ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

“গুপ্তচর এক রাজকন্যা”কে খুঁজতে গিয়ে, নিজেকেই বলতে হলো, “কেন তারে এতদিন জানিনি সখা, দেখিনি সখা!!!”

“তুফানি এক সমুদ্রে এক মৎসকন্যা ভাসিয়েছেল তার জাহাজ
সমুদ্রের গভীরে সে যত যায়
দামাল ঢেউ তার চারপাশে আনন্দে পাক খায়।
কারণ, তার জাহাজে জ্বলছিল এক পিদিম
যার মিঠে রোশনাই পড়ত যার চোখে
উল্লাসে তার হৃদয় উঠত মেতে এক পলকে। ”

নুরউন্নিসা ইনায়েত খান (১৪ বছর)
দি ল্যাম্প অফ জয়

নুর ইনায়েত খান (নুরউন্নিসা-‘নারীত্বের আলো’), বাবা হজরত ইনায়েত খান, এক ভারতীয় সুফী যাজক, মা ওরা রে বেকার, পরবর্তীতে নাম পাল্টে হয় আমিনা সারদা বেগম, এক পরমাসুন্দরী মার্কিন মহিলা। ভাই-বোন হচ্ছে, বিলায়েত, হিদায়েত এবং ক্লেয়ার।
নুর ছিলেন টিপু সুলতানের বংশধর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এসওই এর গুপ্তচরের ভূমিকায় ছিলেন, পরবর্তীতে যার গন্তব্যের পরিসমাপ্তি ঘটে নাতসিদের দাখোউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, যা অ্যাডলফ হিটলারের জমানায় তৈরি হওয়া প্রথম কনসেনট্রেশন ক্যাম্প। মিউনিখে খোদ হিটলারের ঘাঁটির কাছে অবস্থিত এই কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বহুসংখ্যক ইহুদি, জিপসি এবং যুদ্ধবন্দিকে হত্যা করা হয়। এখানে একটা তথ্য দিয়ে রাখি, দাখোউর এর ক্যাম্পের ফটকে খোদাই আছে, “অরবেইট মাকত ফ্রেই” যার বাংলা দাঁড়ায় “কর্মই তোমাদের মুক্তি দেবে“, চমৎকার এক রূঢ় পরিহাস।

 

নুর ইনায়েতের জীবনী আরোও ক’জন লিখেছেন, তবে শ্রাবণী বসুর ঘাটাঘাটি অসাধারণ এক কথায়। যতটুকু তথ্য দেয়া সম্ভব দিয়েছেন। মোদ্দা কথা “নূর” কে, কেমনই বা ছিলেন তিনি, তা বোঝবার জন্যে যথেষ্ট।

ছোট্ট করে শ্রাবণী বসুর কথা…“শ্রাবণী বসু আনন্দবাজার পত্রিকা সংস্থার লন্ডনের সংবাদদাতা এবং টেলিগ্রাফ ও অন্যান্য পত্রপত্রিকায় লেখেন। লিখেছেন কারি: দি স্টোরি অফ দি নেশন’স ফেভারিট ডিশ। সপরিবারে লন্ডনে বাস করেন।”
বইটির অনুবাদ হাতে পেয়েছিলাম, অনুবাদক: পুষ্পল গঙ্গোপাধ্যায়। মূল বইটির নাম: “Spy Princess: The Life of Noor Inayat Khan”

লেখিকার নিজের অনুভূতি থেকে কিছু তুলছি-

“পাঠকের প্রতিক্রিয়ায় আমি অভিভূত। ২০০৬ সালে বইটি প্রকাশিত হয় এবং পাঠকদের মননে গভীর রেখাপাত করে। ২০০৬ সালেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নূরকে সম্মান জানানো হয়। সুরেনে যে বাড়িতে নূরের ছেলেবেলা কেটেছে, সেটি ঘুরে দেখেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “নূরের সাহসিকতা এবং ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।” ভারতীয় বংশোদ্ভুত হলেও এই প্রথম ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় প্রয়াত নূর ইনায়েত খানকে। তাঁকে ঘিরে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি গানের সিডি, একটি নাটক, কয়েকটি নৃত্যনাট্য। একটি আন্তর্জাতিক ছবিরও তোড়জোড় চলছে।”

