সাহিত্যের ? কিসে পড়াশোনা করেছেন আপনি ?

ছাত্রটি উত্তর দেয়………।

– ও চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ছাত্র ? সাহিত্যের কতটুকু বোঝেন ? আপনার হুমায়ূন আহমেদ ও তো কেমিস্ট্রির লোক হয়ে সাহিত্যিক হতে চায় সস্তা জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে।

সাহিত্য-মূর্খ বিজ্ঞানের ছাত্রটি চিন্তা করে, সাহিত্যিক হতে চায় !…..তার মানে এই ২০০২ সালেও হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্যিক হয়ে উঠতে পারেন নি। ক্লাশ তখন শেষের দিকে। বেশি কথা বলার সময় নেই। খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করাবার চেষ্টা করে –
– নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার দিয়ে লেখা শুরু করার পর হিমু আর মিসির আলী র মতো বিপরীতমুখী চরিত্র সৃষ্টি করা তাঁর বহুমাত্রিকতার পরিচয় দেয়। অন্য চরিত্রগুলোর কথা বললাম না। আর সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার সুযোগ থাকে রাজনীতিবিদদের, লেখকদের না, কারন লেখকরা হন পাঠকপ্রিয় আর পাঠকেরা হচ্ছেন শিক্ষিতদের শ্রেয়তর অংশ, যাদের আপনি ফাঁকি দিয়ে সমর্থন আদায় করতে পারবেন না।

বাংলার সহকারী অধ্যাপক সাহেব বিসিএস এর মডেল টেস্ট প্রশ্ন সমাধানে মনোনিবেশ করলেন। সাহিত্য-প্রতিবন্ধীদের সাথে ফালতু তর্ক করার সময় নেই।

বাংলা সাহিত্যে ডিগ্রীধারীদের অথবা সাহিত্য চর্চাকারী অনেকের কাছে হুমায়ূন আহমেদ বিরোধিতা করার দুটি ফায়দা আছে, এক হচ্ছে ফ্যাশন আর দুই হচ্ছে নিজেদের পণ্ডিত বলে জাহির করা। এরকম একজন হচ্ছেন এই বাংলা স্যার, তিনি কোন একটা সরকারি কলেজের বাংলার শিক্ষক। এসেছেন বিসিএস এর বাংলা ক্লাশ নিতে।

প্রিয় হুমায়ূন আহমেদের বিয়োগের শোকাচ্ছন্নতা কাটতে শুরু করেছে আজ। ব্লগের পাতা ভরানোর মতো কোন ভাষা গুমোট মনটাতে তৈরি হচ্ছিল না এ ক’দিন। নিজের দৈনন্দিন আর পেশাগত কাজের বাইরে টেলিভিশনে লাখো মানুষের অশ্রু-বন্যা দেখতে দেখতে শুধু ঐ উন্নাসিক বাংলা শিক্ষকের ঔদ্ধত্ব্য কানে বাজছে। তাকে আজ বলছি……. আপদ বিদায়ের কান্না দেখেছেন, স্যার..?