ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

৬.
কোচিং এর সময়গুলোকে প্রচন্ড প্রচন্ড মিস্ করি। কেননা সেই ২ বছরই হচ্ছে আমার শিক্ষার্থী জীবনের সবচাইতে মজার, আনন্দঘন মুহুর্তগুলি। কখনো কখনো দেখা যায়, নির্জন দুপুরবেলা, কোলের উপর মেলে রাখা বইয়ের পাতা থেকে মন হটাৎই চলে যায় সেই দুপুরবেলাগুলোতে।
মন থেকে হটাৎই চলে আসে কবি গুরুর সেই গানের লাইনগুলো….
“দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়…..রইলনা, রইলনা। মোর নানান রঙের দিনগুলি।”
দিনগুলি আর ফিরে পাবোনা। স্মৃতির পাতায় যা শুধু লেখা হয়ে আছে। আর একান্ত নির্জন, নিঃসঙ্গ অবস্থায় যা শুধু মনে পরে।

কোচিং এই পরিচয় হয় আমার সবচাইতে কাছের বন্ধুটির সাথে, দিশা সাহা। আমার দেখা আজ পর্যন্ত অসম্ভব সুন্দর, মাধুর্য্যময়, মিষ্টি কন্ঠের নজরুল গায়িকা। দুজনার বন্ধুত্ব খুব দ্রুতই হয়ে যায়, যদিও প্রথম প্রথম না আমাকে ওর ভাল লাগত আর না ওকে আমার। কেউ এর আগে কখনোই কারোর সাথে কথা বলিনি। কিন্তু তারপরও দুজন দুজনের সম্পর্কে খুব একটা ভাল ধারনা করতে পারতামনা। এখন সেসব মনে পরলে খুব মজাই লাগে।

৭.
এই কলেজ সময়টা এত অল্পের অথচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষকরা বলতেন “ফার্ষ্ট ইয়ার, ড্যাম কেয়ার”। আর এই স্রোতে গা ভাসালে পরবর্তীতে অনকে বড় ধরা খেতে হয়। সত্যিই কিন্তু তাই।
আমাকে ক্লাসে, কমনরুম অথবা লাইব্রেরীতে পাওয়া যেত। পড়ার দিকেতো তখন আবার অনেক মনযোগী আমি। কিন্তু দেখা যেত, কলেজের পরীক্ষার জন্য ভাল প্রিপারেশন নেবার পরও রেজাল্ট ভাল নয়। কেন??
কারন বুঝতে পারি, অনেক পরে।
আর তা হলো………….

৮.
আমাদের কলেজের কিছু শিক্ষকরা মিলিতভাবে একটা কোচিং চালায় আর যারাই তাদের স্টুডেন্ট, তাদের আগেই কলেজ টেষ্ট এর প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়ে যেত। যার দরুন তাদের সাথে কম্পিটিশনে আমরা, সাধারনরা পেরে উঠতে পারতামনা। আর আমি তাঁদের এই কর্ম ফাঁস করবার কাজে নেমে যাই। সেইসময়টাতে আমি একটা বড় ধাক্কা খাই। কেননা, আমার দেখা এমন কিছু স্যার ছিলেন, যাদেরকে শ্রদ্ধা করতাম অনেক অনেক বেশী। কিন্তু তারাই যে, শুধুমাত্র “ফেম” এর কারণে আমাদের মত স্টুডেন্টদের ঠকাতে পারে তা যেন কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। এরপর আরোও অনেক কথা তাদের সম্পর্কে জানতে পারি যেমনটা, কোন কোন স্টুডেন্টদের বাধ্য করা তাদের কোচিং এ ভর্তি হবার জন্য। অনথ্যায় পরীক্ষাতে নম্বর কম দেবার ভয় দেখানো। সবচাইতে কষ্ট পেয়েছিলাম এক স্যারের ভয়ংকর কীর্তিকলাপ শুনে। পাঠক/পাঠিকারা বুঝতেই পারবেন কী ঘটিত ব্যাপার হতে পারে!!

উনি আবার সমাজে অনেক ভদ্র লোক হিসাবে পরিচিত। আমার মত কনজারভেটিভ পরিবারের একটি মেয়ের কাছে ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে যে হ্যাঁ, বাস্তবেই সমাজে কিছু মানষরুপী পশু আছে। শুধু তাই নয়, তারা লুকিয়ে থাকে এত ভদ্র, সভ্য লেবাসে যে বুঝবার কোন উপায়ই থাকেনা যে প্রকৃতপক্ষে তারা কতটুকু নোংরা, আর ঘৃণিত হতে পারে।

তাদের বিরুদ্ধে করবার বা বলবার কিছুই ছিলনা। শুধুমাত্র সঙ্গী-সাথীদের সাবধান করা ব্যতীত।
তখন সেই সময়টাতে খুব খারাপ লাগছিল। সেই বাস্তব নোংরা সত্যটা সত্যিই অনেক কষ্টকর ছিল আমার পক্ষে মেনে নেয়া। কোনভাবেই মানতে পারছিলামনা যে, কেন শিক্ষকের লেবাসে! যারা কিনা সমাজে সবচাইতে সম্মানিত ব্যক্তি। এমনকি আমাদের ধর্মেও মা/বাবার পর শিক্ষকের স্থান। সেখানে কেন এই কদর্য, নোংরা আচরন!!