নুর একাধারে ছিলেন ভারতীয়, ফরাসাী এবং ইংরেজ। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত বা ইংল্যান্ডের তুলনায় নূর ফ্রান্সেই বেশি পরিচিত। ফ্রান্সে তিনি পান বীরাঙ্গনার সম্মান। সে দেশে তাঁকে চেনে ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলনের ‘মাদলিন’ হিসাবে।
নুরকে জানতে গিয়ে আরোও একজনকে জানা হলো, নুরের পিতা ইনায়েত খানকে। উনার শিক্ষক সৈয়দ আবু হাশেম তাঁকে পশ্চিমে সুফি ধর্ম প্রচারের নির্দেশ দেন, যার জন্যে ভারত ছাড়েন ইনায়েত খান।
লেখিকা ইনায়েত খান সম্পর্কেও অনেক তথ্য তুলে ধরেন, তুলে ধরেন তার সুফি ধর্ম প্রচারের কার্যক্রম, উঠে আসে মৌলা বক্শ, সের্গেই টলস্টয় (লিও টলস্টয় এর পুত্র) আরোও অনেকের কথা। পিতার সম্পর্কে তাঁর সন্তানদের মনোভাব ফুটে উঠে এইভাবে…
“একদিন উত্তেজিত নুর বিলায়েতকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুমি কি কখনও আব্বার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছ?’ বিলায়েত দেখেছিলেন, বাবাকে ধ্যানস্থ অবস্থায় দেখার পর নুরের চোখে ফুটে উঠত বিন্দু বিন্দু অশ্রু।”

“আব্বার ভালবাসা যখন তোমাদের সঙ্গে রয়েছে, তখন ভয় কিসের?’ বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নুরকে সাহস ও সান্ত্বনা জুগিয়েছে তাঁর প্রিয় আব্বার এই কথা। এমনকী জার্মান জেলে যখন তাঁর উপর চলেছে অকথ্য অত্যাচার, তখনও বাবার বলা কথার মধ্যেই সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি “

লেখিকা একে একে নুরের জীবন এর ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। বোঝা যায় কতটা দারুনভাবেই না উনি ঘেঁটেছেন নুরউন্নিসাকে। তুলে ধরেছেন পিতার মৃত্যুর পর নুর ও তার পরিবারের সংগ্রাম, নুরের জীবনের মোড়গুলোকে করেছেন জীবন্ত, পাঠকদের সামনে।

১৯৪০ সালের ৪ জুন ফজল মনজিলে নুর ও তাঁর ভাই বিলায়েত নেয় এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যখন তাদের সেই ছোটবেলা থেকে সুফি ধর্মের প্রভাবে গড়ে তোলা অহিংস মনোভাব ধাক্কা খায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াল আর্তনাদের সঙ্গে।
যখন বিলায়েত তার বোনের কাছে প্রশ্ন ছোঁড়ে…

“অশুভ শক্তিকে প্রতিহত না করে কীভাবে আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা ভাববে? নাতসিদের দৌরাত্ম্য দেখেও কি হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায়?….অহিংসার দোহাই দিয়ে সেই দুস্কৃতীকে হত্যা না করলে তার হাতে নিহত হবে নিরীহ মানুষ। সেক্ষেত্রে তুমি কি তাদের মৃত্যুর জন্যে দায়ী হবে না?”

তারপর যাত্রা শুরু সংগ্রামের দিকে…..

ডব্লিউএএফ-এর সাথে সাক্ষাতকারের কিছু খন্ডচিত্র- যখন ভারতীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়…

“নিজেদের রক্ষার দায়িত্ব নিজেদের হাতেই তুলে নিক ভারতীয়রা”

যে সময়টায় ভারত প্রসঙ্গে ব্রিটেন ছিল প্রচন্ড স্পর্শকাতর, সেই সময়টাতে এহেন মতবিরুদ্ধ বক্তব্য তাঁর দৃঢ়চেতনাকেই প্রকাশ করে। স্পষ্ট করেই বলেন, জার্মানের বিরুদ্ধে ব্রিটেন তাঁর পূর্ণ সহায়তা পাবে কিন্তু যুদ্ধের পর ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে নিজের অবস্থান খতিয়ে দেখবেন। তাঁর নির্ভীক উত্তর টিপু সুলতানের যোগ্য উত্তরসূরী হওয়ার প্রমাণও।

