ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

20160823_211808
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশ রিদমিক জিমন্যাস্ট মার্গারিতা মামুন রিও অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন। গর্বিত রাশিয়া। বাংলাদেশেরও সিনা টান দশ হাত !!! কতটা দাবি আছে প্রশ্ন অবান্তর। তবে উচ্ছ্বাস বাড়াবাড়ি রকমের। গণমাধ্যম গুলোর আদিখ্যেতায় যা মাত্রা ছাড়া। হয়তো দোষের কিছুনা তবে দৃষ্টিকটু। আবেগটাকে পাশ কাটালে অনেক কিছু ভাবার আছে এতে। বংশলতিকা ধরে গৌরব অন্বেষণে আমরা সম্ভবত সবার আগে। এতে আমাদের সামর্থ্যের দৈন্য প্রকাশ পায়। প্রকৃতপক্ষে আমাদের সামর্থ্যের অভাবের চাইতে মানসিক দীনতা প্রকট।

উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাষ্টার নিয়াজ মোরশেদকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে কতটা সহায়তা করেছে যে তিনি বিশ্বসেরাদের তালিকায় নাম লেখাতে পারলেন না। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া শ্যুটার আসিফকে রাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি রাইফেল পাওয়ার জন্য অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছিল। তবে শ্যুটিং ক্লাবে গাড়ি পার্কিং ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি কর্তৃক গুলশান থানার ভেতরে রাইফেলের বাঁটের আঘাতে শরীর থেঁতলাতে তাঁকে কোন কষ্ট (অপরাধ) করতে হয়নি। বিস্মৃতির অতল তলে হারিয়ে গেলেন কমনওয়েলথে একই আসরে স্বর্ণ এবং ব্রোঞ্জ ( বাংলাদেশের জন্য প্রথম কমনওয়েলথ পদক প্রাপ্তি ) জয়ী শ্যুটার “আব্দুস সাত্তার নিনি – আতিকুল জুটি”। আরও নজির আছে বলা বাহুল্য।

অজুহাত দেখানো হয় টাকার অভাব! যে কোন আন্তর্জাতিক আসরে খেলোয়াড়ের চাইতে ফেডারেশন বা ক্রীড়াসংস্থা গুলোর ভেড়ার পাল হর্তাকর্তাদের নির্লজ্জ আয়েশি ভ্রমণের জন্য অর্থ সংকট হয়না। কিন্তু ক্রিকেট আর ফুটবল ছাড়া অন্যান্য ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়দের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কৃপণতার মাশুল দিতে হয় হীনমন্য পুরো জাতিকে। আর হীন আত্মতুষ্টির ঢোলে মিডিয়া গুলোর অহরহ বাড়ি পড়ে – বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ‘অমুক মিস তমুক দেশ’ ‘অমুক তমুক দেশের পার্লামেন্ট মেম্বার’ ‘অমুক মার্কিন মুল্লুকের তমুক শহরের মেয়র’ ‘অমুক বিজ্ঞানী তমুক ক্ষেত্রে সফল’ হয়েছেন ইত্যাদি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বীকৃত “ Recent African Origin ” তত্ত্ব ধরে নিলে আধুনিক মনুষ্য প্রজাতি ( Homo sapiens sapiens )’র উৎপত্তি প্রাচীন আফ্রিকায় ( বিশেষতঃ পূর্ব আফ্রিকা ) যেখান থেকে সারা পৃথিবীতে কালক্রমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তো এর রেষ ধরে আফ্রিকার দেশ গুলি যদি দাবী করে তামাম দুনিয়ার সকল আসরের সমস্ত পদকের ভাগীদার তারাও, তবে পাগলের প্রলাপ ছাড়া কি হবে। মার্গারিতা এদেশে থাকলে কিছুই হতেন না নিশ্চিত। রিদমিক জিমন্যাস্ট এর প্রচলন এদেশে কতটুকু সবাই জানি। ওদিকে মার্গারিতা’র মা ও এজগতেরই সাবেক সফল ব্যাক্তিত্ব যা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বিচরণ এবং সাফল্যের প্রণোদনা।

 

বিশিষ্ট কাউকে লতাপাতায় নিজের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন বানাতে আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা সহজাত। রসিকজন বেরসিকের মত তখন বিশেষ ‘কেশ-শ্রেণী’ কে দড়ি নিমিত্ত করে বলে ওঠে “….লে ….লে গিরা (গিট্টু) দিয়া আর কত ! ”