ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

আইনের শাসনের দেশ এই বর্তমান বাংলাদেশ। আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমরাও উপলব্ধি করতে চাই অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো। তাঁর মতো আমরা আরো দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতে চাই, গত সাড়ে তিন বছরে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কোন কাজেই ব্যর্থ হয়নি।

আমরা সবাই জানি, বছর দেড়েক আগে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে পায়ে গুলি লেগে আহত হয় লিমন নামের কিশোর “ সন্ত্রাসী ”। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ তার পা’টি কেটে ফেলতে হয়। র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি, লিমন নিছক দুর্ঘটনার স্বীকার বলে উল্লেখ করেন। তবে লিমনের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করে তাবৎ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। পরবর্তীতে র‌্যাব নিশ্চিত হয়ে বিবৃতি দেয় লিমন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বক্তব্য দেন, লিমন সন্ত্রাসী না হলে বন্দুক যুদ্ধে আহত হবে কেন? প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাব তারেক সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলন করে লিমনের “ কুখ্যাত সন্ত্রাসী ” পরিচয় নিশ্চিত করেন আর দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকগুলোর হলুদ সাংবাদিকতার মুখোশ উন্মোচন করেন !

চারিদিকে মায়াকান্না শুরু হয়…… লিমন দিনমজুর দরিদ্র পরিবারের সন্তান, নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাতে টিউশনির পাশাপাশি তাকে ইটভাটায় কাজ করতে হয়। লিমনের কলেজের অধ্যক্ষ লিমনকে নিজের প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বলে সনাক্ত করেন ( তবে কলেজে পড়ুয়া ছাত্র সন্ত্রাসী হবেনা তা বিশ্বাস করার কোন কারন নেই )। শুরু হয় আইনের শাসন বনাম আবেগের মায়াকান্নার যুদ্ধ। সরাসরি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মিডিয়া, তথাকথিত সুশীল সমাজের সাথে সাথে লিমনের পক্ষে যোগ দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

ভয়ংকর “সন্ত্রাসী” লিমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও সরকারী কাজে বাধা দানের অভিযোগে “ সঙ্গত এবং যথাযথ মামলা ” হয়। চোরের মায়ের বড় গলা। লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম র‍্যাবের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার “ মিথ্যা ” মামলা করেন ( যদি ও পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে অযথা কয়েকদিন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগ উঠেছিল )। মহামান্য হাইকোর্ট থেকে তার বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায়ই জামিন পায় লিমন।

স্বার্থান্বেষী মহলের অনাহুত – বেসামাল আবেগকে গুরুত্ব দেয় রাষ্ট্র। পুলিশের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ একটি তদন্ত দল গঠন করে। তবে নিতান্ত অনভিজ্ঞ “মন্ত্রণালয় দল” টি নাম করা এই “সন্ত্রাসী”র বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের প্রমান পায়নি। কিন্তু পুলিশের করা “ সঠিক ” তদন্তে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে আগেই। সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট দাখিল করা তদন্ত রিপোর্টে তার মায়ের করা “ মিথ্যা ” মামলায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

চিহ্নিত সন্ত্রাসী হলেও এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের স্বার্থে কিছুটা কালক্ষেপণ মেনে নিতে হবে। তবে “সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী” কে অযথা সহ্য করার মতো কাপুরুষ সবাই নন। রাষ্ট্র সাজা দিতে বিলম্ব করলেও ঝালকাঠির “ লিডার ইব্রাহিম ” এই ভয়ংকর সন্ত্রাসীকে সামনাসামনি পেয়ে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতাকে এড়াতে পারেননি। স্বভাবত-প্রতিবাদী মানসিকতার বশবর্তী তিনি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ঘৃণিত এই দাগী আসামির গায়ে হাত তুলে বসলেন। এই সন্ত্রাসীর অভিশপ্ত জন্মদাত্রীকেও তাঁর পিষে ফেলতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল “ র‌্যাবের সোর্স উদার ইব্রাহিম ” সামান্য কয়েকটি আঘাত করে নিতান্ত মানবিকতায় তাদের ছেড়ে দিলেন।

লিডার ইব্রাহিম আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তিনি আমাদের ঝিমিয়ে পড়া বিবেককে সতেজ করেছেন। তিনি আবেগ সংবরণ করতে না পেরে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার উপক্রম করেছিলেন। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে কোন নাগরিকই “সন্ত্রাসী” লিমনের উপযুক্ত বিচার দেখতে উৎসুক, তাতে কোন সন্দেহ নাই।

সভ্য দেশের নাগরিক হয়ে এখন পর্যন্ত আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পুলিশ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-রাষ্ট্র কখনো অবিচার করতে পারেনা। তারপরও ছোট্ট একটি জিজ্ঞাসা – নিতান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে যদি কখনো প্রমাণিত হয় লিমন নির্দোষ, তার সম্ভাব্য সর্বোচচ ক্ষতিপূরণ কী হবে ?

পাদটীকাঃ
পোস্টটি প্রকাশিত হবার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর এই পাদটীকা সংযুক্ত করতে হল। প্রকৃত অর্থে এই লেখাটি নিরীহ কিশোর লিমনের ওপর রাষ্ট্রীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি ব্যাঙ্গাত্বক প্রতিবাদ। অনেক পাঠক পুরো পোস্টটি না পড়ে অথবা না বুঝে এবং লিমনের প্রতি অকৃত্রিম সহানুভূতি থেকে আবেগপূর্ণ নেতি বাচক মন্তব্য করছেন। দয়া করে লেখাটির গূঢ়ার্থ অনুধাবন করে মন্তব্য করবেন।

নিচের লিংক ২ টি পড়লে লেখকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যেতে পারে।
লিংক ১
লিংক ২

***
ফিচার ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম [, , ]