লেখিকার ঘাঁটাঘাটি অসাধারণ, আবারও বললে বাধ্য হচ্ছি। এসওই (স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভস) এর কাজ কেমন ছিল, কিভাবে গোয়েন্দা বিভাগগুলো তথ্য সংগ্রহ, প্রচার করত, তাদের সাংকেতিক বাক্যগুলো কেমন হত, সিকিউরিটি কোড কেমন ছিল, তাদের অভিনব অস্ত্রগুলো যেমন, মরা ইঁদুরের দেহে বিস্ফোরক, কাঠের গুড়ির মধ্যে লুকিয়ে রাখা গোপন ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটার, পশুর বিষ্ঠার মধ্যেও লুকানো হতো বিস্ফোরক। আর এর জন্যে হাইড পার্ক থেকে সংগ্রহ করা হতো ঘোড়ার বিষ্ঠা। এসব কিছু সম্পর্কে মোটামুটি ভাল একটা ধারনা দিয়েছেন। পরবর্তীতে এসওই-এর কর্মকান্ড নিয়ে অনেক প্রশ্নও তোলা হয়, বলা হয় তাদের বোকামি এবং ঢিলেমির জন্যে মাসুল গুনে, জীবন দিয়ে নুরের মত আরোও অনেক এজেন্ট। যাক্ গে সেটা পাঠকদের নিজেদের ঘেঁটে দেখতে হবে।

নুর যেমন মানসিভাবে প্রচন্ড শক্ত একজন মেয়ে ছিলেন আবার তাঁর মনটাও ছিল প্রচন্ড রকমের কোমল। শ্রাবণী বসুর, নুরকে, তাঁর অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করার ইচ্ছে খুব স্পষ্ট করেই ফুটে উঠে নুরের প্রতিটি পদক্ষেপের বিবরনে। নুর তাঁর পরিবারে কাছে গোপন রেখেছিলেন, খুলে বলেনি তিনি যে কতটা সাংঘাতিক এক সংগ্রামের মাটিতে পা দিতে যাচ্ছেন যেখানে ছোট্ট একটি ভুলের একটাই মাসুল…মৃত্যু।
কিভাবে ফ্রান্সে আসেন, কিভাবে সেখানে তাঁর প্রশিক্ষণ চলে, কতটা অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে তৈরি হতে হয়, মানসিকভাবে ভীষণ একাকীত্ববোধ, প্রতিটা মুহূর্তে তাঁর মা কে অনুভব করা প্রায় সবকিছু্ই লেখিকা এতটা সুন্দর করে তুলে ধরেছেন…যে কখনও কখনও আমিও লেখিকার মতো হারিয়ে গিয়েছি নুরের জীবনের কাহিনীতে।

নুর ধরা পরে “রেনি গ্যারি” নামী এক বিশ্বাসঘাতকের কারনে তাও ঠিক ব্রিটেনে ফিরে আসার এক দিন আগে… ভাবা যায়! যখন ফিল্ডে প্রায় সব অপারেটরা ধরা পরেছে আর নয়ত ব্রিটেনে ফিরে গিয়েছে, নুর তখন একাই ফিল্ডে, দূর্দান্ত সাহসীকতার সাথে তাঁর কাজ একাই চালিয়ে যাচ্ছে। ধরা পড়ার পর প্রায় দু’বার নুর চেষ্টা করে পালাবার কিন্তু ভাগ্য আর সাথ দেয় নি। নিয়তি শেষ অবধি তাঁকে টেনে নিয়ে যায় সেই কনসেনট্রেশন ক্যাম্পেই।

গেস্টাপো আধিকারিক জোসেফ গেৎজ যখন ধরা পরে, জেরার মুখে স্বীকারোক্তিতে উঠে অাসে অনেক তথ্য। লেখিকার ভাষায়.

