ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ banglanews24 এ এই খবর পড়লাম৷ এটি বাংলাদেশ পুলিশের দূর্নীতির কোন বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়৷ প্রতিনিয়তই সারা দেশে এরূপ পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছে নিরীহ জনগণ৷ খবরে প্রকাশ, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার এক এস. আই ও ও. সি’র বিরুদ্ধে আদালত নিজ থেকেই একটি অভিযোগ প্রস্তুত করে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য একই থানায় পাঠিয়েছেন৷ সেই সাথে মামলার ঘটনার বিষয়ে দুদক কর্তৃক তদন্ত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন৷ ঐ থানার সংশ্লিষ্ট এস. আই একটি মামলায় ফজলুর রহমান নামক এক ব্যক্তিকে সন্দেহবশত গ্রেফতার করেন৷ তাকে আদালতে চালান দেয়ার সময় তিনি আসামী ফজলুর রহমানের ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ করেন যে, ফজলুর রহমান অপর একটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী৷ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফজলুর রহমান উক্ত অপর মামলাটির ভিকটিমের গর্দানে কোপ মেরেছে৷ আদালত উক্ত বিষয় যাচাই করার জন্য উক্ত অপর মামলার নথি যাচাই করে দেখতে পান যে, ঐ মামলার এজাহারে আসামী ফজলুর রহমানের নাম নেই৷ সে ভিকটিমের গর্দানে কোপ মেরেছে মর্মে কোন বক্তব্যও এজাহারে ছিল না৷ আসামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য আদালতে দাখিল করার জন্য আদালত উক্ত এস.আই এবং সংশ্লিষ্ট থানার ও. িস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রস্তুত করেন৷

খবরের শেষে বলা হয়েছে যে, উক্ত ফজলুর রহমানের স্ত্রী ২০১১ সালে ঘোড়াঘাট থানার কতিপয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন৷

একজন নাগরিককে হয়রানির উদ্দেশ্যে এরূপ একটি অস্তিত্বহীন তথ্য বর্ণনা করা কোন নতুন বিষয় নয়৷ ইতোপূর্বেও আমরা এরকম উদাহরণ অনেক দেখেছি৷ পুলিশ এরূপ মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে নিরপরাধ ব্যাক্তিদের গ্রেফতার করবে৷ অপরদিকে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাবে ধরাছোয়ার বাইরে৷ এটা অত্যন্ত ঘৃন্য অপরাধ৷ এরূপ কার্যের ফলে জনগণের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়৷ উপরন্তু কোন আসামিকে জামিন দেয়া উচিত এবং কোন আসামিকে হাজতে আটক রাখা উচিত, সে বিষয়ে গুরুত্ব নিরুপণ করা আদালতের কঠিন হয়ে দাড়ায়৷ পুলিশের এরূপ কর্মকান্ডের কারণেই আদালত পুলিশ কর্তৃক ধৃত কোন ব্যাক্তিকে আটক রাখতে আস্থা পান না৷ কারণ শত অপরাধী ছাড়া পেলেও যেন একজন নিরপরাধ ব্যাক্তি সাজা না পায়৷ অথচ প্রায়ই দেখা যায়, অপরাধ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পুলিশ আসামীদের জামিনকে দোষারোপ করে৷