ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

মাননীয় রেল মন্ত্রীকে ধন্যবাদ। ইদানিং বেশিরভাগ ট্রেনই সময়মত স্টেশন থেকে ছেড়ে যাচ্ছে৷ কিছুটা সময় এদিক সেদিক হয়, তা মেনে নেয়ার মত৷ রেল হচ্ছে গণমানুষের বাহন৷ বিশ্বের উন্নত দেশ গুলো তাদের প্রধান জনপরিবহন হিসেবে রেলকেই স্থাপন করেছে৷ এর অনেক কারণ রয়েছে৷ এই বাহন যেমন নিরাপদ, তেমনি স্বল্পব্যয়ে। অপরদিকে আমরা দিন দিন অযত্নে, অবহেলায় রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন ব্যবস্থাকে ঠেলে দিয়েছি ধ্বংসের মুখে৷ স্বাধীনতার পর আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য দিন দিন কমিয়ে ফেলেছি, অনেক স্টেশন বন্ধ করেছি৷ ’ গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ এর নাম করে রেলের কর্মীদের বিদায় করে দিয়েছি৷ বিভিন্ন সময় লোকসানের অপপ্রচার চালিয়েছি৷ যে ট্রেনের টিকেট ২/৩ দিন আগে থেকে বুকিং না দিলে পাওয়া যায় না, শত শত লোক সিট না পেয়ে দাড়িয়ে যাত্রা করে, সেই ট্রেন কি ভাবে লোকসান করে, তা সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা বুঝতে পারি না৷

বর্তমানে একজন ব্যক্তির (মাননীয় রেল মন্ত্রীর) সদিচ্ছায় যদি সময়মত অধিকাংশ ট্রেন সময়মত চলাচল করতে পারে, তাহলে এতদিন তা কেন সম্ভব হয়নি? আমাদের মনে সন্দেহ জাগে৷ তবে কি এতদিন ট্রেন দেরিতে ছাড়া হত ইচ্ছাকৃত ভাবেই? আমাদের সন্দেহ হয়, বেসরকারী পরিবহন মালিকরা রেলের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে তথা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের প্রভাবিত করে রেলের এরূপ হাল বানিয়েছেন। তাদের ফাঁদে পা দিয়েছে৷ এর ফলে একদিকে যেমন রেলের বেহাল অবস্থা হয়েছে, তেমনি জনগণ ও সরকার বেসরকারী পরিবহন মালিকদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে ৷ সরকার ও জনগণ এখন পরিবহন মালিকদের কাছে জিম্মি। তারা ইচ্ছামত তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা এখন লাগামহীন। তাদের কোন প্রতিপক্ষ নেই৷ অথচ সরকার যদি রেলকে দিন দিন উন্নতির পথে নিয়ে যেত, তাহলে জনগণ আজ যেমন কম খরচে যাতায়াত করতে পারত, তেমনি পরিবহন মালিকদেরও একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত রাখা যেত৷ তারাও বাধ্য হয়ে তাদের সেবার মান উন্নত করত৷