“বন্দিনী নুরের মানসিকতা তুবড়ে দিতে পারেনি জার্মানরা। রবার্ট ডাউলেন, গিলবার্ট র্নম্যানের মতো পোড়খাওয়া এজন্টেরা যেখানে অত্যাচার সইতে পারেন নি, সেখানে নিগ্রহ- অত্যাচারের মুখে নুর ছিলেন অবিচল। মনে মনে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার তারিফ করেন জার্মানরাও।”

১৯৪৯ সালে ৫ এপ্রিল মরণোত্তর জর্জ ক্রস সম্মানে ভূষিত হন নুর। এটিই ব্রিটেনের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। এই প্রশংসাপত্রটিকে লেখা আছে…

“ইংল্যান্ডের রাজার অসীম বদান্যতায় মরণোত্তর জর্জ ক্রস সম্মানে ভূষিত করা হলো অ্যাসিসট্যান্ট সেকশন অফিসার নোরা ইনায়েত খান কে…….প্রথম মহিলা অপারেটর হিসাবে নোরা শত্রু অধিকৃত ফ্রান্সে গোপনে প্রবেশ করেন।….ব্যাপক ধরপাকড়ের ধারা অব্যাহত থাকলেও তিনি নিজের রেডিও পোষ্টটি ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে অস্বীকার করেন। তাঁর পোষ্টটি সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক ছিল। তাঁর অবর্তমানে লন্ডনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগের সেতুই ছিলই না তাঁর ফরাসি সহকর্মীদের সামনে। সুতরাং তিনি তাঁদের ছেড়ে ফিরে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
গেস্টাপোর হাতে তাঁর চেহারার বর্ণনা ছিল, কিন্তু তারা তাঁকে মাদলিন হিসাবেই জানতেন। এটিই ছিল তাঁর সাংকেতিক নাম। তাঁকে আটক করতে নিজেদের যাবতীয় শক্তি উজাড় করে দেয় তারা।…প্রায় সাড়ে তিনমাস ধরে গেস্টাপোর সমস্ত অভিসন্ধিকে ব্যর্থ প্রমাণ করলেও, এক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে গেস্টাপোর কবলে পরেন তিনি।…….জার্মান পরিকল্পনা সফল করবার জন্যে তাঁর সহযোগিতা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু কোন তথ্য জানাতে সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি।….১৯৪৩ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে কার্লসরুহ জেলে পাঠনো হয়, সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ফর্ৎসহেইম জেলে।….অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অসহযোগী এক বন্দি হিসাবে গণ্য হন তিনি।…..গেস্টাপো অ্যাসিসট্যান্ট সেকশন অফিসার ইনায়েত খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি নিজের সহকর্মী বা গোপন উদ্দেশ্যের ব্যাপারে একটি কথাও বলেননি।….
১২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪ তারিখে তাঁকে অন্য তিন বন্দির সঙ্গে দাখোউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছোনোর পরপরই তাঁকে চুল্লির কাছে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অ্যাসিসট্যান্ট সেকশন অফিসার নোরা ইনায়েত খান শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার অবিস্মরণীয় উদাহরণ স্থাপন করেন। “

নোরা অথবা মাদলিন অথবা নুর…নুরউন্নিসাকে জানতে হলে শ্রাবণী বসুর এই বইটি এক মাস্টারপিস নিঃসন্দেহে। লেখিকার প্রতি অনিঃশ্বেষ শ্রদ্ধা, নুরকে আমার কাছে এতটা জীবন্ত করে তোলার জন্যে…লেখিকার লেখা দিয়ে শেষ করছি….

“সেপ্টেম্বর মাসের এক শীতল সকালে নাতসীদের নারকীয় এক ক্যাম্পের কাছে হাঁটু গেড়ে বসতে বলা হয় তাঁকে….শেষ হয়ে যায় তাঁর জীবন। মিত্রবাহিনীর হয়ে আত্মাহুতি দেন তিনি। দাখোউয়ের কালান্তক দহন চুল্লির মধ্যে মিশে রয়েছে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের চিতাভস্ম। মৃত্যুর এই বেদির কাছেই নুরকে হত্যা করা হয়। বর্তমানে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে এক সাধারণ অথচ নয়নাভিরাম বাগান। নিজের আত্মবলিদানের ফলাফল দেখে যেতে পারেন নি নুর। তবে নিঃসন্দেহে তিনি চেয়েছিলেন, পরবর্তী প্রজন্ম এক স্বাধীন পৃথিবীকে পাবে। দাখোউয়ের সেই বাগান স্বাধীন পৃথিবীর প্রতি নুরের অমর উপহারের সাক্ষ্য বহন করছে।”

মৃত্যুর আগে তাঁর উচ্চারিত শেষ কথাটি ছিল “লিবার্তে”…”মুক্তি”।