ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

৪.
কলেজ জীবনে চলতে গিয়ে অনেক কিছুই খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হলাম।
এক. শুধু বাবার পরিচয় দিয়ে সবসময় পার পাওয়া যায়না। নিজের নাম, নিজের যোগ্যতাও লাগে।
দুই. “তদবিরে তকদির মেলে।” অর্থাৎ তোমার নসিবে আল্লাহ পাক যা লিখে রেখেছেন তা হাসিল করবার জন্য তোমাকে কাজ করতে হবে।

উপরের কথাটা আমি আমার স্বল্প জীবন দিয়ে অনুধাবন করতে পারি। আর নিচের কথাটা আমার বাবার।
আল্লাহর রহমতে আমার বাবাকে শহরের ৮/১০ টা মানুষ চেনে। কিন্তু বাইরে নিশ্চয়ই আমাকে দেখে আগেই কেউ চিনবেনা আমি কার মেয়ে। অতএব নিজের নামকে প্রতিষ্ঠা করা খুব দরকার ছিল আমার কাছে।
আপনি আপনার নামকে দুই ভাবে ব্রান্ড করতে পারেন । হয়ত খ্যাত, নয়তবা কুখ্যাত। আর আল্লাহর রহমতে আমার নাম খ্যাতই ছিল।
আপনার বিনয় আচরন আর স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া যে আপনার মনোভাব কি.. আপনার চলার পথটাতে মসৃন করে দিতে পারে। আপনার বিনয় আচরন যে কারোর মনে দাগ কাটতে বাধ্য। আর যদি আপনি আপনার শালীন আচরন বজায় রাখুন তো অভদ্র কোন ব্যক্তির সাহস হবে না আপনার সাথে অভদ্রতা করবার। আর নিজেকে নিজে প্রথমে শ্রদ্ধা, এবং শক্ত মনের মানুষ হিসাবে ভাবুন। তো দেখবেন, মানুষ আপনাকে সম্মান করছেন। কারন যে নিজের মান রাখেনা, অন্য কেউই তার মান রাখেনা।
যেটা আমি আমার জীবনে তা খুব ভাল ভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম।

আমি বিশ্বাস করি, মানুষ তার কর্ম না করলে কোন ফলও পাবেনা। আপনি পরিশ্রম করবেন আর তার কোন ফল পাবেন না। এ বিশ্বাস যোগ্য নয়। কোন কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে হবে। যা দরকার। আপনার লক্ষ্য কি তাই যদি স্পষ্ট না হয় আপনার কাছে তো সব কাজই আপনার কাছে আবছায়া, ধোয়াচ্ছন্নই লাগবে।

৫.
আমি একটা চরম ভুল করি। তা হচ্ছে নিজের স্বাস্থের প্রতি কোন খেয়াল না দেয়া। পড়ালেখা অনেক শ্রমের ব্যাপার। এতে প্রচুর এনার্জি ক্ষয় হয়। আমি এত পরিশ্রম করতাম যেমন: সকাল ৬ টায় উঠে পড়তে বসা, তারপর কলেজ, কোচিং, টিউটর, আবার পড়া, রাত ১/২ পর্যন্ত জেগে নোট করা। ভাল কোন দোষ নেই এতে। কিন্তু ভুল ছিল আমি ঠিকমত খাবার খেতামনা। দিনশেষে রাতে ভাত খেতাম। এমনও রেকর্ড আছে,পুরো একদিন পর ভাত খেতাম।
কাজেই যা হবার তাই হলো, ব্লাডে ইএসআর বেড়ে যায়, স্বাস্থ্য খুব দ্রুত খারাপ হতে থাকে, এনার্জি লেবেল প্রচুর লো হয়ে যায়। হাত, পায়ে প্রচন্ড ব্যথা।
অতএব, পড়ালেখার পাশাপাশি যে, খাবার ঠিকমত খাওয়া কতটা জরুরী তা হারে হারেই টের পেলাম।