ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা……………..

বিজয় কি?….আন্দোলন, সংগ্রামের পর যে জয় পাওয়া। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, বাংলাদেশ নয়টি মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরই তার বিজয় অর্জন করে। রাতের আঁধারে চুপি চুপি পাওয়া স্বাধীনতা আমাদের নয়। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের দ্বারা, হাজারো স্বজনদের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন প্রাণহীন দেহের বদলে পাওয়া। কোন অবহেলায় পাওয়া এই স্বাধীনতা নয়, এই স্বাধীনতা আমাদের গর্ব, অহংকার।

হারানো অমূল্য হাজারো রতন………………

বিচক্ষণ ব্যক্তিরা বলে থাকেন, কোন দেশ বা জাতিকে খোঁড়া করে দিতে চাইলে তার সংস্কৃতি, তার লোকজ সম্পত্তি ধ্বংস করে দেয়া উচিৎ। জাতি আপনাতেই খোঁড়া হয়ে যায়, ধ্বসে পরে। আমাদের দেশেও ঠিক তেমনটিই হয়। হাজারো অমূল্য বুদ্ধিজীবিদের হারিয়ে খোঁড়া পায়ে দাঁড়ানো চেষ্টা চালায় সদ্য জন্ম নেয়া একটি দেশ, বাংলাদেশ। কিন্তু ইতিহাসের মীরজাফর, জগৎশেঠরা সর্বকালেই তাদের যোগ্য অনুসারীদের রেখে যায়। আমাদের ক্ষেত্রেও এর বিপরীত কিছু ঘটেনি। বন্য পশু, জংলীর ন্যায়, নিজেরাই নিজেদের মাংস খেয়েছি। ভয়াল কূটনীতির জালে জড়িয়ে হারিয়েছি বহু দেশপ্রেমিক নেতা। খোঁড়া পা, যে সবল পায়ের উপর তার ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারতো, তার উপরই চালানো শুরু করেছি ধারালো করাত। আজও চালিয়ে যাচ্ছি। মুখ থুবড়ে পরে যেতে বাকি নেই, যদি না এখনোই না থামাই।

বাংলার মাটির আগামী প্রজন্ম………………

এক শিশুকে দেখলাম, বছর ৪ হবে। বড় দরদ দিয়ে গাইবার চেষ্টা করছে, “একটি বাংলাদেশ, তুমি জাগ্রত জনতার..”, জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই গান কেন গাইছো, কে শিখিয়েছে। উত্তর বড় সুন্দর ছিল। “এটা দেশের গান, আমার বাবা শিখিয়েছেন। আমরা দুষ্টু লোকদের কাছ থেকে অনেক যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছি, আমাদের অনেক সাহস, আমরা টাইগার তাই।” চমৎকার ! এতটুকু শিশু মনে যে এটা দাগ কেটেছে, এটাই আমাদের সেই লাখো শহীদদের চাওয়া। কেননা, এরাই বড় হয়ে এক একজন হবে সেই মহান শহীদদের মত নির্ভীক, নেতা। বিজয়, স্বাধীনতা কি; তা যদি এই নতুন প্রজন্ম উপলব্ধিই না করে তো কিভাবে সম্ভব খোঁড়াকে সেবা-মমতা দিয়ে শক্ত করে দাঁড়াবার উপযুক্ত করা?

দেশাত্মকবোধ যেন ফ্যাশন না হয়…………..

আজকাল কিছু কিছু শিক্ষাঙ্গনে দেখা যায়, আমাদের দেশের বিশেষ দিনগুলি তার অনেক আড়ম্বর করেই পালন করে। এটা যে খারাপ বা নেতিবাচক কিছু তা নয়। কথা হচ্ছে এটা যেন ফ্যাশন না হয়ে যায়। নতুন প্রজন্মরা অনেক উৎসাহের সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে; কিন্তু দেখা যায় বেশিরভাগ সময়ই অংশগ্রহণকারী সন্তানের বাবা-মায়েরা ব্যস্ত ও চিন্তিত থাকে, তাদের সন্তান বাকি সবার থেকে ভালো করল কিনা, তাকে ভালো দেখাচেছ কিনা কিংবা তার সজ্জ্বায় সবার চেয়ে বেশি খরচ হলো কিনা। স্বাধীনতার গুরুত্ব কেনইবা এতো মর্হাঘ্য যার জন্য তাদের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এটা বোঝানোর জন্যে ১০টি মিনিট ব্যয় করবার সময়ই যেন এদের নেই। আর থাকলেও নিজেরা চিন্তা করে, “কিছু বলে তো লাভ নেই এরা তো কিছুই বুঝবেনা” বা “বোঝার বয়স হলে একাই বুঝবে।” আমার কথা আপনি আপনার শিশুটিকে যে সময় ব্যয় করে “ফ্যাশন” কি সেটা বোঝাচ্ছেন, সে সময়টাতে কষ্ট করে খেলাচ্ছলে কিংবা গল্পচ্ছলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কি সেটাও বোঝাতে পারবেন। “ফ্যাশন” অনুধাবন করতে পারলে এটা বড় কোন কঠিন বিষয় নয়।

কবিগুরুর একটি কথা এখানে বলা উচিৎ, যে সত্যিই “ফ্যাশনটা হচ্ছে মুখোশ; আর স্টাইল, মুখচ্ছবি।” আমাদের স্টাইল, আমরা বাংলাদেশি।

যেন ঝরে না পরে………

এবার ১৬ই ডিসেম্বরের প্যারেডে দেখলাম বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তাদের অংশগ্রহণের উৎসাহ চোখে পরার মত। সুসজ্জি্বত বেশকিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে, সজ্জ্বায় দেউলিয়াপনা; বলা চলে অবহেলার ছাপ স্পষ্ট এমন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও। অবাক করার বিষয় সেইসব বিদ্যালয় সরকারি। এখানে কিন্তু বেশভূষার কথা বলা হচ্ছেনা। বলা হচ্ছে যারা শিক্ষা প্রদান করছেন তাদের কথা। তাদের সম্বনয়ে নিদারুন অবহেলা আর দৈন্যতার কথা। মনে হলো যেন কোনরকমভাবে প্যারেডে এদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা, নিয়ে আসতে হবে বলে। কিন্ত সুসংগঠিত করবার কোন প্রয়াস এদের নেই।

একটি প্যারেডে অংশগ্রহণ মানেই, তাদের গোটা বিদ্যালয়টির অভিব্যক্তি উপস্থাপন করা হাজারো মানুষের সামনে। এমনটা কেন হবে? সুষ্ঠু সংগঠন বোঝায়, শিক্ষার পরিবেশ কেমন হবে তা। সুসংগঠন; অর্থের মাপকাঠিতে বিচার করা হয়না। বিচার করা হয়, সুশৃঙ্খলতা আর সুসম্বনয়ের দ্বারা। আর এক্ষেত্রে এই সুষ্ঠু নিয়মের অভাব সুস্পষ্ট, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রদানকারীদের মধ্যে।

এই শিশুফুলগুলি চোখের অগোচরে জন্ম নেয়, কিন্ত এরা যেন অবহেলায় ঝরে না পরে অন্তত এটাতো আমরা দেখতে পারি!!!